ঢাকাFriday , 4 August 2017
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ডিসিসি’র মশা মারার যন্ত্র অর্ধেকই নষ্ট

Link Copied!

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের মশা মারার যন্ত্রগুলো অর্ধেকই অচল। নষ্ট হওয়া এসব মেশিন মেরামত করতে যন্ত্রাংশও পাওয়া যাচ্ছে না। বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা এই যন্ত্রের বেশিরভাগ নিম্নমানের। অভিযোগ রয়েছে, সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা বেশি দামে নিম্নমানের এই যন্ত্রগুলো কিনেছেন। ফলে ঠিক মতো কাজ করতে পারছেন না মশক নিধন কর্মীরা। দুই সিটি করপোরেশনের অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনে এমন চিত্র উঠে এসেছে।
গত ১৭ জুলাই তৈরি করা দক্ষিণ সিটির ওই প্রতিবেদনটিতে দেখা গেছে, মশার ওষুধ ছিটানোর জন্য সংস্থার ৯৪০টি মেশিন রয়েছে। এর মধ্যে ৪৪২টি হস্তচালিত, ৪৪৭টি ফগার ও ৫১টি হুইল ব্যারো মেশিন। ৪৪২টি হস্তচালিত মেশিনের মধ্যে ২০৮টি, ৪৪৭টি ফগার মেশিনের মধ্যে ১৮৬টি অচল ও ১৬টি অংশিক অচল এবং ৫১টি হুইল ব্যারো মেশিনের মধ্যে ১৮টি মেশিন অচল রয়েছে। সব মিলিয়ে তিন ধরনের ৯৪০টি মেশিনের মধ্যে ৪২৮টি মেশিনই অচল।
অন্যদিকে উত্তর সিটি করপোরেশন সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে মশা নিধনের জন্য সংস্থাটির ৬৫৩টি মেশিন রয়েছে। এরমধ্যে হস্তচালিত মেশিনের সংখ্যা ৩৮৭টি, ফগার মেশিন ২৫৫টি, হুইল ব্যারো মেশিন ১০টি এবং একটি ভ্যাহিক্যাল মাউন্টেড ফগার মেশিন । এই মেশিনগুলোরও অর্ধেকের মতো বিকল রয়েছে।
বেশি দামে আনা হয় নিম্নমানের এই যন্ত্র দুই সিটির স্বাস্থ্য বিভাগের মশক নিধন কর্মীদের মাধ্যমে পরিচালিত মেশিনগুলো মেরামতের জন্য বিভিন্ন সময়ে ভাণ্ডার বিভাগে চাহিদা দেওয়া হলেও কোনও প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না। তবে ভাণ্ডার বিভাগ বলছে, বিকল যন্ত্রগুলোর যন্ত্রাংশ পাওয়া যাচ্ছে না। তবে মেশিনগুলো সরবরাহের সঙ্গে জড়িত একজন ঠিকাদার বলেন, বিদেশি যে কোম্পানিগুলো থেকে মেশিনগুলো সংগ্রহ করা হয়েছে, সেসব কোম্পানির সঙ্গে সরাসরি, ওয়েব সাইটে কিংবা মেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করলে নষ্ট হওয়া যন্ত্রাংশগুলো পাওয়া যাবে। এতে কম খরচে মেশিনগুলো সচল করা যাবে। কিন্তু সংস্থার কর্মকর্তারা বিকল মেশিনগুলো বাদ দিয়ে নতুন করে আবার যন্ত্র কেনার পাঁয়তারা করছেন। কারণ নতুন করে মেশিন কিনলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া যাবে।
ক্ষোভ প্রকাশ করে সংস্থার স্বাস্থ্য বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, মেশিনগুলো ভাণ্ডার বিভাগের মাধ্যমে ক্রয় করা হয়েছে। আগে যেসব মেশিন ক্রয় করা হয়েছে, সেগুলো অনেক ভালো। একবার স্টার্ট করলে ৪০ মিনিটের ওপরে চলে। ওজনেও হালকা। স্প্রে কর্মীরা কাঁধে বহন করে সহজেই চলতে পারেন। কিন্তু এখনকার মেশিনগুলো ৫-৭ মিনিট পর গরম হয়ে বন্ধ হয়ে যায়। ওজনেও অনেক ভারী। দামও বেশি। কিছু দূর যেতে না যেতে কর্মীরা ক্লান্ত হয়ে পড়েন।এতে ওষুধ ও সময় দুটোই নষ্ট হচ্ছে। কর্মীরাও কাজে গতি পাচ্ছেন না।
চালু হওয়ার কিছুক্ষণ পরই গরম হয়ে মেশিনটি বন্ধ হয়ে যায়সাম্প্রতিক সময়ে নগরজুড়ে চিকুনগুনিয়ার পাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় কোমড় বেঁধে মশা মারতে মাঠে নেমেছে দুই সিটি করপোরেশন। এ রোগকে কেন্দ্র করে সিটি করপোরেশনের মশক নিধন কার্যক্রমও জোরদার করা হয়। বাড়ানো হয়েছে বাজেট বরাদ্দও। একই সঙ্গে নাগরিকদের সচেতনতা বাড়াতে লিফলেট বিতরণ, র‌্যালি, আলোচনা সভা ও মাইকিংসহ নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে, যা পালিত হয়। সেই সঙ্গে খোলা হয়েছে জরুরি তথ্যকেন্দ্রও। দেওয়া হচ্ছে ফ্রি চিকিৎসা ও ওষুধ সামগ্রী। কিন্তু আসল কাজটিই করা হচ্ছে না।
বৃহস্পতিবার (৩ আগস্ট) দুপুরে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সহযোগিতায় পুরনো ঢাকার সামাজিক সংগঠন অনির্বাণ যুব সংসদ আয়োজিত ‘চিকুনগুনিয়া ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে চাই জনসচেতনতা’ শীর্ষক এক কর্মসূচি পালিত হয়। এসময় সংস্থার প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. শেখ সালাহ্উদ্দীন স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে মশা নিধনের মধ্য দিয়ে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এতে ৩-৪ জন মশক নিধনকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় দেখা গেছে, বারবার চেষ্টা করেও একটি মেশিন চালু করা যাচ্ছে না। পরে ওই মেশিনটি রেখেই বাকি মেশিনগুলো দিয়ে কাজ করা হয়েছে। তাতেও ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়েছে কর্মীদের। মেশিনগুলো চালু করার মাত্র কয়েক মিনিটের মাথায় গরম হয়ে বন্ধ হয়ে যায়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএসসিসি’র প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. শেখ সালাহ্উদ্দীন বলেন, ‘এটা যান্ত্রিক জিনিস। নষ্ট তো হতেই পারে। অর্ধেকের মতো মেশিন নষ্ট হয়ে গেছে। এখন আবার মেশিন কিনবো। এখনও ২৫০টির মতো মেশিন সচল রয়েছে। এগুলো দিয়ে কাজ চলছে।’