অর্থনৈতিক প্রতিবেদক : ব্যবসায়ীনেতা ও ডাচ বাংলা চেম্বার অব কমার্স ইন্ডাস্ট্রির (ডিবিসিসিআই) সভাপতি মো. খালেদ হাসানের হত্যার ঘটনায় শঙ্কিত ব্যবসায়ীরা। এ ঘটনার দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন বিভিন্নস্তরের উদ্যোক্তারা।
তাদের মতে, একের পর এক জঙ্গি হামলার ফলে দেশের সার্বিক অবস্থা বিনিয়োগবিমুখ। এর মধ্যে একটি আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ী সংগঠনের সভাপতিকে হত্যার ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ব্যবসায়ীরা। তারা মনে করছেন এ ঘটনার নেতিবাচক প্রভাব দেশের রপ্তানিখাতে।
রাজধানীর ধানমনণ্ডি থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজের পর মঙ্গলবার (২৬ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে কেরানীগঞ্জ থানার বুড়িগঙ্গা নদীতে মো. খালেদ হাসানের লাশ পাওয়া যায়। এরপরে তাৎক্ষণিক এক প্রতিক্রিয়ায় পোশাক শিল্প মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘এসব ঘটনা শুধু ব্যবসায়ীদের জন্য নয়, সবার জন্যই হুমকি স্বরূপ।’
তিনি বলেন, ‘একজন আন্তর্জাতিক উদ্যোক্তাকে এমনভাবে হত্যা করা হয়েছে, যা স্বাভাবিকভাবে মেনে নেয়া যায় না। সরকারের উচিত এ ঘটনার সঠিক তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা। তা নাহলে তৈরি পোশাকসহ আমদানি-রপ্তানির ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।’
ব্যবসায়ী এ নেতার লাশের সন্ধান পাওয়ার কিছুক্ষণ পরেই একটি বিবৃতি দেয় ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই। এতে বলা হয়, ‘হাসান খালেদের আকস্মিক নিঁখোজ হওয়া এবং মর্মান্তিক মৃত্যুতে এফবসিসিআিই নেতৃবৃন্দ গভীর নিন্দা জানাচ্ছে। একইসঙ্গে তার পরবিাররে সদস্যদের প্রতি গভীর সমবদেনা ও মরহুমের বিদেহি আত্মার মাগফেরাত কামনা করেছেন ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত ও দায়ত্বিশীল পদক্ষপে গ্রহণের মাধ্যমে অল্প সময়রে মধ্যইে দোষীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায় এফবিসিসিআই।
এ প্রসঙ্গে মঙ্গলবার কথা হয় দেশের একাধিক ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সঙ্গে। তাদের মধ্যে একজন কেপিসি ইন্ড্রাস্ট্রিজের স্বত্তাধিকারি কাজী সাজেদুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে একজন উদ্যোক্তা হওয়া সবচেয়ে কঠিন কাজ। আর সেই কাজে সফল একজন ব্যবসায়ী নেতাকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা আমাদের জন্য দুঃখজনক। জঙ্গি হামালার মত ঘটনায় এমনিতেই আমরা ইমেজ সঙ্কটে ভুগছি। সেই মুহূর্তে আন্তর্জাতিক একটি চেম্বারের সভাপতি খুনের মতো এ ঘটনা ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।’
দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি মূল্যায়ন করতে গিয়ে নিজের শঙ্কা ও উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে আরেক ব্যবসায়ী নেতা ও বাংলাদেশ ফটোগ্রাফিক এসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি আক্কাস মাহমুদ মুঠফোনে বলেন, ‘এখন মানুষ দেখলেই যেন ভয় লাগে। কখন কে যেন আমাকেই আক্রমণ করে। দেশের টেকসই উন্নয়নে সবচেয়ে জরুরি নিরাপত্তা। নিরাপত্তাহীনতার মধ্য দিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য করা সম্ভব নয়।’
এসময় তিনি ডিবিসিসিআই সভাপতি খালেদ হাসানের হত্যাকাণ্ডের দ্রুত ও সঠিক বিচারের দাবি জানান।
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ব্যবসায়ী এই নেতা দীর্ঘদিন ধরে তৈরি পোশাক আমদানি-রপ্তানির ব্যবসা করেন। হংকংভিত্তিক ‘ক্রকোডাইল গার্মেন্টস’-এর বাংলাদেশি পরিবেশক। রাজধানীর নিউ ইস্কাটনে তার দুটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় রয়েছে।
ধানমণ্ডির বাসা থেকে অফিসে যাওয়ার পথে তিনি নিখোঁজ হন। গত রোববার (২৪ জুলাই) সকালে ধানমণ্ডি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন নিখোঁজের পরিবার। প্রতিষ্ঠিত এই ব্যবসায়ী খালেদের বাসা ধানমণ্ডির ৪/এ এলাকায়, বাসা নম্বর ৪৫-এ।

