স্পোর্টস ডেস্ক : ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার (সিএ) প্রস্তাবিত বেতন কাঠামো অনেক আগেই প্রত্যাখান করেছে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটাররা। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে নতুন বেতন চুক্তিতে স্বাক্ষর করেনি অস্ট্রেলিয়ার ২৩০ পেশাদার ক্রিকেটার। ৩০ জুন ছিল বেতন চুক্তি নবায়নের শেষ দিন।
কিন্তু শুক্রবার রাত পর্যন্ত কোনো ক্রিকেটার চুক্তিতে স্বাক্ষর করেনি, নিশ্চিত করেছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। চুক্তিতে স্বাক্ষর না করায় আজ থেকে এক অর্থে ‘বেকার’ স্টিভ স্মিথ, ডেডিভ ওয়ার্নার, শেন ওয়াটসনরা। জুলাই মাস থেকে তাদের ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে জমা হবে না কোনো অর্থও। এতেও ‘খুশি’ ক্রিকেটাররা। ক্রিকেটারদের মুখপাত্র পেসার জস হ্যাজেলউড গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘বেতন না পেলে ক্ষতি নেই। বেকার থাকলেও আমরা খুশি। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রস্তাব মেনে খেলা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। এর থেকে বেতন না নিয়ে খেলাও ভালো।’
তারকা এ পেসারের কথায় মিল পাওয়া গেল ক্রিকেটারদের সিদ্ধান্তে। চলতি মাসেই দক্ষিণ আফ্রিকা সফর করবে অস্ট্রেলিয়া ‘এ’ দল। দলটিতে রয়েছেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের মতো তারকা ক্রিকেটার। ‘এ’ দলের ক্রিকেটাররা নিয়মিত অনুশীলন করবে এবং সফরে অংশ নেবে। চুক্তি না করলেও খেলা বয়কট করছেন না ক্রিকেটাররা। তবে জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা ও ঘরোয়া ক্রিকেটের খেলোয়াড়রা কি করবে তা এখনও নিশ্চিত নয়। অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের পরবর্তী অ্যাসাইনমেন্ট বাংলাদেশ সফর। এরপর ভারত সফর ও এরপর খেলবে অ্যাশেজ সিরিজ। জাতীয় দলের সিরিজ বয়কট হতে পারে তা এর আগে জানিয়েছেন ডেভিড ওয়ার্নার।
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়াও নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড়। সাফ বলে দিয়েছেন, চুক্তিতে স্বাক্ষর না করলে দেশের বাইরে কোনো টুর্নামেন্টে অংশ নিতে পারবেন না ক্রিকেটাররা, দেওয়া হবে না এনওসি। এনওসি বাদে টুর্নামেন্টে অংশ নিলে ছয় মাস সকল ধরণের ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ হবেন ক্রিকেটাররা। ক্রিকেটারদের বেতন বাবদ প্রতি ১৫ দিনে ১২ লাখ ডলার খরচ হতো ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার। চুক্তি না করা পর্যন্ত এ অর্থ ন্যাশনাল কমিউনিটি ফ্যাসিলিটিজ ফান্ডিং স্কিমে দিবে বোর্ড। তৃণমূলের ক্লাব ও সংগঠনগুলোকে এ অর্থ দিবে ক্রিকেট উন্নয়নের জন্য।
বেতন কাঠামো নিয়ে দুই পক্ষ এক বিন্দুতে আসতে পারলেও লভ্যাংশের আর্থিক বন্টনের প্রস্তাব নিয়ে খুশি নন ক্রিকেটাররা। আগে সিএর লভ্যাংশের ২৫ শতাংশ অর্থ পেতেন চুক্তিতে থাকা ক্রিকেটাররা। কিন্তু এখন নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী জাতীয় দলের ক্রিকেটাররাই (১৭ পুরুষ ও ২ নারী) পাবে সেই অর্থ। কিন্তু ক্রিকেটারদের দাবি, লভাংশের ২৫ শতাংশ অর্থ সকল ক্রিকেটারদের দিতে হবে। পাশাপাশি অন্যান্য ক্রিকেটারদের মতো জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের বেতন বাড়বে নির্দিষ্ট হারে। ২০২২ সাল নাগাদ মোট ৪৯৯ মিলিয়ন ডলার বেতন পাবেন ক্রিকেটারা। এখন পাচ্ছেন ৩১১ মিলিয়ন ডলার।

