কুষ্টিয়া প্রতিনিধি : শনিবার সকাল সাড়ে ৯টা। সবে মাত্র স্কুলের ঘণ্টা পড়েছে। প্যান্ট হাঁটুর ওপরে তুলে স্যান্ডেল হাতে নিয়ে একহাঁটু পানির মধ্য দিয়ে স্কুল ভবনে ঢুকছে শিক্ষার্থীরা।
কোথায় পা ফেলছে? কোন দিকে ফেলতে হবে পা সেদিকে তাদের খেয়াল নেই। কারণ চারটি গ্রামের একমাত্র স্কুলের প্রাঙ্গন এখন পানিতে থৈ থৈ করছে। স্কুলের খেলার মাঠ কয়েকদিন আগেই তলিয়ে গেছে পানিতে।
এই দৃশ্য বন্যাকবলিত কোনো এলাকার স্কুলের নয়। কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার প্রত্যন্ত কুর্শা ইউনিয়নের নওদাকুর্শা, বেশিনগর, ছাতিয়ান ও রামনগর এই চার গ্রামের এক মাত্র প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চিত্র।
গত কয়েকদিন ধরে হালকা ও ভারী বৃষ্টি হয়েছে। তাতেই এ অবস্থার সৃষ্টি। বর্তমানে প্রায় পাঠদানের অযোগ্য হয়ে পড়েছে বিদ্যালয়টি। এটি শুধু এ বছরের চিত্র নয়, প্রতিবছর বর্ষাকালে একই রকম চিত্র দেখতে হয় বলে জানান স্থানীয়রা।
এলাকার স্থানীয় কয়েকজন জানান, একটু বেশি বৃষ্টি হলেই এই স্কুলের মাঠ ডুবে যায়। বৃষ্টির পানি উঠে যায় স্কুলের ক্লাসরুমে। পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকার কারণে এ রকম হয়।
তারা আরো জানান, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে যেকোনো সময় বড় ধরনের কোন দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
এদিকে অভিভাবকরা বিদ্যালয়ের মাঠের এ অবস্থা হওয়ায় ছেলে-মেয়েদের বিদ্যালয়ে পাঠিয়ে স্বস্তি পান না।
অভিভাবক আলমগীর হোসেন জানান, আমার ছোট মেয়ে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে। সে মাঠে পানি থাকায় স্কুলে যেতে চায় না। সেই সঙ্গে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে এজন্য আমিও চিন্তায় থাকি।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নাজমুল হক জানান, এই বিদ্যালয়ে বর্তমানে প্রায় ২৫০ জন শিক্ষার্থী লেখাপড়া করছে। গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে বিদ্যালয়ের মাঠ পানিতে ডুবে গেছে। এতে বিদ্যালয়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি আরো জানান, যদি দ্রুত এ সমস্যার সমাধান না করা হয়, তবে বিদ্যালয়টি ক্লাস করানোর উপযোগী থাকবে না। সেই সঙ্গে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পানিবাহিত রোগের প্রার্দুভাব বেড়ে যেতে পারে।
এ ব্যাপারে মিরপুর প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জালাল উদ্দিন জানান, বিষয়টা শুনেছি। এ ব্যাপারে ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান জানান, দ্রুত এ জলাবদ্ধতা দূরীকরণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

