স্পোর্টস ডেস্ক : নিউজিল্যান্ডের কাছে বাংলাদেশ ওয়ানডে সিরিজ হেরেছে ৩-০ ব্যবধানে। আড়াই বছর পর পেয়েছে হোয়াইটওয়াশের তিক্ত স্বাদ।
অথচ ২০১৫ বিশ্বকাপের পর কী দুর্দান্ত ক্রিকেটই না খেলছিল বাংলাদেশ। বিশ্বকাপের পর দুই বছরে ঘরের মাঠে জিম্বাবুয়ে, পাকিস্তান, ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ডকে কাঁপিয়ে দিয়েছে মাশরাফি বিন মুর্তজার দল।
এবার বিদেশের মাটিতে ভালো করার চ্যালেঞ্জ। যার শুরু নিউজিল্যান্ড সফর দিয়ে। কিন্তু সেই চ্যালেঞ্জের শুরুতেই মুখ থুবড়ে পড়েছে বাংলাদেশ। ৩-০ তে ওয়ানডে সিরিজ তো হেরেছেই, সবচেয়ে বড় কথা বাজে ক্রিকেট খেলেছে বাংলাদেশ। কোনো ম্যাচে প্রতিদ্বন্দ্বিতাই গড়তে পারেনি।
ব্যাটিং, বোলি ও ফিল্ডিং- তিনটি বিভাগেই বাংলাদেশের পারফরম্যান্স ছিল হতাশাজনক। বিশেষ করে ব্যাটিং ধসগুলো সবার চোখে লেগেছে বেশি। দ্বিতীয় ম্যাচে ২৫২ রান তাড়া করতে নেমে একটা সময় ১ উইকেটে ১০৫ রান তোলা বাংলাদেশ ৭৯ রানে শেষ ৯ উইকেট হারিয়ে অলআউট হয়ে যায় ১৮৪ রানে। শেষ ম্যাচে শতরানের উদ্বোধনী জুটির পরও আড়াই শ’ করতে না পারা ব্যাটসম্যানদের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। মিডল অর্ডার পুরোপুরি ছন্দহীন।
ওয়ানডে সিরিজ শেষ হয়েছে, শেষ হয়েছে ২০১৬ সালও। ২০১৬ সালের শেষ ওয়ানডে তো বটেই, শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। ২০১৭ সালে প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচও খেলবে বাংলাদেশ। নেপিয়ারের ম্যাকলিন পার্কে মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হচ্ছে সফরকারী দল। ওয়ানডে সিরিজের ব্যর্থতা পেছনে ফেলে নতুন বছরে ভাগ্য বদলাবে মাশরাফির দলের?
গত বছরের মার্চ-এপ্রিলে ভারতে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এই ফরম্যাটে সবশেষ ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। ম্যাচটি ছিল এই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেই। কলকাতার ইডেন গার্ডেনে সে ম্যাচে মুস্তাফিজুর রহমানের ২২ রানে ৫ উইকেট শিকারে নিউজিল্যান্ডকে ১৪৫ রানে বেঁধে ফেলেও টি-টোয়েন্টিতে নিজেদের সর্বনিম্ন ৭০ রানে অলআউট হয়েছিল বাংলাদেশ। ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটে বাংলাদেশের দুটি সর্বনিম্ন রানই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। ২০১০ সালে হ্যামিল্টনে বাংলাদেশের ইনিংস গুটিয়ে গিয়েছিল ৭৮ রানে।
ওই দুই ম্যাচসহ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এখন পর্যন্ত চারটি টি-টোয়েন্টি খেলেছে বাংলাদেশ। হেরেছেও চারটি ম্যাচেই। ২০১৩ সালে মিরপুরে ১৫ রানের হার ছাড়া বাকি তিনটি হারই আবার বিশাল ব্যবধানে। মঙ্গলবার প্রথম টি-টোয়েন্টির আগে তাই অতীত পরিসংখানের দিকে না তাকানোই ভালো। পরিসংখ্যান অনুপ্রেরণা নয়, হতাশা বাড়াবে! তবে ওয়ানডে সিরিজের বাজে পারফরম্যান্স টি-টোয়েন্টিতে খেলোয়াড়দের তাতিয়েও দিতে পারে!
নেপিয়ারের ম্যাকলিন পার্ক ১৯৭৯ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যাত্রা শুরু করলেও এই মাঠে এখনো কোনো টি-টোয়েন্টি ম্যাচ হয়নি। এই মাঠে টেস্ট হয়েছে ১০টি, ওয়ানডে ৪২টি। বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড ম্যাচ দিয়েই তাই আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি অভিষেক হচ্ছে মাঠটির। ম্যাচটি আবার হতে যাচ্ছে মাশরাফির ৫০তম টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। অধিনায়কের মাইলফলকের ম্যাচটি জয় দিয়ে স্মরণীয় করে রাখতে পারবেন সতীর্থরা? পারলে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে মিলবে প্রথম জয়ের স্বাদও!

