নিজস্ব প্রতিবেদক : দীর্ঘ সাড়ে চার বছর পর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ছাত্রলীগের সম্মেলন হলেও এখনো নতুন কমিটি দিতে পারেনি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। গত ৩০ মার্চের সম্মেলনে জবি ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণার পর নতুন কমিটি না দেওয়া পর্যন্ত কার্যত নেতৃত্বশূন্য জবি ছাত্রলীগ।
এদিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের কাঙ্ক্ষিত পদ পেতে মরিয়া পদপ্রত্যাশীরা। সম্মেলনের পরও নতুন নেতৃত্ব না আসায় পদপ্রত্যাশী নেতাকর্মীরা মাঠের রাজনীতির চেয়ে লবিং-তদবির এবং বাসার রাজনীতিকে প্রাধান্য দিচ্ছেন। পকেট কমিটি আসতে পারে- এমন গুঞ্জন চলছে সর্বত্র। নতুন কমিটিতে পদ পেতে ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান নেতাদের কাছে এবং ছাত্রলীগে প্রভাব রাখতে পারেন এমন নেতাদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন তারা।
জবি ছাত্রলীগের সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, ছাত্রলীগে কোনো পকেট কমিটি হবে না। যোগ্যরাই নেতৃত্বে আসবে। তিনি জবি ছাত্রলীগের সম্মেলনের প্রথম অধিবেশন শেষে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের দায়িত্ব দেন শাখা ছাত্রলীগের সাবেক এবং সদ্যবিলুপ্ত কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে। এ সম্মেলনের প্রথম অধিবেশন শেষে স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন ছাত্রলীগ সভাপতি সোহাগ। দীর্ঘ সময় নিয়ে বৈঠক করলেও এখন পর্যন্ত নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করতে ব্যর্থ হয়েছেন তারা।
২০১২ সালের ৩ অক্টোবর শরিফুল ইসলামকে সভাপতি এবং সিরাজুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক করে এক বছরের জন্য কমিটি করা হয়। এ কমিটি প্রায় সাড়ে চার বছর পার করলেও বিভিন্ন কারণে নতুন কমিটি দিতে পারেনি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। সর্বশেষ গত ৩০ মার্চ এই শাখা সংগঠনটির বার্ষিক সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কমিটি বিলুপ্ত করে কেন্দ্র। তবে এখনো নতুন কমিটি দিতে পারেনি তারা। বিভিন্ন মহলের চাপের কারণে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করতে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ হিমশিম খাচ্ছেন বলে জানা গেছে।
এদিকে মাঠের রাজনীতি নাকি লবিং- কোনটা জয়লাভ করে তা দেখার অপেক্ষায় নেতাকর্মীরা। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরব তারা। তবে তাদের আশা, মাঠের রাজনীতিকে প্রাধান্য দেওয়া হবে এবং যোগ্যরাই নেতৃত্বে আসবে। ‘পকেট কমিটি হবে না’ ওবায়দুল কাদেরের এই বক্তব্যের প্রতিফলন দেখতে চান তারা।
এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ বলেন, জবি ছাত্রলীগে কে কোন কাজ করতে পারে তা আমি ভালো করেই জানি। সুতারাং লবিং-তদবির করে কোনো লাভ হবে না। নিয়মিত ছাত্র, ত্যাগী ও পরিশ্রমী কর্মীদের নেতৃত্বে আনা হবে। যাদের শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে বিভিন্ন সময় বহিষ্কার করা হয়েছে এবং যাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, মাদকাসক্তিসহ অন্য অপরাধে মামলা বা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) আছে তাদের নতুন কমিটিতে স্থান দেওয়া হবে না।
কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসাইন বলেন, যাদের বয়স ২৯ বছরের কম এবং যারা নিয়মিত ছাত্র, তারাই নতুন কমিটিতে স্থান পাবেন। সুদর্শন, ক্লিন ইমেজের কর্মীরাই নেতৃত্বে আসবেন। অনিয়মিত ছাত্র এবং অভিযুক্তরা স্থান পাবেন না।

