আন্তর্জাতিক ডেস্ক : তুরস্কে বিয়ের অনুষ্ঠানে বোমা হামলায় অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে অন্তত ৯৪ জন । দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ গাজিয়ানতেপে শনিবার গভীর রাতে এ বোমা হামলা চালানো হয়।
গত ১৫ জুলাই দেশটিতে ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানচেষ্টার পর প্রথমবারের মতো এ বোমা হামলার ঘটনা ঘটল। সিরিয়ার সীমান্তসংলগ্ন প্রদেশটির সাহিনবে জেলায় চালানো এ বোমা হামলাটি আত্মঘাতী বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গাজিয়ানতেপের গভর্নর আলি ইয়েরলিকায়া এক বিবৃতিতে বলেছেন, বিয়ের অনুষ্ঠানে ন্যক্কারজনক বোমা হামলায় ৩০ জন নিহত এবং ৯৪ জন আহত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে নিহতের সংখ্যা ২২ বলে জানানো হয়েছিল।
তিনি বলেন, ‘যারা এ হামলা পরিচালনা করেছে এবং হামলা চালিয়েছে, সেই সব বিশ্বাসঘাতকদের প্রতি আমরা নিন্দা জানাই।’ দোষীদের বিচারের আওতায় আনা হবে বলেও জানান তিনি।
ক্ষমতাসীন জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির (একেপি) আইনপ্রণেতা মেহমেত এরদোয়ান জানিয়েছেন, হামলার জন্য কারা দায়ী তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে এটি আত্মঘাতী হামলা হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। ইসলামিক স্টেট (আইএস) অথবা কুর্দি গেরিলারা এ ধরনের হামলা চালিয়ে থাকে।
সাহিনবে জেলার যে স্থানটিতে হামলা চালানো হয়েছে সেখানকার অধিকাংশ বাসিন্দাই কুর্দি। আর বিয়ের অনুষ্ঠানের অধিকাংশ অতিথিই ছিলেন কুর্দি। তাই হামলাকারী হিসেবে আইএসের দিকেই সন্দেহের মাত্রাটা বেশি ।
গাজিয়ানতেপের পার্লামেন্ট সদস্য সামিল তায়ার বলেন, ‘প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী ধারণা করা হচ্ছে দায়েশ (আইএস) এ হামলা চালিয়েছে।’
গত বছর থেকে তুরস্কে ধারাবাহিক বোমা হামলা হচ্ছে। গত জুনে ইস্তাম্বুলের আতাতুর্ক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তুরস্কের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ বোমা ও বন্দুক হামলা হয়েছে। এতে ৪০ জনের বেশি নিহত এবং ২০ জন আহত হয়েছিল।

