আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইথিওপিয়ার বিরোধীদল দাবি করেছে, ওরোমিয়া অঞ্চলে বিক্ষোভ চলাকালে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে ৩০ বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন।
বিরোধীদলের কর্মকর্তাদের দাবি, ভূমি অধিগ্রহণে সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ ইস্যুতে রোববার বিক্ষোভে নেমে প্রাণ হারিয়েছেন তারা।
পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও পথরোধ করে বিক্ষোভকারীদের রুখে দেওয়ার চেষ্টা করে। ওরামিয়ো অঞ্চলের কয়েকটি শহরে যাতায়াতের সকড়ও বন্ধ করে দেওয়া হয়। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া বিক্ষোভের ডাকে সাড়া দিয়ে পথে নামেন বিক্ষোভকারীরা।
এ বছরের জানুয়ারি মাসে ওরোমিয়া রাজ্যের রাজধানীর উন্নয়নের কথা বলে আবাদি জমি অধিগ্রহণের ঘোষণা দেয় সরকার। কিন্তু স্থানীয় জনগণ এর বিরোধিতা করে এবং তা বিক্ষোভে রূপ নেয়। তারপর সরকার সিদ্ধান্ত বাতিল করে। কিন্তু এ ইস্যুতে বিরোধীদলের বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে আটক-গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত থাকায়, তা ক্ষোভের সঞ্চার করে। সরকারের দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে রোববার আবার পথে নামেন তারা।
রোববারের বিক্ষোভে সরকারবিরোধী স্লোগান দেওয়া হয় এবং ভিন্নমতাবলম্বীদের পতাকা উড়ানো হয়। কেউ কেউ কারাবন্দি বিরোধীদলীয় নেতাদের মুক্তির দাবি তোলেন।
বিরোধীদল ওরোমো ফেডারেলিস্ট কংগ্রেসের ডেপুটি চেয়ারম্যান মুলাটু গেমেচু বলেছেন, ‘নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে নিহত ৩০ বিক্ষোভকারীর একটি তালিকা তৈরি করেছি আমরা। এর মধ্যে পুলিশ ও সেনাসদস্যও আছে।’
ওরোমিয়া অঞ্চলের আম্বো, ডেম্বি দোলো এবং নেকেমতসহ কমপক্ষে ১০টি শহরে বিক্ষোভকালে নিহতের ঘটনা ঘটে। এসব শহর এর আগেও বিক্ষোভে ফুঁসে ওঠে।
মুলাতু আরো জানিয়েছেন, ২৬ বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন এবং বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের দলে তিনজনকে আটক করা হয়েছে।
এদিকে রয়টার্স জানিয়েছে, এসব তথ্যের বিষয়ে সরকারের পক্ষে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
রাষ্ট্রীয় মালিকাধানী ইথিওপিয়ান নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, অশান্তি সৃষ্টিকারীরা অবৈধ বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে, কিন্তু পরিস্থিতি এখন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে। তবে এতে হতাহতের বিষয়ে কিছু বলা হয়নি।
ভৌগোলিক কারণে ইথিওপিয়াকে বলা হয়, আফ্রিকার শিং। দেশটির ৯টি প্রশাসনিক অঞ্চল বা রাজ্য রয়েছে। এর মধ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তম রাজ্য হলো ওরোমিয়া।

