ঢাকাSunday , 25 September 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বেপরোয়া চালক, নেই লাইসেন্স-কাগজপত্র

Link Copied!

CU-gateচবি প্রতিনিধি : প্রায় ১৭৫৪ এক জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয় দেশের দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলের শ্রেষ্ঠ উচ্চশিক্ষা বিদ্যাপীঠ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি)। বিশাল এ ভূমির বিভিন্ন প্রান্তে নির্মাণ করা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ, ইনিস্টিটিউটসহ গবেষণা কেন্দ্র।
এ ছাড়াও শিক্ষার্থীদের চাহিদা অনুযায়ী আবাসন ব্যবস্থা না থাকায় যোগাযোগের সুবিধার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের বিভিন্ন এলাকার কটেজ ও মেসে থাকতে হয় শিক্ষার্থীদের। আর এসব স্থান থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ-ইনিস্টিটিউটে অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের মাধ্যম হলো রিকশা, বিদ্যুৎচালিত টমটম ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা। চালকদের বেপরোয়া প্রতিযোগিতার কারণে বার বার দুর্ঘটনা শিকার হচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা।
এর আগে ছোটখাট দুর্ঘটনা ঘটলেও শুক্রবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নম্বর গেট এলাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় গুরুতর আহত হন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী সুমিত মিত্র।
আহত ওই শিক্ষার্থী রাস্তার পাশ ধরে হাঁটার সময় বেপরোয়া গতিতে আসা সিএনজি অটোরিকশার ধাক্কায় তার মস্তিষ্ক আঘাতপ্রাপ্ত হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে তাকে স্থানীয় গ্রীন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে অবস্থার অবনতির কারণে রাতেই তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের পাঠানো হয়। সেখান থেকে রাতে ৯টার দিকে তাকে আবার নগরীর বেসরকারি হাসপাতাল সিএসসিআরে স্থানান্তর করা হয়। শনিবার দুপুরে তাকে আবার চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে বলে জানান তার সহপাঠীরা।
জানা যায়, ২০১৩ সালের মে মাসে ছোট বাস তরী ও সিএনজি অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে গোলাম মাওলা নামের এক শিক্ষার্থী নিহত হন। এরপর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছোট বাস তরী প্রবেশ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর একটি চক্র বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের জন্য সিএনজি অটোরিকশা চালু করে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, এসব সিএনজির চালকরা আগে রিকশাচালক ছিলেন। এদের বেশি ভাগেরই নেই লাইসেন্স, নেই গাড়ির কাগজপত্রও। নেই কোনো প্রশিক্ষণও। স্থানীয় প্রভাবশালী চক্রের অনুমতি নিয়েই কোনো লাইসেন্স বা কাগজপত্র ছাড়াই নির্বিঘ্নে চলছে সিএনজি অটোরিকশা। স্থানীয় প্রভাবশালীদের দাপটে সিএনজিচালকরা বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালিয়ে পার পেয়ে যাচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তরী প্রবেশ না করায় নগরীতে যাতায়াতের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের বেশি ভাড়া গুনতে হয়। এরপর বিভিন্ন সময় শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে তরী প্রবেশের দাবি জানালেও সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকদের ওই চক্রের প্রভাবে ক্যাম্পাসে তরী প্রবেশ করতে পারছে না।
এ ছাড়াও রাতের বেলা বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ আছে তাদের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে কিছু বলাও যায় না তাদের। এর আগে বেশ কয়েকবার কথা কাটাকাটির জের ধরে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মারধরের ঘটনাও ঘটে। এ চক্রের কাছে এক রকম জিম্মি দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা।
এ বিষয়ে জানতে চট্টগ্রাম সিএনজি অটোরিকশার চালক ইউনিয়নের বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস শাখার যুগ্ম সম্পাদক খোরশেদ আলম জানান, শুক্রবার যে সিএনজির দ্বারা দুর্ঘটনা হয়েছে সেটি আমাদের লাইনের নয়, বাইরের সিএনজি।
বেশিরভাগ চালকের লাইসেন্স নেই কেন? জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরকার আমাদের লাইসেন্স না দিলে কি করব! এখানে বিটিআরসি থেকে ব্যাংক ড্রাফটের মাধ্যমে রানিং পেপার দিয়ে অনেকে সিএনজি চালাচ্ছে। তবে অনেক চালকের লাইসেন্স না থাকলেও তারা সবাই প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বলেও দাবি করেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আলী আজগর চৌধুরী জানান, যেসব সিএনজি অটোরিকশার লাইসেন্স বা কাগজপত্র নেই এ ব্যাপারে চালক ইউনিয়নকে কয়েক দফা সতর্ক করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুলিশকে অনুরোধ করা হয়েছে।
ট্রাফিক বিভাগ নিয়মিত আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছে জানিয়ে হাটহাজারী থানা তদন্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান জানান, যেসব গাড়ির কাগজপত্র বা চালকের লাইসেন্স নেই তাদের বিরুদ্ধে ট্রাফিক বিভাগ নিয়মিত মামলা দিচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আলাদা করে দেখার কিছু নেই। কাগজপত্রের সমস্যা বা লাইসেন্স না থাকলেই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।