আন্তর্জাতিক ডেস্ক : সিরিয়ায় বিদ্রোহীদের দখলকৃত আলেপ্পো শহরে গত কয়েক মাসের মধ্যে সবচেয়ে ব্যাপক বিমান হামলা চালানো হয়েছে। বুধবার রাতভর সরকারি বাহিনী ও রাশিয়ার যুদ্ধবিমান এ হামলা চালিয়েছে। এ হামলায় সর্বশেষ ৪৫ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে।
২০১২ সাল থেকে আলেপ্পো শহরের দুটি অংশ সরকারি ও বিদ্রোহীদের দখলে রয়েছে। সিরিয়ার এই বাণিজ্যিক ও শিল্প নগরীর পশ্চিম অংশ সরকারি বাহিনী ও পূর্ব অংশ বিদ্রোহীদের দখলে রয়েছে। অবরুদ্ধে আল্পোবাসীর জন্য গত মঙ্গলবার জাতিসংঘ ত্রাণবাহী ৩২টি গাড়ি পাঠায়। কিন্তু বিমান হামলায় বহরের ১৮টি গাড়ি বিধ্বস্ত হয় এবং ১৩ জন নিহত হয়। এ ঘটনার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়াকে দায়ী করে আসছে। কিন্তু রাশিয়া এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। বুধবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি রাশিয়াকে আলেপ্পো এলাকায় বিমান উড্ডয়ন নিষিদ্ধের আহ্বান জানিয়েছে যাতে সেখানে ত্রাণবাহী গাড়ি নিরাপদে পাঠানো সম্ভব হয়।
বুধবার রাতভর পূর্ব আলেপ্পোতে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। বিদ্রোহীদের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, সরকারি বাহিনী ও রাশিয়া যৌথভাবে এ হামলা চালিয়েছে। বিদ্রোহীদের দখলে থাকা পূর্ব আলেপ্পোর বেসামরিক প্রতিরক্ষা উদ্ধার সেবা বিভাগের প্রধান আম্মার আল সেলমো বলেন, মনে হচ্ছিল যুদ্ধবিমান ও গোলন্দাজ ইউনিটের সঙ্গে সমন্বয় করে এ হামলা চালানো হয়েছে। কারণ যেখানে বিমান হামলা চালানো হচ্ছিল ঠিক সেখানেই আবার গোলন্দাজ বাহিনী গোলা নিক্ষেপ করছিল।
সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটসের প্রধান রামি আব্দুর রহমান বলেছেন, ‘কয়েক মাসের মধ্যে এটি ছিল আলেপ্পো শহরে সবচেয়ে তীব্র হামলা।’
আলেপ্পোর বিদ্রোহী গ্রুপ লেভান্ট ফ্রন্টের এক কর্মকর্তা বলেছেন, ‘ রাশিয়ানরা কেবল আত্মসমর্পণ চায়। তাদের কাছে অন্য কোনো সমাধান নাই।’

