ঢাকাFriday , 25 November 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

স্মার্টফোন চার্জ হবে সেকেন্ডেই!

Link Copied!

smartphone-chargeপ্রযুক্তি ডেস্ক : স্মার্টফোন বাজারে আসার পর থেকেই মানুষ একটি প্রধান সমস্যাতে ভুগছেন আর তা হলো, এর চার্জ থাকা নিয়ে। বাজারে যত দামি ফোনই আসুক না কেন ফোনের চার্জ সমস্যার সমাধান কেউই খুব একটা দিতে পারেনি।
ফলে স্মার্টফোন বাজারে আসার পর থেকেই এর অন্যান্য দিক নিয়ে যত না গবেষণা হয়েছে তার চেয়ে বেশি গবেষণা হয়েছে এর ব্যাটারি নিয়ে। অনেক গবেষণা প্রতিষ্ঠান চেষ্টা করে যাচ্ছে ব্যাটারির চার্জ থাকার ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্যে।
কিছু কিছু ব্যাটারি এসেছে তবে তা আসলেই খুব একটা কাজের নয়। কেননা সেখানে ব্যাটারির এমএএইচ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে চার্জ ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। ফলে সেসব ব্যাটারি সুলভ হয়না। সাধারণ মানের ব্যাটারি যদি ১৫০০ এমএএইচের হয় তবে সেখানে ১০০০০ এমএএইচ ব্যাটারি নিয়ে যদি মোবাইল ফোন বাজারে আসে তবে তার দাম হবে অনেক। তাই এভাবে যদি ব্যাটারির মান না বাড়িয়ে ক্ষমতা বাড়ানো হয় তবে তা কখনোই সাধারণের ক্রয় ক্ষমতার ভেতর আসবে না।
এই সব কিছু মাথায় রেখে এখন চেষ্টা চলছে ব্যাটারির উপাদানের মান বাড়িয়ে বা তাতে ভিন্নতা এনে ব্যাটারির কার্যক্ষমতা বাড়ানোর। আর সে লক্ষ্যে অনেকটাই এগিয়েছে আমেরিকার বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট্রাল ফ্লোরিডার ন্যানোসাইন্স টেকনোলোজি সেন্টার। তারা ব্যাটারির সাধারণ উপাদানের পরিবর্তে একটু ভিন্ন উপাদান যা ন্যানো টেকনোলজিতে ব্যবহৃত হয় সেই দ্বিমাত্রিক উপাদান বা টুডি উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে।
ন্যানো টেকনোলজি আসার পর থেকেই এ নিয়ে বিজ্ঞান জগতে হইচই পরে যায়। সকল গবেষক এর উজ্জ্বল ভবিষ্যতের কথা বলেছিলেন। কারণ, এই প্রযুক্তি বড় বড় ঢাউস আকৃতির মেশিনকে রুপ দিতে পারে পকেট মেশিনে! ইতিমধ্যেই যার কিছু নমুনা আমরা দেখেছি। ‘অ্যান্ট’ নামের ন্যানো মেশিন সেই সম্ভাবনার কথা ইতিমধ্যেই জানান দিয়েছে।
এবার ন্যানো টেকনোলোজি সাধারণ মানুষের সবচেয়ে বড় প্রযুক্তিগত সমস্যা মোবাইলের ব্যাটারির চার্জের সমস্যার সমাধান দিতে চলেছে। এই গবেষণার পোস্ট ডক্টরাল সহযোগী নিতিন চৌধুরী বলেন, ‘আমরা ‘সুপারক্যাপাসিটরস’ এর মাধ্যমে প্রচুর শক্তি উৎপাদন করতে পারব এবং ধরে রাখতে পারব।’ তিনি বলেন, ‘এই প্রযুক্তিতে আপনি আপনার স্মার্টফোন সেকেন্ডেই চার্জ করে নিতে পারবেন এবং তা এক সপ্তাহের আগে আর চার্জ করতে হবেনা।’
গবেষকরা জানান, একটি সাধারণ ফোন কেনার পর তা ১৮ মাসের ভেতর এর মূল ক্ষমতা হারায় বা এর পারফরম্যান্স কমতে থাকে। সাধারণভাবে ধরে নেয়া হয় একটি লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি ১৫০০ বার বা তার কিছু কম বেশিবার চার্জ দেয়া যায়। আর এটা কেনার পর ১৮ মাসের পর থেকে তার পারফরম্যান্স হারাতে থাকে। কিন্তু সুপারক্যাপাসিটরস দ্বারা বানানো ব্যাটারি আপনি কমপক্ষে ৩০,০০০ বার চার্জ দিতে পারবেন। এবং এটা সেকেন্ডেই চার্জ হয়ে যাবে। কারণ, ছোট ছোট ক্যাপাসিটরের সাহায্যে এটা কম জায়গায় অধিক ক্ষমতা ধরে রাখতে সক্ষম হবে।
আর এই সুপারক্যাপাসিটর উৎপাদনে ব্যবহার করা হয়েছে দ্বিমাত্রিক উপাদান। যদিও এই দ্বিমাত্রিক উপাদান এর আগেও ব্যবহারের চেষ্টা করা হয়েছিল কিন্তু সেসময় এটা খুব একটা সফল হয়নি। এই যৌথ গবেষণার গবেষক মি. জাং বলেন, ‘এই প্রযুক্তিতে সবাই খুব একটা সফলতা পায়নি। তাছাড়া এটা একটা জটিল প্রক্রিয়া। তবে আমরা একে সাধারণ কেমিক্যাল সিন্থেসিস প্রক্রিয়ায় সফল হয়েছি।’
এই গবেষণার আরেক প্রতিষ্ঠান হচ্ছে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যাটেরিয়ালস সাইন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ। মি. জাং এই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক। তিনি আরো বলেন, ‘আমরা এখনই এটা বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের প্রস্তুতি নেইনি। আমরা আমাদের ধারণার বাস্তবিক প্রমাণ উপস্থাপন করেছি মাত্র। তবে এর প্রভাব খুব সুদূর প্রসারি এবং উপকারি হবে।’
ন্যানো টেকনোলোজি যেভাবে উন্নতি করছে তাতে এর বাণিজ্যিক উৎপাদনে খুব বেশি সময় লাগার কথা নয়। সুতরাং এক সময় যেমন আমাদের মোবাইল ফোনের স্টোরেজ মাপা হতো কেবিতে ( কিলোবাইটে) আর সেটা মনে করে এখন আমরা হাসি। ঠিক তেমনি সামনে এমন সময় আসবে যখন আমরা এই ভেবে হাসবো যে আমাদের মোবাইলে চার্জ একদিনও থাকতো না! আর এখন চার্জ দিতে হয় ছয় মাস পরপর…।