ঢাকাTuesday , 12 July 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মরমী কবি পাগলা কানাইয়ের ১২৭তম মৃত্যুবার্ষিকী

Link Copied!

kanai-ঝিনাইদহ প্রতিনিধি : ‘কী মজার ঘর বেঁধেছে, হায়রে ঘর বাইন্ধাছে, দুই খুঁটির উপর’, ‘জিন্দা দেহে মুরদা বসন, থাকতে কেন পরনা, মন তুমি মরার ভাব জানো না, মরার আগে না মরিলে পরে কিছুই হবে না/ আমি মরে দেখেছি, মরার বসন পরেছি, কয়েকদিন বেঁচে আছি, তোরা দেখবি যদি আয় পাগলা কানাই বলতেছি।’ এরকম অসংখ্য দেহতত্ত্ব, জারি, বাউল, মারফতি, ধূয়া, মুর্শিদী গানের রচয়িতা মরমী কবি পাগলা কানাইয়ের ১২৭তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ।
এ উপলক্ষে কবির জন্মভিটা ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বেড়বাড়ি গ্রামে পাগলা কানাই স্মৃতি সংরক্ষণ সংসদ নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।
অনুষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে সকাল ৯টায় কবির মাজারে পুষ্পমাল্য অর্পণ, সাড়ে ৯টায় আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিল। দুপুর ২টায় দুস্থদের মধ্যে খাবার বিতরণ ও বিকেল সাড়ে ৫টায় কবি রচিত গানের অনুষ্ঠান।
ঝিনাইদহের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আবু ইউসুফ মো. রেজাউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জেলা প্রশাসক মাহবুব আলম তালুকদার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন পুলিশ সুপার আলতাফ হোসেন, জেলা পরিষদ প্রশাসক আব্দুল ওয়াহেদ জোয়ার্দ্দার, জেলা পরিষদ সচিব মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান।
শুভেচ্ছা বক্তব্য দেবেন পাগলা কানাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান একেএম নজরুল ইসলাম ও পাগলা কানাই স্মৃতি সংরক্ষণ সংসদের যুগ্ম সম্পাদক ইব্রাহিম জামান। আলোচক থাকবেন পাগলা কানাই স্মৃতি সংরক্ষণ সংসদের কোষাধ্যক্ষ আক্কাস আলী। অনুষ্ঠানে সকলকে উপস্থিত থাকার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. আব্দুর রশিদ।
উল্লেখ্য, লোক-সাধনা ও মরমী সঙ্গীতের এ কবি ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বেড়বাড়ি গ্রামে বাংলা ১২১৬ সালের ২৫ ফাল্গুন জন্মগ্রহণ করেন এবং আজকের এদিনে বাংলা ১২৯৬ সালের ২৮ আষাঢ় তিনি এ ধরাধাম ত্যাগ করেন।
ইতিহাস থেকে জানা যায়, ছোটবেলা থেকেই তিনি দূরন্ত ও আধ্যাত্মিক স্বভাবের ছিলেন। বাল্যকালে পিতৃহারা পাগলা কানাইয়ের ঘরে মন না টেকায় অর্থের অভাবে পড়ালেখা হয়নি। তিনি মানুষের বাড়ি রাখালের কাজ করেছেন।
গরু চরাতে গিয়ে ধুয়ো জারি গান গাইতেন। নিরক্ষর হলেও তার স্মৃতি, মেধা ছিল প্রখর। তিনি উপস্থিত বুদ্ধি দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে গান রচনা করে নিজ কণ্ঠে পরিবেশন করতেন। তার সঙ্গীতে তিনি যেমন ইসলাম ধর্মের তত্ত্বকে প্রচার করেছেন তেমনি হিন্দু-পুরান রামায়ণ ও মহাভারত থেকেও নানা উপমার প্রয়োগ ঘটিয়েছেন। এ কারণেই তার গান সর্বজনীনতা লাভ করে। তার মধ্যে বাউল ও কবিয়াল এ দুয়ের যথার্থ মিলন ঘটেছে। পাগলাকানাইয়ের অসংখ্য গান গ্রামগঞ্জে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।
পাগলা কানাই সম্পর্কে কাঙাল হরিনাথ (১ম খণ্ড) গ্রন্থে জলধর বাবু বলেছেন, ‘কানাইয়ের গান শুনলে লোকে পাগল হইয়া যায়।
তার মতে, দেহ জমি চাষ না করলে সেখানে ফসল হয় না। পাগলা কানাই এক পদে বলেছেন-
‘শোন বলিরে ওমন চাষা
নিজেই হলি বুদ্ধিনাশা
জমি আবাদ না করে হইল কি দুঃখ দশা
ধান না বুনে বুনলি চিনে….।’
এ পর্যন্ত পাগলা কানাই রচিত গানের মধ্য মাত্র শ’তিনেক সংগৃহীত হয়েছে।
মুহম্মদ মনসুর উদ্দীন, ড, মাযহারুল ইসলাম, আবু তালিব, আমিন উদ্দিন শাহ, দুর্গাদাস লাহিড়ী, উপেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য মনীষীরা পাগলা কানাইয়ের গানের সংগ্রহ ও গবেষণা করেছেন।