ঢাকাTuesday , 9 May 2017
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

হুজি থেকে জেএমবির প্রশিক্ষক হন ‘জঙ্গি’ ইমরান

Link Copied!

নিজস্ব প্রতিবেদক : ২০০১ সালে হরকাতুল জিহাদে (হুজি) যোগদানের পর থেকে সক্রিয় ছিলেন ইমরান হোসেন ওরফে ইমরান ওরফে এমরান। জয়দেবপুরের কয়েকটি কেমিক্যাল নির্ভর কারখানায় চাকরি করে বিস্ফোরক তৈরির বিশেষ শিক্ষা নেন। এরপর ২০১৪ সালে জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশে (জেএমবি) যোগ দিয়ে প্রশিক্ষক হন ইমরান। দলে যোগ দেয়া নতুন সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেন তিনি।
সোমবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইং পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান জানান, রোববার রাত সোয়া ১০টার দিকে আশুলিয়া থেকে ইমরান (৩৪) ও রফিকুল ইসলাম ওরফে রফিককে (৪০) গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে দুই বোতল সালফিউরিক এসিড, পাঁচ প্যাকেট বিভিন্ন ধরনের স্প্লিন্টার উপযোগী বল এবং নানা ধরনের বিস্ফোরক তৈরির উপযোগী রাসায়নিক পদার্থ (সালফার সদৃশ্য পাউডার, পটাসিয়াম সদৃশ্য পাউডার, পটাসিয়াম ক্লোরেট সদৃশ্য পাউডার) এক কেজি ৬৫০ গ্রামসহ অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধার করা হয়।
মুফতি মাহমুদ খান বলেন, ইমরান ঢাকা থেকে সংগৃহীত কেমিক্যাল দ্রব্যাদি রফিকের নিকট প্রেরণ করত। রফিক ওই কেমিক্যাল চাহিদা মোতাবেক চট্টগ্রামের বিভিন্নস্থানে পৌঁছে দিত। মূলত তার সরবরাহকৃত রাসায়নিক দ্রব্যাদির মাধ্যমে চট্টগ্রামে জঙ্গি সংগঠনের প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হত।
তিনি বলেন, ২০০১ সালে ময়মনসিংহের বুড়িরচরে তার মতো বয়সী ২০-২৫ জন যুবককে নিয়ে হুজিবির একটি প্রাথমিক জঙ্গি প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। ইমরান প্রশিক্ষণে উত্তীর্ণ হওয়ার পর চট্টগ্রামে অস্ত্র প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে। বুড়িরচরের প্রশিক্ষণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদে ইমরান জানায়, শহিদুল্লাহ এবং রুম্মন নামে দুইজন প্রশিক্ষক তাদের শারীরিক ও জঙ্গি মতাদর্শের উপরে প্রশিক্ষণ দিত। ইমরান সংগঠনের জন্য নিয়মিত ইয়ানত (অর্থ) সংগ্রহ করে ময়মনসিংহ জেলার সংগঠনের কোষাধ্যক্ষ জনৈক তারিক প্রকাশ আব্দুল্লাহর নিকট প্রেরণ করত। ২০১৪ সালে জেএমবিতে যোগ দেন তিনি।
অন্যদিকে রফিকুল ইসলাম সম্পর্কে মুফতি মাহমুদ খান বলেন, রফিক চট্টগ্রামের একটি মাদ্রাসার শিক্ষক। রফিক এবং ইমরান একই সময় থেকে হুজিবিতে যোগ দেয়। সংগঠনে থাকাকালীন তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। সে বোমা তৈরিতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। ইমরানের প্ররোচনায় ২০১৫ সালের শেষের দিকে জেএমবিতে যোগ দেয় রফিক।
এরপর রফিক রাসায়নিক দ্রব্যাদি সংগ্রহ করে চট্টগ্রামের বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রশিক্ষণ এলাকাতে প্রেরণ করত। সে মূলত কুরিয়ার ও বাহকের কাজে নারী সদস্যদের ব্যবহার করত। রফিকের দুই স্ত্রীও এই কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত। প্রথম স্ত্রী জয়নাব বিবি আত্মগোপনে রয়েছে এবং দ্বিতীয় স্ত্রী তহুরা আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর দৃষ্টি এড়াতে নিখোঁজ হয়ে রফিককে বিবাহ করার পর বাড়িতে ফেরত আসে এবং পরবর্তীতে র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হয়।
তিনি জানান, গত ১০ এপ্রিল র‌্যাব-১৪ এর ব্রাহ্মণবাড়িয়া অভিযানে জেএমবির এক নারী সদস্য গ্রেফতার হয়। জিজ্ঞাসাবাদে জেএমবির বিস্ফোরক সংগ্রহ ও সরবরাহের কিছু তথ্য দেয় ওই নারী ‘জঙ্গি’। তার দেয়া তথ্যেই রফিক ও ইমরানকে গ্রেফতার করা হয়।