বিনোদন ডেস্ক : ভারতের আন্তর্জাতিক নাট্যোৎসবে প্রদর্শিত হতে যাচ্ছে ঢাকার প্রথম সারির নাটকের দল লোক নাট্যদলের আলোচিত প্রযোজনা ‘সোনাই মাধব’। ১৪ জানুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় কলকাতার সুদীপ ভট্টাচার্য্য মঞ্চে (বেহালা শরৎ সদন) প্রদর্শিত হবে নাটকটি। ময়মনসিংহ গীতিকা অবলম্বনে রচিত ‘সোনাই মাধব’ নাটকটির পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় রয়েছেন লিয়াকত আলী লাকী।
এস. বি. পার্ক সার্বজনীন আয়োজিত চারদিনব্যাপী এ উৎসবটি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় উদ্বোধন করবেন ঊষা গাঙ্গুলী। উৎসবে ভারত, বাংলাদেশ ও ব্রাজিলের একাধিক নাটক প্রদর্শিত হবে।
‘সোনাই মাধব’ নাটকের গল্পে দেখা যাবে, দশ বছর বয়সে রূপসী সোনাই পিতৃহারা হয়ে মাসহ মামা ভাটুক ঠাকুরের বাড়িতে আশ্রয় নেয়। দেখতে দেখতে সোনাই বারো বছরে পা রাখে। চারদিকে তার রূপের খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে, প্রতি মাসেই বিয়ের প্রস্তাব আসতে থাকে। কিন্তু সব মিলিয়ে পছন্দ না হওয়ায় মা ও মামা কোনো প্রস্তাবেই সম্মত হন না। একদিন মাধবের সঙ্গে নদীর তীরে সোনাইয়ের দৃষ্টি বিনিময় হয়। পরে পত্র বিনিময় তারপর প্রণয়।
কিন্তু বিধি বাম। দুর্জন বাঘরার মারফত সোনাইয়ের রূপ-গুণের খবর পেয়ে দেওয়ান ভাবনা ভাটুক ঠাকুরের কাছে সোনাইয়ের বিয়ের প্রস্তাব দেয়। সঙ্গে বায়ান্ন পুরা জমি ও অন্যান্য সম্পদ প্রদানের প্রলোভন। অতঃপর মামা যজমানী ব্রাহ্মণ রাজি হয়ে যায়। দেওয়ান ভাবনার চরেরা জলের ঘাট থেকে সোনাইকে তুলে নিয়ে যায়। পথে মাধবের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও যুদ্ধ হয়। মাধব দেওয়ান ভাবনার চর ও দাড়ী-মাঝিদের পরাজিত করে সোনাইকে উদ্ধার করে বিয়ে করে।
কিন্তু দেওয়ান ভাবনা ক্ষিপ্ত হয়ে মাধবের পিতাকে ধরে নিয়ে যায়। পিতাকে মুক্ত করতে গেলে দেওয়ান ভাবনা মাধবকে বন্দি করে তার পিতাকে মুক্ত করে দেয় এবং বলে, সোনাইকে ফেরত দিলে সে মাধবকেও ছেড়ে দিবে। একমাত্র পুত্র মাধবকে মুক্ত করে বংশরক্ষার প্রয়োজনে শ্বশুরের কথায় সোনাই দেওয়ান ভাবনার কাছে চলে যেতে রাজি হয়।
তারপর সোনাইকে পেয়ে দেওয়ান ভাবনা মাধবকে মুক্তি দেয়। কিন্তু গভীর রাতে দেওয়ান ভাবনা সোনাইয়ের সঙ্গে মিলনের আশায় ‘বারবাংলার’ ঘরে আসে। তারপর গল্প মোড় নেয় ভিন্ন দিকে।
নাটকটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করছেন রোকসানা আক্তার রূপসা, মো. জাহিদুল কবির লিটন, লিয়াকত আলী লাকী, আজমেরি এলাহী নীতি, উম্মে মরিয়ম রুমা ও কিশোয়ার জাহান, মো. রওশন হোসেন, সূচিত্রা রানী সূত্রধর, আব্দুল্লাহেল রাফি তালুকদার, শায়লা আহমেদ, মো. রওশন হোসেন, এম এ মোমিন, মো. সোহানুর রহমান সোহান, নাসরীন আক্তার টুকু, আফসানা দীপ্তি, প্রিয়তি এলাহী।
নাটকটিতে ব্যবহৃত গানের সুরারোপ করেছেন দীনেন্দ্র চৌধুরী ও লিয়াকত আলী লাকী। মঞ্চ পরিকল্পনায় লিয়াকত আলী লাকী, মঞ্চ ব্যবস্থাপনায় জাহাঙ্গীর রানা, শিশির কুমার রায়। আলোক পরিকল্পনায় সুজন মাহাবুব। মিউজিক পরিকল্পনায় ইয়াসমীন আলী, মো. নুরুজ্জামান বাদশা, এ.এফ.এম একরাম হোসেন, মো. মনিরুজ্জামান, মো.কবির হাসান।

