ঢাকাFriday , 23 December 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ক্রিকেটে বাংলাদেশের অনন্য এক স্বীকৃতি

Link Copied!

mustafizস্পোর্টস ডেস্ক : বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ক্রিকেটের অনন্য এক স্মরণীয় দিন। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্বীকৃতি মিলল এদিন। ‘কাটার মাস্টার’ খ্যাত বিস্ময়বালক মুস্তাফিজুর রহমান আইসিসির ২০১৬ সালের উদীয়মান খেলোয়াড়ে ভূষিত হলেন।
আইসিসি ২০১৫ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৬ সালের ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পারফরম্যান্স বিবেচনায় নিয়ে মুস্তাফিজকে এই পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত করে। এই সময়ে তিন ওয়ানডেতে মুস্তাফিজ নিয়েছেন ৮ উইকেট। আর ১০টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে নিয়েছেন ১৯ উইকেট।
মুস্তাফিজ সর্বশেষ বাংলাদেশের হয়ে আন্তর্জাতিক ম্যাচে মাঠে নেমেছিলেন গত ২৬ মার্চ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। ভারতের কলকাতায় অনুষ্ঠিত ওই ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ছিল নিউজিল্যান্ড। এরপর অনেকটা সময় বাংলাদেশের কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ ছিল না। তবে মুস্তাফিজ প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ছিলেন।
পাঁচ মাস আগে কাউন্টি ক্রিকেটে সর্বশেষ সাসেক্সের হয়ে মাঠে নেমেছিলেন ‘দ্য ফিজ’। আইপিএলে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে বল হাতে আলো ছড়ানোর পর, ইংল্যান্ডে গিয়েও উজ্জ্বল হয়ে জ্বলতে শুরু করেছিলেন বাংলাদেশি এ ‘কাটার মাস্টার’।
কিন্তু গত ২২ জুলাই সাসেক্সের হয়ে খেলতে নেমেই কাঁধের ইনজুরিতে পড়েন মুস্তাফিজ। এরপর কাঁধের অস্ত্রোপচারের পর দর্শক হয়েই ক্রিকেট উপভোগ করতে দেখা গেছে বোলার মুস্তাফিজকে। ঘরের মাঠে ইংল্যান্ড সিরিজ, বিপিএলের জমজমাট চতুর্থ আসরেও মাঠে নামা হয়নি মুস্তাফিজের।
বৃহস্পতিবার ছয় মাসের ইনজুরিজনিত বিরতি শেষে অবশ্য মাঠে নেমেছেন প্রস্তুতি ম্যাচে। সব কিছু ঠিক থাকলে যে নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে খেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিরতিতে গিয়েছিলেন, সেই একই দলের সঙ্গে আবার নতুন করে শুরু করবেন যাত্রা। সুখের সংবাদ হলো প্রস্তুতি ম্যাচেও পুরনো মুস্তাফিজকে দেখা গেছে।
দীর্ঘ ৫ মাস পর মাঠে নেমে বল হাতে নিউজিল্যান্ড একাদশের বিপক্ষে দুটি উইকেট নেন তিনি। যদিও দল হেরেছে, পুরনো মুস্তাফিজ ফিরছে, এটাই বাংলাদেশে ক্রিকেটের জন্য বড় খবর। এ ছাড়া এই ম্যাচে বহুদিন রান খরায় ভুগতে থাকা সৌম্য সরকারও ৪০ রান করে রানে ফেরার ইঙ্গিত দিলেন। সব মিলিয়ে নিউজিল্যান্ড সফরত দলের কাছ থেকে ভালো কিছু আশা করা যায়।
বাংলাদেশে ক্রিকেটের দৃশ্যপট দ্রুত বদলে যাচ্ছে যেন। একটা সময় ছিল বিশ্ব ক্রিকেটের বড় দলকে হারালে তা অঘটন হিসেবে বিবেচনা করা হতো। এখনো যে কেউ বড় ক্রিকেট অঘটন লিখে গুগলে সার্চ দিলে কার্ডিফে অস্ট্রেলিয়া-বধ কিংবা ২০০৭ বিশ্বকাপে ভারতকে হারানোর ম্যাচটি চলে আসে।
কিন্তু প্রকৃত অর্থেই এখন অস্ট্রেলিয়া কিংবা ভারতকে হারানো কি অঘটনের পর্যায়ে রয়ে গেছে বাংলাদেশ দলের জন্য? অন্তত ক্রিকেট বোঝেন এমন কেউ আশা করি এই কথা বলবেন না। আর তা বোঝার জন্য বড় কোনো ক্রিকেট বোদ্ধা হতে হবে না। বাংলাদেশের আবেগী ক্রিকেট দর্শকদের বাইরেও নিশ্চয় একই ধরনের মনোভাব হবে বলে বিশ্বাস করি।
আজকের অবস্থানে আসতে বাংলাদেশকে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে। শুনতে হয়েছে অনেক বঞ্চনা-গঞ্জনা আর কটাক্ষ। কখনো কখনো তো আমাদের টেস্ট স্ট্যাটাস কেড়ে নেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে। ম্যাচের পর ম্যাচ হারতে হারতে হারের চোরাগলিতে আটকে ছিল আমাদের ক্রিকেট এক সময়।
অন্ধকারের পরই তো আলো আসে। কিন্তু আমাদের ছেলেরা যখন আলো ছড়াতে শুরু করল। দলগত পারফরম্যান্স দিয়ে যখন বাঘা বাঘা দলকে ঘায়েল করতে শুরু করল ধারাবাহিকভাবে। অঘটন যখন নিয়মিত ঘটাতে শুরু করল তখনো আমাদের ক্রিকেটের প্রতি মোড়লদের একচোখা নীতি বদল হয়নি।
এমনকি কেউ ব্যক্তিগতভাবেও শুভাকাঙ্ক্ষি হয়ে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ায়নি। দুই একজনের ক্ষেত্রে ভিন্নতা দেখা গেছে। তাই তো মুস্তাফিজকে বসে থাকতে হয়। আমাদের খেলোয়াড়দের মাসের পর মাস বসে থাকতে হয় আন্তর্জাতিক ম্যাচ ছাড়া। আশা করি মুস্তাফিজের সেরা উদীয়মান হওয়ার কৃতিত্ব সেইসব বিষয়ে মোড়লদের নতুন করে ভাবাবে। বাংলাদেশের উন্নতি মেনে নিয়ে পর্যাপ্ত ম্যাচ খেলার সুযোগ দেবে।
বাংলাদেশের ক্রিকেট আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে ভালো অবস্থানে আছে বর্তমানে। দলের কেউ না কেউ বিপর্যয়ের সময় কান্ডারি হয়ে কাঁধে তুলে নিচ্ছেন দায়িত্ব। দলকে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন লক্ষ্যে। ধীরে ধীরে যেন টিম বাংলাদেশে পরিণত হচ্ছে দলটি। যোগ হচ্ছে নতুন নতুন প্রাপ্তি। দলীয় প্রাপ্তির সঙ্গে সঙ্গে ব্যক্তিগত প্রাপ্তির ঝুলিও পরিপূর্ণ হচ্ছে দিন দিন। এখন ধীরে ধীরে বিশ্ব ক্রিকেটের মোড়লদের মনোভাব বদলালেই হয়।