ঢাকাSunday , 10 July 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ঢিলেঢালা নিরাপত্তায় চলছে ঢাকার সিনেমা হল

Link Copied!

jonakiনিজস্ব প্রতিবেদক : ঈদে গতানুগতিক ও ঢিলেঢালা নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়েই চলছে রাজধানী ঢাকার অধিকাংশ সিনেমা হল। গুলশানের রেস্টুরেন্ট ও কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় সন্ত্রাসী হামলার পরেও সিনেমা হলগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। হল কর্তৃপক্ষের নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থাতেই চলছে সিনেমা হলগুলো। সরকারি নিরাপত্তা কোথাও দৃশ্যমান হয়নি।
হলে প্রবেশের ক্ষেত্রে অধিকাংশ পুরুষ দর্শকের শরীর তল্লাশি করা হলেও নারী সিকিউরিটি না থাকায় শরীর তল্লাশি ছাড়াই সিনেমা হলগুলোতে প্রবেশ করছে নারী দর্শকরা। তবে মাঝে-মধ্যে তাদের ভ্যানিটি ব্যাগ চেক করা হচ্ছে। এককথায় হলের নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থায়ও শৈথিল্য ভাব লক্ষ্য করা গেছে। তবে দর্শকদের মধ্যে তেমন কোনো ভীতি দেখা যায়নি।
বন্ধু-বান্ধবসহ তারা আনন্দেই সিনেমা দেখতে হলে প্রবেশ করছেন। গুলশানের হামলা তাদের মধ্যে কোনো প্রভাবই ফেলেনি। এমনকি ময়মনসিংহের সিনেমা হলে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার কথাও তারা ভুলে গেছে। শনিবার ফার্মগেটের আনন্দ ও ছন্দ, কাওরান বাজারের পূর্ণিমা এবং মতিঝিলের মধুমিতা-এই চারটি সিনেমা হল ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
দুপুর আড়াইটার দিকে ফার্মগেটের আনন্দ ও ছন্দ সিনেমার হলের সামনে গিয়ে দেখা গেল, ঈদ সত্ত্বেও দর্শক খরায় ভুগছে হল দু’টি। বিকেল তিনটায় দ্বিতীয় শো শুরু হওয়ার কথা। আনন্দ সিনেমা হলে চলছে নতুন ছবি ‘দ্যা মেন্টাল’, আর ছন্দতে চলছে পুরানো ছবি ‘চোরের রাণী’। আধা ঘন্টা অবস্থানকালে দেখা গেল, টিকিটি ব্যবস্থা প্রায় পুরোটাই কালো বাজারিদের নিয়ন্ত্রণে। মাঝে-মধ্যে দর্শক আসলেও হলের টিকিট কাউন্টারে পৌঁছানোর আগেই কালোবাজারিরা তাদের ভজিয়ে ফেলছে। ফলে বেশি দামে টিকিট কিনে দর্শকদের হলে প্রবেশ করতে হচ্ছে। দেখার যেন কেউ নেই, এটাই যেন নিয়ম!
এমন দু’জন টিকিট বিক্রেতা পঞ্চাশোর্ধ্ব শাহ আলম ও ইব্রাহিম হোসেনের সঙ্গে হল দু’টির নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে এই প্রতিবেদকের কথা হলো। তারা জানালেন, গুলশানের রেস্টুরেন্টে সন্ত্রাসী হামলার পর ঈদে বাড়তি সতর্কতা গ্রহণ করতে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে হল কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে। সে অনুযায়ী গেইটে প্রত্যেকের শরীর ও ব্যাগ তল্লাশির পর তবেই দর্শকদের হলের ভেতরে প্রবেশ করানো হচ্ছে।
সরকারের পক্ষ থেকে কোনো নিরাপত্তা দেয়া হয়েছে কিনা- জানতে চাইলে তারা বলেন, সার্বক্ষণিক কোনো পুলিশী নিরাপত্তা দেয়া হয়নি। তবে পুলিশ ও র‌্যাবের টহল গাড়ি এখানে অধিকাংশ সময়ই থাকে। এছাড়া কোনো সমস্যা হলে সঙ্গে সঙ্গেই তেজগাঁও থানাকে অবহিত করতে বলা হয়েছে।
পঞ্চাশোর্ধ্ব একজন লোক আনন্দ সিনেমা হল এবং সমবয়সী দুইজন লোক ছন্দ সিনেমা হলের গেইটের দায়িত্বে রয়েছেন। তারা পুরুষ দর্শকদের শরীর ও ব্যাগ তল্লাশি করছেন। তবে গেইটে কোনো নারী না থাকায় তারা নারী দর্শকদের শুধু ব্যাগই তল্লাশি করছেন। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে হল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের কথা বলেন। তবে কেউ উপস্থিত না থাকায় হল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
পার্শ্ববর্তী কাওরান বাজারের পূর্ণিমা সিনেমা হলে দুপুরের শো শুরু হয় বিকেল সাড়ে তিনটায়। ঈদ উপলক্ষে হলটিতে চলছে বাংলাদেশ-ভারতের যৌথ প্রযোজনার ছবি ‘শিকারী’। হল কর্তৃপক্ষের নিজস্ব নিরাপত্তার বাইরে তেমন কোনো পুলিশী নিরাপত্তা এখানেও দেখা যায়নি। তবে এখানে দর্শকের সংখ্যা আনন্দ ও ছন্দ সিনেমা হলের থেকে তুলনামূলক অনেক বেশি। এছাড়া টিকিটি ব্যবস্থায় কালোবাজারিদের সংখ্যাও কম।
হলে প্রবেশের গেইটে ত্রিশোর্ধ্ব ও পঞ্চাশোর্ধ্ব দুইজন লোক দর্শকদের দেহ ও ব্যাগ তল্লাশির কাজ করছেন। তবে তারা তল্লাশি করছেন নিজেদের খেয়াল-খুশিমতো। এখানেও গেইটে কোনো নারী নেই। ফলে দায়িত্বরতরা শুধু নারীদের ভ্যানিটি ব্যাগই চেক করছে।
গুলশানে সন্ত্রাসী হামলার প্রেক্ষিতে সিনেমা হলে নিরাপত্তার অভাব বোধ করছেন কিনা, গার্লফ্রেন্ড নিয়ে সিনেমা দেখতে আসা বিশোর্ধ্ব এক যুবকের কাছে এমন প্রশ্ন করলে উত্তরে তিনি বলেন, ‘আনন্দ করার জন্য সিনেমা হলে ছবি দেখতে এসেছি। এখানে নিরাপত্তা অভাব বোধ করব কেন? সরকার নিরাপত্তা দেবে।’
নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে পূর্ণিমা সিনেমা হলের ম্যানেজার আমির হোসেন বলেন, ঈদ উপলক্ষে আমরা আমাদের হলের নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছি। গেইটে প্রতিটি দর্শকের শরীর ও ব্যাগ ভালভাবে তল্লাশি করা হচ্ছে। ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। কারণ, দর্শকদের নিরাপত্তা আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গেইটে নারী নিরাপত্তা কর্মী না থাকার বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘গেইটে অচিরেই নারী নিরাপত্তা কর্মী দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে।’
দর্শকদের নিরাপত্তায় পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে হল কর্তৃপক্ষকে কোনো ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে পূর্ণিমা সিনেমা হলের এ ম্যানেজার বলেন, পুলিশের পক্ষ থেকে হলের নিজস্ব নিরাপত্তা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। তারা (তেজগাঁও থানা পুলিশ) একটি ফোন নম্বর দিয়ে গেছেন। কোনো ধরনের সমস্যা হলে সঙ্গে সঙ্গেই জানাতে বলেছেন। এছাড়া পুলিশ-র‌্যাবের টহল টিমও আছে। সিভিলেও গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন রয়েছেন।
পূর্ণিমা সিনেমা হলের মতো মতিঝিলের মধুমিতা সিনেমা হলেও চলছে ‘শিকারী’ ছবিটি। সন্ধ্যার শো শুরু হওয়ার কথা ৬টায়। বিকেল সাড়ে ৫টার সময় সেখানে গিয়ে দেখা যায়, দুপুরের শো শেষে দর্শকরা হল থেকে বেরিয়ে আসছেন। অন্যদিকে, টিকিট কাউন্টারের সামনে দর্শকদের লম্বা লাইন। উপচে পড়া ভীড়, যেন তিল ধারণের ঠাঁই নেই। দু’টি ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরায় দর্শকদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করছে হল কর্তৃপক্ষ। হলে প্রবেশের গেইটে দেখা গেলো, তিনজন পুরুষ ও একজন নারী নিরাপত্তা কর্মী দর্শকদের শরীর ও ব্যাগ তল্লাশি করছেন।
তবে গেইটে থাকা লাকী আক্তার নামের পঁয়ত্রিশোর্ধ্ব ওই নারী সব নারী দর্শকদের শরীর ও ব্যাগ তল্লাশি করছেন না। সাংবাদিক পরিচয়ে কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘১৫ বছর ধরে এই কাজ করছি। লোক দেখলে চিনরত পারি। সবার ব্যাগ চেক করা লাগে না।’
ম্যানেজারের সাথে কথা বলার উদ্দেশ্যে হলের ভেতরে প্রবেশ করে তাকে না পেয়ে একজন টিকিট চেকারের সাথে কথা হলো এই প্রতিবেদকের। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই টিকিট চেকার বলেন, ময়মনসিংহের সিনেমা হলে সন্ত্রাসী হামলার পর থেকেই মধুমিতা সিনেমা হলের নিজস্ব নিরাপত্তা বৃদ্ধি করে হল কর্তৃপক্ষ। নিরাপত্তার স্বার্থে নারী দর্শকদের শরীর তল্লাশির জন্য তখন থেকেই গেইটে এক নারী নিরাপত্তা কর্মীকে রাখে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া গেইটে একাধিক পুরুষ নিরাপত্তা কর্মীও রয়েছেন। তারা প্রত্যেকের শরীর ও ব্যাগ ভালভাবে তল্লাশি করে থাকেন। আর তখন থেকেই সিনেমা হলের সামনে পুলিশ-র‌্যাবের নিয়মিত পেট্রোল টিম থাকে, যেটা এখনো বহাল রয়েছে। সুতরাং দর্শকদের নিরাপত্তার শঙ্কায় ভোগার কোনো কারণ নেই।’
চল্লিশোর্ধ্ব এক পুরুষ স্ত্রীকে নিয়ে এসেছেন সিনেমা দেখতে। সিনেমা হলের মধ্যে কোনো ধরনের আতঙ্কে ভুগছেন কিনা- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘গুলশানে সন্ত্রাসী হামলার পরে নিজের মধ্যে কিছুটা আতঙ্ক কাজ করে। বিনোদনের জন্য সিনেমা দেখতে আসা। তাই এখানে তেমন কোনো আতঙ্কে ভুগছি না।’
প্রসঙ্গত, ঢাকার কূটনীতিকপাড়া গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে গত ১ জুন রাত পৌনে ৯টার দিকে একদল অস্ত্রধারী ঢুকে দেশি-বিদেশি অতিথিদের জিম্মি করে। প্রায় ১২ ঘণ্টা পর পরদিন সকালে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে কমান্ডো অভিযানের মধ্য দিয়ে রেস্তোরাঁর নিয়ন্ত্রণ নেয় নিরাপত্তা বাহিনী। সেখান থেকে ১৩ জন জিম্মিকে জীবিত উদ্ধার এবং ২০ জনের লাশ উদ্ধার করা হয় বলে আইএসপিআর জানায়।
অন্যদিকে, ২০০২ সালের ৭ ডিসেম্বর ময়মনসিংহ শহরের ৪টি সিনেমা হল অজন্তা, ছায়াবাণী, অলকা ও পূরবীতে একযোগে ভয়াবহ বোমা হামলা চালায় জঙ্গিরা। জেএমবির চালানো এ হামলায় ১৯ জন নিহত এবং আহত হয় শতাধিক মানুষ। সেদিন বোমা হামলায় পঙ্গু ২০ জন মানবেতর জীবন-যাপন করছেন।