
থানা থেকে নিখোঁজ মোখলেসুর রহমান জনি (ফাইল ছবি)
নিজস্ব প্রতিবেদক : সাতক্ষীরা সদর থানা থেকে ‘নিখোঁজ’ হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক শেখ মোখলেছুর রহমান জনিকে পুনরায় তদন্তের মাধ্যমে খুঁজে বের করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এই তদন্তের জন্য পুলিশের মহাপরিচালক (আইজিপি) কর্তৃক পুলিশ ইনভেস্টিগেশন ব্যুরোকে (পিবিআই) নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
রবিবার এক আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি কাজী রেজা উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মাদ উল্লাহের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন রিটকারী আইনজীবী মতিউর রহমান। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যটর্নি জেনারেল তাপস কুমার বিশ্বাস।
আদালত বলেন, এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে তিনি দ্বিধান্বিত। মামলার তদন্তকারী ম্যাজিস্ট্রেট নিজেই বলেছেন, তদন্তের সময় তিনি পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের পূর্ণ সহযোগিতা পাননি। তাই তদন্তও তিনি পুরোপুরি শেষ করতে পারেননি। সুতরাং পুনরায় তদন্তের জন্য নির্দেশ দেওয়া হলো। পাশাপাশি আগামী ৩ অক্টোবর এই তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতেও নির্দেশ দেওয়া হলো।
গত বছর ৪ আগস্ট সাতক্ষীরার কুকড়ালি গ্রাম থেকে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক শেখ মোখলেছুর রহমান জনিকে বিনা অভিযোগে আটক করে পুলিশ। ৫, ৬ ও ৭ তারিখ জনিকে থানায় জনিকে খাবার দিয়ে আসে তার মা ও স্ত্রী । কিন্তু ৮ আগস্ট থেকে তার কোনও খোঁজ নেই তার।
জনির স্ত্রী জেসমিন নাহার থানা থেকে তার স্বামীর নিখোঁজের বিষয়ে জানতে চাইলে সাতক্ষীরা সদর থানার পুলিশ কর্মকর্তারা জানায়, জনি থানায় নেই, সে কোথায় আছে জানি না। একইসঙ্গে এ বিষয়ে বাড়াবাড়ি না করতে জনির স্ত্রীকে হুমকি দেয় থানার এক কর্মকর্তা।
৮ আগস্ট থেকে জনির আর কোনও খোঁজ পাওয়া না তার পরিবার। এমনকি জনির নিখোঁজের বিষয়ে কোনও জিডি বা মামলাও নেয়নি পুলিশ।
জনির স্ত্রী স্বামীর খোঁজ করতে পুলিশের মহাপরিদর্শক,পুলিশ সুপার, পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি,ডিজিএফআই (গোয়েন্দা বিভাগ),খুলনা রেঞ্জের ডিআইজির কাছে আবেদন করেও কোনো সদুত্ত্বর পাননি। তাই সব শেষে দ্বারস্ত হন হাইকোর্টের।
১৯ মার্চ হাইকোর্টে এ সংশ্লিষ্ট একটি রিটের শুনানি শেষে আদালত চার সপ্তাহের মধ্যে সাতক্ষিরা সদর থানার ওসি এবং এসপিকে মোখলেছুর রহমান জনিকে খুঁজে বের করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

