স্পোর্টস ডেস্ক : দেশের মাটিতে প্রথম বারের মতো এক ম্যাচ হাতে রেখেই ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করলো বাংলাদেশ। স্বাগতিক তিন স্পিনারের ঘূর্ণিতে ৩১৩ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে ১৫১ রানেই গুটিয়ে যায় জিম্বাবুয়ের ইনিংস।
২০০৫ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১-০ ব্যবধানে দেশের মাটিতে টেস্ট সিরিজে জয় করেছিল বাংলাদেশ। সেবার চট্টগ্রামে প্রথম ম্যাচে জয়ের পর ঢাকায় দ্বিতীয় ম্যাচে ড্র করেছির স্বাগতিকরা।এরপর সর্বশেষ ২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশ ইতিহাসে প্রথমবার ২-০ তে টেস্ট জয় পায়। তবে সেটি ছিল ওয়েস্টে ইন্ডিজের মাটিতে। তাও সেবার পূর্ণ শক্তির ওয়েস্ট ইন্ডিজ খেলেনি। তাই টাইগাররা ঘরের মাঠে প্রথম ২-০ তে টেস্ট জয়ের প্রথম ইতিহাস গড়ল জিম্বাবুয়েকে দ্বিতীয় টেস্টে হারানোর মাধ্যমেই।
দ্বিতীয় ইনিংসে ৩১৩ রানে লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে স্বাগতিক স্পিনারদের কব্জির ভেল্কিতে ১৫ রানেই তিন উইকেট হারায় সফরকারীরা। তবে তারপর মাসাকাদজার হাফসেঞ্চুরিতে ড্রয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে জিম্বাবুয়ানরা। কিন্তু সাকিব আল হাসানেদের দুরন্ত স্পিনে সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেয়নি।
জুবায়ের হোসেনের লেগ স্পিনে মাসাকাদজার চাকাভা ও অরভিনের সঙ্গে গড়ে তোলা জুটি ভাঙে। চাকাভা ২৭ ও অরভিন ২১ রান করার পর জুবায়ের হোসেনের শিকার হয়ে ফিরেন। এর আগে রাজা ও টেইলর সাকিবের স্পিনের শিকার হন। আর চারিকে মাত্র চার রানে আউট করে ইনিংসেরশুভসূচরা করেছিলেন তাইজুল।
তারপরও মাসাকাদজা যেভাবে খেলছিল তাতে পাঁচ উইকেটে বিশ পঁচিশ ওভার কাটিয়ে দেয়াটা কঠিন কিছু মনে হচ্ছিল না। তবে সফরকারীদের রান যখন ১৩৭ হলো, তখনরই বাংলাদেশের জয়ের পথে দেয়াল হয়ে দাঁড়ানো মাসাকাদজাকেও ফেরান সাকিব।
মাসাকাদজা ঘরে ফেরার আগে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৬১ রান করেন। পাঁচটি বাউন্ডারি ও এক ছয় দিয়ে সাজানো ছিল তার ইনিংস। তবে তার আউটের পর আর কাউকে দাঁড়াতে দেয়নি স্বাগতিক স্পিনাররা। একে একে বাড়ি বাড়ি ফিরেন ওয়েলার (৪), চিগুম্বুরা (১২), সোয়াঙ্গি (০) ও চাতারা (০)। ফলের ১৫১ রানেই থেমে যায় সফরকারীদে ইনিংস। ফলে ১৬২ রানের বড় জয় পায় লাল সবুজের প্রতিনিধিরা।
সাকিব আল হাসান সর্বোচ্চ পাঁচ উইকেট নেন। তাইজুল ইসলাম ৩ উইকেট ও জুবায়ের হেজাসেন ২ উইকেট শিকার করনে।
এর আগে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে করা ৪৩৩ রানের জবাবে ৩৬৮ রান করে জিম্বাবুয়ে। দ্বিতীয় ইনিংসে নয় উইকেটে ২৪৮ রান করে ইনিংস ঘোষণা করে। ফলে ৩১৩ রানের লিড পায় স্বাগতিকরা। বাংলাদেশের পক্ষে প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করেন সাকিব ও তামিম। দ্বিতীয় ইনিংসে হাফ সেঞ্চুরি করেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ও শুভাগত হোম। দুই ইনিংসে দশ উইকেট ও এক সেঞ্চুরিতে ম্যাচ সেরা হন সাকিব আল হাসান।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ৪৩৩/১০, তামিম ইকবাল ১০৯, সাকিব আল হাসান ১৩৭, মুমিনুল হক ৩৫, মাহমুদউল্লাহ ৫৬ ও তাইজুল ৩২। পানিয়াঙ্গারা ৪৯/২, চাতারা ৬১/২, ওয়েলার ৬৫/২।
বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস: ২৪৮/৯, মুমিনুল হক ৫৪, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ৭১,শুভাগত হোম ৫০। (লিড ৩১৩)
জিম্বাবুয়ের প্রথম ইনিংস: ৩৬৮/১০, মাসাকাদজা ১৫৮, চাকাভা ১০১, টেলর ৩৭। সাকিব আল হাসান ৮০/৫, তাইজুল ইসলাম ৯৬/৩ রুবেল হোসেন ৫৫/২২।
জিম্বাবুয়ের দ্বিতীয় ইনিংস: ১৫১/১০ (মাসাকাদজা ৬১, চাকাভা ২৭ ও অরভিন ২১, সাকিব ৪৪/৫, তাইজুল ৪৪/৩, জুবায়ের ৪২/২ )

