ঢাকাMonday , 26 December 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

অতিথি জটিলতায় কারমাইকেলর শতবর্ষপূর্তি উদযাপন স্থগিত

Link Copied!

karmaikelরংপুর প্রতিনিধি : রংপুরে কারমাইকেল কলেজের শতবর্ষপূর্তি উদযাপন অনুষ্ঠান নির্ধারিত সময়ে হয়নি। প্রধান অতিথি নিয়ে জটিলতায় কলেজ কর্তৃপক্ষ অনুষ্ঠান অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করলে ক্যাম্পাসের বাইরে লালবাগ এলাকায় দুই দিনব্যাপি মান বাঁচানো অনুষ্ঠান করে প্রাক্তন ছাত্রের ব্যানারে একটি সংগঠন। তবে সাড়ে ১৩ হাজার শিক্ষার্থীর রেজিস্ট্রেশন বাবদ জমা প্রায় এক কোটি টাকার কী হবে- এ নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
কলেজ সূত্র জানা গেছে, গত ১০ নভেম্বর কারমাইকেল কলেজ শতবর্ষ অতিক্রম করেছে। প্রথম দফায় ৪ ও ৫ নভেম্বর উদযাপনের তারিখ ঘোষণা করে কারমাইকেল কলেজের শতবর্ষ উদযাপন কমিটি। পরে ১৬ অক্টোবর কলেজটির শিক্ষক পরিষদের সিদ্ধান্তে তা পরিবর্তন করে ২৩ ও ২৪ ডিসেম্বর করা হয়।
শতবর্ষপূর্তি উদযাপন উপলক্ষে সাড়ে ১৩ হাজার শিক্ষার্থী রেজিস্টেশন করেন। রেজিস্ট্রেশনের ফি ধরা হয় প্রাক্তন ছাত্রদের জন্য দেড় হাজার টাকা, পরিবারসহ তিন হাজার টাকা এবং বর্তমান শিক্ষার্থীদের জন্য ৫০০ টাকা। দুই হাজারের বেশি প্রাক্তন ছাত্র রেজিস্ট্রেশন করেন।
প্রাক্তন ছাত্রদের কাছ থেকে ৩০ লাখ এবং বর্তমান ছাত্রদের কাছ থেকে রেজিস্ট্রেশন বাবদ ৬০ লাখ টাকা জমা হয়েছে উদযাপন পরিষদের কোষাগারে। শতবর্ষপূর্তি উদযাপনের যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হলে বাধসাধে অতিথি নির্ধারণ নিয়ে। কে হবেন প্রধান অতিথি এ নিয়ে দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। প্রাক্তন ছাত্র ও জাতীয় পার্টি চায় সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদকে প্রধান অতিথি করতে। তারা জানান, অনুষ্ঠানের দুইদিনের খাবারে যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় হবে, তা এরশাদ দেবেন। কলেজের অধ্যক্ষ ড. মো. আব্দুল লতিফ মিয়ার শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক থাকায় প্রথমদিনের অনুষ্ঠানে তাকে প্রধান অতিথি করার প্রস্তাব দেন। ফলে অতিথি নিয়ে দ্বন্দ্ব প্রকট আকার ধারণ করলে কলেজ কর্তৃপক্ষ অনিদিষ্টকালের জন্য অনুষ্ঠান স্থগিত করে দেয়।
কলেজের শতবর্ষপূর্তি উদযাপন উপলক্ষে নবীন-প্রবীণ ছাত্র-ছাত্রী ও স্থানীয়রা দুইদিনের মান বাঁচানো অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ক্যাম্পাসের বাইরে লালবাগ এলাকায়। অনুষ্ঠানের প্রথম দিন শুক্রবার বিকেলে কলেজ ক্যাম্পাস থেকে রঙ-বেরঙের ব্যানার, ফেস্টুন, বেলুন নিয়ে শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি বের হয়ে লালবাগসহ নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। লালবাগ চত্বরে কেক কাটার আয়োজন করা হয়। শোভাযাত্রা, কেক কাটা ও কলেজ ক্যাম্পাসে ১০০ ফানুস উড়ানো এবং আতশবাজি ফোটানো হয়। এতে নেতৃত্ব দেন উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট দিলশাদ হোসেন মুকুল, কলেজের সাবেক (দুই বার) ভিপি মো. আলাউদ্দিন মিয়া ও কাকসু পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ওবায়দুর রহমান ময়না। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিন শনিবার ক্যাম্পাসের বাইরে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
কলেজ কমিটির ব্যবস্থাপনায় কোনো অনুষ্ঠান না হওয়ায় প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। শিক্ষার্থীরা বলেন, এতে কলেজের সম্মান ক্ষুণ্ন হয়েছে।
কারমাইকেল কলেজের অধ্যক্ষ ড. মো. আব্দুল লতিফ মিয়া বলেন, অতিথি নির্ধারণ না হওয়ায় অনির্দিষ্টকালের জন্য অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়েছে। প্রাক্তন ছাত্রদের ব্যানারে একটি সংগঠন ক্যাম্পাসে শতবর্ষপূর্তি অনুষ্ঠান করতে চেয়েছিল। ক্যাম্পাসে অনুমতি না পাওয়ায় তারা বাইরে অনুষ্ঠান করেছে। ওই অনুষ্ঠানের সঙ্গে কলেজের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।
তিনি জানান, জাতীয় পার্টি চেয়েছিল এরশাদ সাহেবকে প্রধান অতিথি করতে। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী শিক্ষামন্ত্রীকে প্রধান অতিথি করার বিষয়ে মনোনয়ন দিয়েছেন। এ নিয়ে মূলত দ্বন্দ্ব দেখা দেওয়ায় অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়েছে।
রেজিস্ট্রেশনের টাকার বিষয়ে তিনি জানান, শেষ পর্যন্ত অতিথি নির্ধরণ করা না গেলে অনুষ্ঠান বাতিল করে সদস্যদের রেজিস্ট্রেশনের টাকা ফেরত দিতে হবে।