ঢাকাWednesday , 23 November 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

চট্টগ্রামে বিপিএলের কিছু টুকরো গল্প

Link Copied!

bpl1স্পোর্টস ডেস্ক : শেষ হয়ে গেল বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ চতুর্থ আসরের (বিপিএল) চট্টগ্রাম-পর্ব। সাগরিকার জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ১৭ থেকে ২২ নভেম্বর- ছয় দিনে ম্যাচ হয়েছে মোট ১১টি। চট্টগ্রামে বিপিএলের কিছু টুকরো গল্প তুলে ধরা হয়েছে।
কুমিল্লার প্রথম জয়
বিপিএলের গত আসরের চ্যাম্পিয়ন দল তারা। অথচ এই বিপিএলে শুরুতে সেটি বোঝার উপায় ছিল না! উদ্বোধনী ম্যাচ খেলতে নেমেই সঙ্গী হলো হার। যে হারের বৃত্ত পরের চার ম্যাচেও ভাঙেনি। টানা পাঁচ ম্যাচ হেরে তখন অনেকটাই বিপর্যস্ত মাশরাফি বিন মুর্তজার দল। একটি জয়ের জন্য মরিয়া ছিল ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিক থেকে শুরু করে খেলোয়াড়রা।
অবশেষে ষষ্ঠ ম্যাচে এসে ধরা দিল সেই জয়, অনেক কাঙ্ক্ষিত জয়, স্বস্তিরও। আগের পাঁচ ম্যাচের দুটিতে ব্যাট করে একটিতেও দেড়শ করতে পারেনি কুমিল্লা। রাজশাহী কিংসের বিপক্ষে ম্যাচে তারা প্রথমবার পেল দেড়শ রানের পুঁজি (১৫২)। সেই পুঁজি নিয়ে দারুণ বোলিংয়ে করে কুমিল্লাকে প্রথম জয় এনে দিলেন সোহেল তানভীর ও মোহাম্মদ সাইফুদ্দিনরা। তানভীর ১৮ রানে ৪ উইকেট, সাইফুদ্দিন ২৭ রানে নেন ৩ উইকেট।
কুমিল্লার জয়ে ফেরার আনন্দটা অবশ্য পরের ম্যাচেই বিষাদে পরিণত হয়। ১৮৩ রানের পুঁজি নিয়েও বাজে ফিল্ডিংয়ের কারণে হেরে যায় তারা। ৪ বল বাকি থাকতে ৬ উইকেটের জয় পায় চিটাগং ভাইকিংস।
চিটাগংয়ের ফেরা
জয় দিয়েই এবারের বিপিএল শুরু করেছিল চিটাগং ভাইকিংস। উদ্বোধনী ম্যাচেই হারিয়ে দিয়েছিল ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সকে। কিন্তু এরপর? টানা চার ম্যাচ হেরে জয়ের স্বাদই ভুলে গিয়েছিল তামিম ইকবালের দল। ঢাকায় হারের হ্যাটট্রিকের পর ভাগ্য বদলের আশা নিয়ে ঘরের মাঠ চট্টগ্রামে প্রথম ম্যাচে খেলতে নামেন তামিমরা। কিন্তু ঘরের মাঠেও ভাগ্য বদলেনি তাদের। ঘরের মাঠে প্রথম ম্যাচেই তারা হেরে যায় ঢাকা ডায়নামাইটসের কাছে।
তবে পরের ম্যাচে স্বাগতিক দর্শকদের আর হতাশ করেনি ঘরের দল চিটাগং। মোহাম্মদ নবীর ৩৭ বলে অপরাজিত ৮৭ রানের ঝোড়ো ইনিংসে রাজশাহী কিংসের বিপক্ষে ১৯০ রানের বড় পুঁজি গড়ে তারা। পরে তাসকিন আহমেদের দারুণ বোলিংয়ে রাজশাহীকে ১৭১ রানে থামিয়ে ১৯ রানের জয় তুলে নিয়ে চিটাগং। ঘরের মাঠে শেষ ম্যাচে বরিশালকে উড়িয়ে দিয়ে তামিমের দল করে জয়ের হ্যাটট্রিক।
তামিমরা জয়ের ধারা ধরেছে পরের ম্যাচেও। আবারও ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে চিটাগংয়ের জয়ের নায়ক মোহাম্মদ নবী। এবার তার ২৪ বলে অপরাজিত ৪৬ রানের ইনিংসে কুমিল্লার করা ১৮৩ রান চিটাগং টপকে যায় ৪ বল বাকি থাকতেই। তামিমের দল ম্যাচ জেতে ৬ উইকেটে।
দুর্দান্ত মোহাম্মদ নবী
এবারের বিপিএলটা শুরু থেকেই দারুণ কাটছে মোহাম্মদ নবীর। বিশেষ করে চট্টগ্রাম-পর্বে দেখা গেছে অন্যরকম এক নবীকে। ব্যাটিং কিংবা বোলিং- দুটিতেই নবী ছিলেন দুর্দান্ত। ঢাকায় টানা তিন হারের পর ঘরের মাঠে এসে প্রথম ম্যাচেও হেরে বসে চিটাগং।
পরের ম্যাচেই ব্যাট হাতে জ্বলে উঠলেন নবী, ৩৭ বলে খেললেন অপরাজিত ৮৭ রানের ঝোড়ো ইনিংস। তাতে চিটাগং পায় ১৯০ রানের পুঁজি। পরে তাসকিনের ৫ উইকেট শিকারে ঘরের মাঠে চিটাগং পায় প্রথম জয়।
পরের দুই ম্যাচেও চিটাগংয়ের জয়ের অন্যতম কারিগর নবী। তার ২৪ বলে অপরাজিত ৪৭ রানের ঝোড়ো ইনিংসে কুমিল্লার ১৮৩ রান টপকে জেতে চিটাগং। সাগরিকায় শেষ ম্যাচে ব্যাট হাতে না পারলে বল হাতে প্রতিপক্ষও গুঁড়িয়ে দেন নবী। ১৮৬ রান তাড়া করতে নামা বরিশালের টপ অর্ডার ভেঙে চুরমার করে দেন আফগান স্পিনার। তার ঘূর্ণিতে ১২ রানেই ৪ উইকেট হারায় বরিশাল। এর ৩টি উইকেটই নবীর। যার ২টিই এক ওভারে। নবীর দেওয়া শুরুর ধাক্কা আর সামলে উঠতে পারেনি বরিশাল।
রান-উৎসব
ঢাকায় প্রথম সাত ম্যাচে একটি দল কেবল ইনিংসে দেড়শ করতে পেরেছিল। সেখানে চট্টগ্রামে প্রথম সাত ম্যাচে দেড়শ রানের ইনিংস ছয়টি। এখন পর্যন্ত এই বিপিএলের সর্বোচ্চ স্কোর হয়েছে অবশ্য ঢাকাতে। কুমিল্লার বিপক্ষে ৫ উইকেটে ১৯৪ করেছিল ঢাকা। রানটা ১৭০-এ নিয়ে এলে দেখা যাচ্ছে, ঢাকায় ১৩ ম্যাচে ১৭০ বা এর বেশি রানের ইনিংস হয়েছে মোট ৪টি। সেখানে চট্টগ্রামে ১১ ম্যাচে ৮টি!
চট্টগ্রামে পঞ্চম দিনটি ছিল রান-উৎসবের। দিনের প্রথম ম্যাচে ঢাকা করেছিল ৩ উইকেটে ১৮৩ রান। সেটি আবার রাজশাহী টপকে যায় এক বল বাকি থাকতে। দিনের পরের ম্যাচে ঢাকার চেয়ে এক রান বেশি করেও জিততে পারেনি কুমিল্লা। তাদের করা ১৮৩ রান মোহাম্মদ নবীর ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে ৪ বল বাকি থাকতে টপকে যায় চিটাগং।
দর্শকদের উম্মাদনা
ঢাকায় প্রথম পর্বে মিরপুরের গ্যালারির বড় অংশই ফাঁকা পড়ে ছিল। শুক্রবার ছাড়া বেশিরভাগ দিনের ম্যাচেই ছিল দর্শক-খরা। তবে ম্যাচ ঢাকায় থেকে চট্টগ্রামে ফিরতেই পাল্টে গেল চিত্র। চট্টগ্রাম পর্বে প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল চিটাগং ভাইকিংস ও ঢাকা ডায়নামাইটস।
ঘরের দলের খেলা বলে কথা, মাঠের পূর্ব পাশের গ্যালারি ছিল অনেকটাই পূর্ণ। অন্য গালারিতেও দর্শকসংখ্যা নেহাত কম ছিল না। চিটগংয়ের প্রতিটা ম্যাচের দেখা গেছে এমন চিত্র। যেটি ভালো খেলার উৎসাহও জুগিয়েছে তামিম-বিজয়-তাসকিনের।