নিজস্ব প্রতিবেদক : গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষদভুক্ত হতে কমপক্ষে আরো এক বছর সময় লাগতে পারে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে এমন তথ্য জানা গেছে।
সরকারি কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে দিতে বেশ কয়েকটি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। এসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করলেই গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় অনুষভুক্ত অনুমোদন দেওয়া যেতে পারে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত এ কলেজটিকে পৃথক অনুষদ হিসেবে চালু করার জন্য কয়েক মাস ধরেই দাবি জানিয়ে আসছেন শিক্ষার্থীরা। গত ২৪ সেপ্টেম্বরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলন করে তারা। এতে সহশিক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি সব শাখায় ভর্তি কার্যক্রম ও বেতন কাঠামো নির্ধারণেরও দাবি জানান শিক্ষার্থীরা।
গত ৪ অক্টোবর গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ণাঙ্গ ইনস্টিটিউট ঘোষণা ও সহশিক্ষা কার্যক্রম চালুর দাবিতে রাজধানীর নীলক্ষেতে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন কলেজের ছাত্রীরা।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ফারজানা নাজনীন ফ্লোরা বলেন, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদকে আমাদের দাবি জানানো হয়েছে। তিনি বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করবেন বলে আমাদের আশ্বস্ত করেছেন।
ফ্লোরা বলেন, যেহেতু সরকারি কলেজে পড়ি তখন সবাইকে এ প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়, আমি ঢাবিতে না- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতায় পড়ছি। এ ধরনের অবস্থায় আমরা অনেক সময় পরিচয় সংকটে পড়ি। শিক্ষার্থীদের পরিচয় পত্রে লেখা থাকে ঢাবির অধিভুক্ত। অথচ পরিস্থিতি ভিন্ন।
শুধু আজিমপুর গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজকে নয়, দেশের সব কলেজকে একত্র করে একটি ইউনিট করার দাবি জানান তিনি।
গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিশাত পারভীন বলেন, কিছুদিন আগে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে একটি দল মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বসেছিল। সেখানে তারা আমাদের বক্তব্য ও দাবিগুলো শুনেছেন। পরে তারা গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজকে ঢাবির অনুষদ করার ব্যাপারে আমাদের আশ্বস্থ করেছেন।
এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, এটি বাস্তবায়ন করার ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো ক্ষমতা নেই। যা করার মন্ত্রণালয় করবে।
তিনি বলেন, গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত একটি প্রতিষ্ঠান। এ ব্যাপারে মন্ত্রণালয়ই সিদ্ধান্ত নিবে। সেটি বাস্তবায়ন করবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। মন্ত্রণালয়ের একটা নির্দেশনা লাগবে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার পর আমরা ভেবে দেখব কি করণীয়। যেহেতু এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিষ্ঠান। তারা সিদ্ধান্ত নিলে সেটি বাস্তবায়নে কাজ করবে ঢাবি। মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত নিলে সেটি ওপর নির্ভর করছে এটি বাস্তবায়িত হবে কিনা।
শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, ছাত্রীদের দাবি বাস্তবায়নে কিছু সমস্যা রয়েছে। মন্ত্রণালয় বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখছে। সময় মতো এ বিষয়ে সরকারি সিদ্ধান্ত জানানো হবে। এর জন্য ছাত্রীদের অন্তত এক বছর অপেক্ষা করতে হতে পারে।
মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজে ১০ দশমিক ৩ একর জায়গা রয়েছে। কলেজটি বিশ্ববিদ্যালয়কে দিতে গেলে জমি ও অবকাঠামোসহ দিতে হবে। এতে জমির মূল্য পরিশোধ করতে বিশ্ববিদ্যালয় সম্মত কি-না এমন কিছু জটিল প্রশ্নও সামনে আসছে।
সূত্র আরো জানায়, কলেজে বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের প্রায় ৩০০ শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। কলেজটি ঢাবির পৃথক অনুষদ হয়ে গেলে ৩০০ শিক্ষকের পদ শূন্য হয়ে যাবে। তাই শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা এ ব্যাপারে আপত্তি তুলছেন।
১৯৬১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি উপাদানকল্প কলেজ হিসেবে কার্যক্রম শুরু করে কলেজটি। দেশের অন্য সব সরকারি কলেজ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হলেও এ কলেজটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত। এটি আমেরিকার ফোর্ড ফাউন্ডেশন ও ওকলাহামা স্টেট ইউনিভার্সিটির সহায়তায় স্থাপিত হয়। ২০০২-০৩ শিক্ষাবর্ষ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মান কোর্সে অনুরূপ ৪ বছর মেয়াদি স্নাতক সম্মান কোর্স এবং এক বছর মেয়াদি স্নাতকোত্তর কোর্স চালু করা হয়।
বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকা কলেজগুলো হচ্ছে- গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজ (আজিমপুর), বাংলাদেশ গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজ (গ্রিন রোড), ন্যাশনাল কলেজ অব হোম ইকোনমিক্স (লালমাটিয়া), ময়মনসিংহ গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজ (ময়মনসিংহ)। এর মধ্যে আজিমপুরের কলেজ ছাড়া বাকি তিনটি বেসরকারি।

