ঢাকাSunday , 25 June 2017
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সীমানা পুনর্নিধারণ ও আইন সংস্কারে পরামর্শক নিয়োগ দেবে ইসি

Link Copied!

নিজস্ব প্রতিবেদক : আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী আসনের পুনর্বিন্যাস ও আইন, বিধিতে পরিবর্তন আনার জন্য দেশি-বিদেশি পরামর্শক নিয়োগ দেওয়ার চিন্তা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচন কমিশন সচিব মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ এ তথ্য জানান।
সচিব বলেন, আমরা হয়তো সীমানা পুনর্নিধারণ এবং আইন সংক্রান্ত পরিবর্তনের জন্য দেশি-বিদেশি পরামর্শক নিয়োগ দেবো। এটা হয়তো ঈদের পরে করা হবে।
পরামর্শক নিয়োগ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপের আগে নাকি পরে করা হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা সংলাপের আগেও হতে পারে। তারা আমাদের নিজস্ব পয়সায় নিয়োজিত থাকবেন এবং আমাদেরকে পরামর্শ দেবেন।
তিনি বলেন, আমাদের সীমানা পুনর্নিধারণের যে আইনটা আছে সেখানে জটিলতা রয়েছে। আইনটা চেঞ্জ করে সীমানা পুনর্নিধারণ করতে হলে আরো সময় লাগবে। দেখা যাক সবার সাথে সংলাপের মাধ্যমে বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে।
সচিব আরো জানান, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে যে কাজগুলো সম্পাদন করা হবে, সেগুলোকে ভাগ করে কমিশন চারজন কমিশনারের চারটি কমিটি করেছে। সীমানা পুনর্নিধারণের বিষয়টি দেখছেন মাননীয় নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম। প্রাথমিকভাবে এ বিষয়ে কোনো কাজই হয়নি। কাজ যতটুকু হয়েছে তাহলো, এই কমিটি অতীতে যে সীমানা পুনর্নিধারণ করা হয়েছে, সেগুলো স্টাডি করছে।
আইন সংস্কারের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ সংক্রান্ত বিষয়টি দেখছে নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানমের নেতৃত্বাধীন কমিটি। তাছাড়া ইতোমধ্যে রুট লেভেলে উপজেলা, জেলা, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাদের কাছে মতামত জানতে চাওয়া হয়েছে। সংলাপেও বিষয়টি থাকবে। সবার মতামত নিয়ে এটি চূড়ান্ত করা হবে। এর আগে কিছু বলা যাচ্ছে না।
গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ-১৯৭২, নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা-২০০৮, সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা-২০০৮, স্বতন্ত্র প্রার্থী (প্রার্থীদের পক্ষে সমর্থন যাচাই) বিধিমালা-২০১১, নির্বাচন কর্মকর্তা (বিশেষ বিধান) আইন-১৯৯১ এবং নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনঃনির্ধারণ অধ্যাদেশ-১৯৭৬ (অধ্যাদেশ ১৯৭৬) এর বিষয়ে অধীনস্থদের সঙ্গে আলোচনা করে ইসিতে প্রস্তাব পাঠাতে বলা হয়। গত ২৯ মে সংশ্লিষ্টদের এসব বিষয়ে পাঠানো চিঠিতে ১৩ জুনের মধ্যে মতামত দিতে বলে ইসি।
এর প্রেক্ষিতে ইসির মাঠ কর্মকর্তারা নির্বাচনী আইন-বিধি সংস্কারে একগুচ্ছ প্রস্তাব পাঠিয়েছে। এর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রার্থীতার পক্ষে ভোটারের সমর্থনের বিষয়টি বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে। মাঠ পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা তার সুপারিশে স্বতন্ত্র প্রার্থী (প্রার্থীতার পক্ষে সমর্থন যাচাই) বিধিমালা, ২০১১ বিলুপ্তির সুপারিশ করেছেন। বর্তমানে কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে চাইলে হয় তাকে আগে অন্তত একটি সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হতে হবে। আর তা না হলে মনোনয়নপত্রের সাথে এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরযুক্ত তালিকা জমা দেওয়ার বিধান রয়েছে।
রংপুরের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা জি এম সাহতাব উদ্দিন কমিশনে পাঠানো প্রস্তাবে গণপ্রতিনিধি আদেশ নিয়ে ১৩টি, রাজনৈতিক দল নিবন্ধন বিধি ও আচরণবিধি, নির্বাচন পরিচালনা নিয়ে চারটি, স্বতন্ত্র প্রার্থিতায় বিদ্যমান বিধি বিলোপ, নির্বাচন ব্যবস্থাপনা নিয়ে আরও আটটি সুপারিশ রয়েছে।
এ কর্মকর্তা রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন ফি ৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে অফেরতযোগ্য ১ লাখ টাকা করার প্রস্তাব করেছেন। বর্তমানে আবেদন করে কোনো দল নিবন্ধন না পেলে তাদের টাকা ফেরত দেওয়া হয়। আচরণবিধি লঙ্ঘনের অর্থদণ্ড ১০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ করা, পরপর তিনটি সংসদে ৫ শতাংশ আসনে ও ৫ শতাংশ ভোট না পেলে নিবন্ধন বাতিলের সংস্কার আনার সুপারিশ করা হয়েছে। বর্তমানে পরপর দুই বছর কোনো রাজনৈতিকদল সংসদ নির্বাচনে অংশ না নিলে তাদের নিবন্ধন বাতিলের বিধান রয়েছে। একই সঙ্গে ভোটের সময় সকাল আটটার পরিবর্তে এক ঘণ্টা এগিয়ে নেওয়ারও সুপারিশ রয়েছে তার।
ভোটের নির্বাচন নির্বাহী ও বিচারিক হাকিমের পাশাপাশি ইসির নিজস্ব কর্মকর্তাদেরও আচরণবিধি লঙ্ঘনে বিচারিক ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব রেখেছেন এক আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা।
এছাড়াও ফরম, প্যাকেট গ্রহণযোগ্য পর্যায়ে কমিয়ে এনে প্রিজাইডিং কর্মকর্তার কাজ সহজতর করা; ইসির ব্যবস্থাপনায় ভোটার স্লিপ বিতরণ; প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সঙ্গে ইসির একই মঞ্চে বিতর্ক; ভোট সাতটা থেকে তিনটা করা, ভোটকক্ষের সংখ্যা কমানো; ইভিএম ও ভোটার সচেতনতা বাড়ানো, স্বয়ংক্রিয় সিল, স্মার্ট ভোটকক্ষ তৈরিসহ মাঠ কর্মকর্তাদের একগুচ্ছ সুপারিশ রয়েছে।
জানতে চাইলে ইসির সহকারী সচিব রৌশন আরা বেগম বলেন, মাঠ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে আমরা বেশ কিছু প্রস্তাবনা পেয়েছি। সুপারিশগুলো একীভূত করে কমিশনের বিবেচনার জন্য শিগগিরই উপস্থাপন করা হবে।
১৯৭২ সালে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ প্রণয়নের পর এ পর্যন্ত ১১ বার সংশোধনী এসেছে। এর মধ্য দিয়ে বিভিন্ন অনুচ্ছেদে অন্তত ২০৯টি বিষয়ে সংযোজন-বিয়োজন হয়েছে।
ইসি সূত্র জানায়, এর আগে কাজী রকিবউদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন ইসিও ২০১৫ সালে মাঠ কর্মকর্তাদের কাছে প্রস্তাব সংগ্রহ করেছিল। সবগুলো গুছিয়ে রাখলেও তা নিয়ে তারা আর এগোয়নি। নূরুল হুদা নেতৃত্বাধীন ইসি একাদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে রোডম্যাপ ঘোষণার পর কেএম নূরুল হুদার নেতৃত্বাধীন নতুন কমিশন এ উদ্যোগ নিল।
ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, বরিশাল, রংপুর, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা ও ফরিদপুরে আঞ্চলিক নির্বাচন কার্যালয় রয়েছে।