ঢাকাFriday , 10 November 2017
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বিনিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা করত বিদেশি চক্র

Link Copied!

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করার প্রলোভন দেখিয়ে বিশ্বাস স্থাপন ও পরে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে বাংলাদেশি অংশীদারের সঙ্গে প্রতারণা করত বিদেশি প্রতারক চক্র। তারা বাংলাদেশি অংশীদারদের কাছে নিজেদের এমনভাবে উপস্থাপন করত যেন তারা ওই দেশের বিশেষ কোনো ব্যক্তি।
র‌্যাবের অভিযানে আটক হওয়া প্রতারক চক্রের তিন বিদেশি সদস্য জিজ্ঞাসাবাদে এমন তথ্য দিয়েছে বলে জানিয়েছেন র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান।
শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মাহমুদ খান বলেন, জিয়া নামের এক বেসরকারি ব্যাংক কর্মকর্তার দেওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে কুয়াতে ফুতসু, আমেলিন মাওয়াবো ও এমবিদা একানি নামের এই তিনজনকে বৃহস্পতিবার আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে প্রায় ৬৫ লাখ টাকার সমপরিমাণ ইউরো ও বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়েছে। তারা ক্যামেরুনের নাগরিক।
র‌্যাব জানিয়েছে, আটক দুজনের কাছে বাংলাদেশে অবস্থানের কাগজ আছে।একজনের কাছে কোনো কাগজ পাওয়া যায়নি।
মাহমুদ খান বলেন, ‘গত একমাস আগে রজার্স নামে একজন নিজেকে জার্মানির নাগরিক দাবি করে জিয়াকে ফোন করে ১১ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করার কথা বলেন। এজন্য একজন খুব শিগগিরই বাংলাদেশে তার সঙ্গে দেখা করবেন। এর কয়েকদিন পর বোস্তাভো স্টিভস নামে জিয়াকে ফোন করে গুলশানের ওয়েস্টিন হোটেলে দেখা করতে বলেন ফুতসু। তারপর তাদের মধ্যে একাধিকবার বৈঠক হয় এবং কীভাবে টাকা দেশে আনবেন, কোন খাতে বিনিয়োগ করবেন এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।’
‘কয়েকদিন পর ফুতসু সিঙ্গাপুরে ব্যবসার কাজে যাচ্ছেন বলে জানান। তারপর সিঙ্গাপুর থেকে এসে আবার জিয়ার সঙ্গে দেখা করেন এবং আপাতত থাকা-খাওয়ার জন্য চার হাজার ডলার চান। জিয়াও এত বড় বিনিয়োগের লোভে তাকে চার হাজার ডলার দেন। বিভিন্ন সময় সে (ফুতসু) জিয়ার সঙ্গে দেখা করলেই ব্যস্ততা দেখাত এবং গাড়ি দেখিয়ে বলত রাষ্ট্রদূত গাড়ি পাঠিয়েছেন, তার সঙ্গে মিটিং আছে। এসব বিভিন্ন পন্থায় তার বিশ্বাস অর্জন করেন ফুতসু।’
‘এর কয়েকদিন পর ফুতসু ইউরোপে পাঠানোর জন্য আড়াই লাখ ইউরো চান জিয়ার কাছে। ডলারের বিনিময়ে ইউরো দেবেন এবং ২০ লাখ টাকা বেশি দেবেন বললে জিয়াও ইউরো জোগাড় করেন। ৩১ অক্টোবর রাতে ফুতসুকে নিজ বাসায় দাওয়াত দেন জিয়া। ফুতসু ও তার আরেক সহযোগী বাসায় যান এবং খাওয়া শেষে জিয়াকে ইউরোগুলো দেখাতে বলেন। জিয়া কাগজের প্যাকেটে মোড়ানো ইউরো দেখান। তখন তাদের মধ্যে একজন একটি তরল পদার্থের বোতল বের করেন এবং জিয়ার সামনে তা ফেলে দেন। এতে জিয়ার ওপর খানিক তরল লাগে যা থেকে ঝাঁঝালো গ্যাস বের হয়। এটি বিষাক্ত উল্লেখ করে তাকে ফ্রেশ হয়ে আসতে বলেন।’
‘জিয়া ফ্রেশ হতে ওয়াশরুমে গেলে কাগজের প্যাকেট থেকে ইউরো নিয়ে সেখানে সাদা কাগজ রেখে দেন ফুতসু। জিয়া বের হয়ে এলে তারা বলে, আজ ডলার আনেননি পরেরদিন এসে ডলার দিয়ে ইউরো নিয়ে যাবে। তখন তাদের ওইদিনের মতো বিদায় জানান জিয়া।’
‘পরের দিন ফুতসু জিয়াকে একবার ফোন করলেও তাকে আর ফোনে পাওয়া যায়নি। তখন জিয়ার সন্দেহ হতে থাকে এবং বাসায় গিয়ে দেখেন ইউরোর পরিবর্তে সেখানে সাদা কাগজের বান্ডেল। এভাবে লোভে পড়ে প্রায় আড়াই কোটি টাকার প্রতারণার স্বীকার হন তিনি।’
এ পর্যন্ত বিভিন্ন প্রতারণার দায়ে র‌্যাব দুই শতাধিক বিদেশিকে আটক করেছে জানিয়ে মুফতি মাহমুদ বলেন, এ অপরাধে অনেক সময় বিদেশিদের সহযোগী হিসেবে বাংলাদেশিরাও জড়িয়ে পড়েন। বৃহস্পতিবার আটক চক্রটির সঙ্গে কোনো বাংলাদেশি জড়িত কি-না বা আর কে আছেন তা খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আটক তিনজনের মধ্যে দুজনের পাসপোর্ট পাওয়া গেলেও একজনের কোনো ডকুমেন্টস পাওয়া যায়নি। বিনিয়োগের আশ্বাস প্রতারণার একটি মাত্র কৌশল। কিন্তু চক্রটি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কৌশলে লোকজনকে ফাঁদে ফেলে প্রতারণা করে থাকে।