নিজস্ব প্রতিবেদক : যাত্রীদের বাধ্যতামূলক জীবন বীমার বিধান রেখে বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) আইন-২০১৬ বিল সংসদে উত্থাপিত হয়েছে। ঢাকা ও আশপাশের পাঁচ জেলার মধ্যে বিআরটি তৈরিতে জাতীয় সংসদে এ বিল উত্থাপন করা হয়েছে। জেলাগুলো হলো- ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, গাজীপুর ও নরসিংদী।
রোববার স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদে বিলটি উপস্থাপন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। বিলটির সঙ্গে সরকারি অর্থ ব্যয়ের প্রশ্ন জড়িত থাকায় রাষ্ট্রপতির সুপারিশ গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত বিলে বলা হয়েছে, বিআরটি বাস ও যাত্রীর বীমা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এ ছাড়া বিআরটি বাস দুর্ঘটনায় পড়লে বাস ও যাত্রী ব্যতীত অন্য কোনো ব্যক্তি বা সম্পদের ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
বিআরটি আইনের আওতায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা যাবে। বিলে অপরাধ ও দণ্ড প্রদানের ১৮টি ধারা যুক্ত করা হয়েছে। এতে কোনো লাইসেন্স গ্রহীতা বিআরটি বাস, যাত্রী বা সম্পদের বীমা না করলে ১০ বছরের দণ্ড ও ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া বিআরটি নির্মাণে কারিগরি মান অনুসরণ না করলে ৫ বছরের দণ্ড ও ২৫ লাখ টাকা জরিমানা, বিআরটি বাস ও যাত্রীদের নিরাপত্তা বিঘ্ন করার জন্য ৫ বছরের দণ্ড ও ২৫ লাখ টাকা জরিমানা করার বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি বিআরটি বা যন্ত্রপাতি অপব্যবহারের দায়ে দুই বছরের দণ্ড ও ৫ লাখ টাকা জরিমানা, পরিদর্শকের কাজে বাধা দেওয়ার জন্যও একই দণ্ড রাখা হয়েছে।
টিকিট বা পাস ছাড়া বিআরটিএ বাসে ভ্রমণ করলে ভাড়ার ৫ গুণ অর্থদণ্ড বা তিন মাসের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এ ছাড়া বিলে সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে বিআরটি স্থাপন, পরিচালনা রক্ষণাবেক্ষণ করার সুযোগ রাখা হয়েছে। বিআরটি পরিচালনার জন্য সবাইকে লাইসেন্স নিতে হবে। তবে শতভাগ সরকারি কোম্পানিকে লাইসেন্স ফি দিতে হবে না। বিলে বিআরটি পরিচালনার জন্য ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে বিশেষ বিধান রাখা হয়েছে।
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্বলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ঢাকা মহানগরীর সঙ্গে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের জনগণের যাতায়াত নির্বিঘ্ন, দ্রুত ও আরামদায়ক করাসহ স্বল্প ব্যয়ে দ্রুত ও উন্নত বাসভিত্তিক গণপরিবহণ সেবা প্রদানের জন্য ‘বাস র্যা পিড ট্রানজিট (বিআরটি) আইন-২০১৬ প্রণয়নের উদ্যোগ গৃহীত হয়েছে।
গত মার্চ মাসে মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিলটি অনুমোদিত হয়। পরে স্পিকার অধিকতর পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য বিলটি সংশ্লিষ্ট স্থায়ী কমিটিতে পাঠান।
এ ছাড়া আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর বিল ২০১৬ সংসদে উপস্থাপন করেন। পরে স্পিকার অধিকতর পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য বিলটি সংশ্লিষ্ট স্থায়ী কমিটিতে পাঠান।
এর আগে আইনমন্ত্রী সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদের ২ দফা মোতাবেক এর মধ্যে জারিকৃত দুটি অধ্যাদেশ সংসদে উত্থাপন করেন। এর মধ্যে রয়েছে, পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমিবিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০১৬ ও জেলা পরিষদ (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০১৬।
এ ছাড়া আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত সংসদে সুপ্রিম কোর্ট জাজেস (লিভ, পেনশন অ্যান্ড প্রিভিলেজেস) (সংশোধনী) বিল ২০১৫ সম্পর্কে স্থায়ী কমিটির প্রতিবেদন উত্থাপন করেন।

