নিজস্ব প্রতিবেদক : পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির মামলাকে ‘অনুমানভিত্তিক’ ও ‘গুজব’ বলে উল্লেখ করেছেন কানাডার একটি আদালত। একইসঙ্গে পদ্মা সেতুতে দুর্নীতির অভিযোগে ২০১৩ সাল থেকে বিশ্বব্যাংকের কোনও উন্নয়ন প্রকল্পে ১০ বছরের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষিত কানাডীয় প্রতিষ্ঠান এসএনসি’কেও ‘নির্দোষ’ বলে উল্লেখ করেছেন ওই আদালত।
শুক্রবার কানাডার পত্রিকা টরোন্টো স্টার এই তথ্য জানায়। তারা জানায়, মামলার বিচারক নরডেইমার গত জানুয়ারিতে এই রায় দিলেও শুক্রবার পর্যন্ত তা প্রকাশে বাধা ছিল।
টরোন্টো স্টার জানায়, টরোন্টোর এক আদালত দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে এসএনসি-লাভালিন ও এক বাংলাদেশি বশোংদ্ভূত কানাডিয়ান ব্যবসায়ীকে পদ্মাসেতুর দুর্নীতির মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার তাদের এই মামলার রায় ঘোষণা করেন অন্টারিও সুপ্রিম কোর্টের বিচারক ইয়ান নরডেইমার। এর ফলে এসএনসি-লাভালিনের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কেভিন ওয়ালেস, প্রতিষ্ঠানটির আন্তর্জাতিক প্রকল্প বিভাগের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট রমেশ শাহ ও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডীয় ব্যবসায়ী জুলফিকার ভূইয়া এই মামলা থেকে অব্যাহতি পেলেন।
এদিকে শনিবার ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন, ‘কানাডার একটি আদালত পদ্মা সেতুতে দুর্নীতির অভিযোগ দায়ের হওয়া মামলাটি খারিজ করে দিয়েছেন। এর মধ্যে দিয়ে ফের প্রমাণিত হলো যে দুর্নীতির কথা বলা হয়েছিলো, তা কেবলই গালগল্প ও গুজব ছিলো।
উল্লেখ্য, দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ২০১১ সালে পদ্মাসেতুর কাজ বন্ধ করে দেয় এর প্রধান অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান বিশ্বব্যাংক। তাদের অনুরোধে কানাডার পুলিশ সে দেশের দুই নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এসএনজি ও লাভালিন ইন্টারন্যাশনালের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে। ২০১২ সালে কানাডার আদালতে এ ব্যাপারে অভিযোগ দায়ের করা হয়।
২০১৩ সালে বিশ্বব্যাংক পদ্মাসেতুর নির্মাণকাজে দুর্নীতির ঘটনায় এসএনসিকে ১০ বছরের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করে এবং পদ্মাসেতুর অর্থায়ন থেকে পিছু হটে। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্ব ব্যাংকের পিছিয়ে যাওয়ার জন্য গ্রামীণ ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে দায়ী করেন।

