নিউজ ডেস্ক : ইসলামি ধর্ম প্রচারক জাকির নায়েকের টেলিভিশন চ্যানেলটির সম্প্রচার বন্ধের পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার কথাও ভাবছে নয়াদিল্লি।
দিল্লিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সূত্র মতে, জঙ্গিদের কাছে জাকির নায়েকের টেলিভিশন চ্যানেলে প্রচারিত তার বিভিন্ন বক্তৃতার ক্লিপিংস মিলেছে। তাই অভিযোগ, টেলিভিশন সম্প্রচারে সন্ত্রাসবাদীদের উৎসাহিত করছেন এই ধর্ম প্রচারক। তাই তার চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধ তো বটেই, জাকিরের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও ভাবা হচ্ছে।
ওই সূত্রের কথায়, ইউএপিএ বা বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইনে তাকে গ্রেফতারের কথা ভাবা হচ্ছে ।
জাকির নায়েক আপাতত সৌদি আরবে রয়েছেন। সূত্রের খবর, সেখান থেকে দেশে ফিরলেই তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন ভারতীয় গোয়েন্দারা। মুম্বাইয়ে তার অফিসে ইতিমধ্যেই পুলিশ মোতায়েন হয়েছে।
আনন্দবাজার পত্রিকার খবরে বলা হয়, শনিবার একটি ভিডিও প্রকাশ করে এই ধর্ম প্রচারক অবশ্য দাবি করেছেন, বাংলাদেশ সরকারের কোনও মুখপাত্র তার বিরুদ্ধে জঙ্গিদের উৎসাহ দেওয়ার অভিযোগ করেননি। তিনি নিজে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করে এ বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছেন।
‘বাংলাদেশের টেলিভিশন দর্শকদের অর্ধেকের বেশি নিয়মিত আমার চ্যানেল দেখেন। দুনিয়ায় কোটি কোটি মানুষ আমার ভক্ত। তাদের আমি সন্ত্রাসে উৎসাহিত করি— এমন অভিযোগ কেউ করেন না।’
জাকিরের কথায়, দু’এক জন জঙ্গি তার ভক্ত হতেই পারে। কিন্তু তার জন্য তাকে দায়ী করাটা ‘শয়তানি’।
দিল্লিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই সূত্রের খবর, জাকিরের বিপুল জনসমর্থনের বিষয়টি মাথায় রেখে আট ঘাট বেঁধে এগোনো হচ্ছে। আর তাই জাকিরের বিরুদ্ধে তদন্তে ৯টি দল গঠন করছে মন্ত্রণালয়।
চারটি দল জাকিরের বক্তব্যের ভিডিও ও সিডি-র ফুটেজগুলি খতিয়ে দেখবে। তিনটি দল খতিয়ে দেখবে জাকিরের সোশ্যাল মিডিয়ার গতিবিধি। আর জাকিরের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট বিশ্লেষণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দু’টি দলের উপর।
জাকিরের স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার নামে পাঠানো অর্থ কোন খাতে খরচ করা হয়েছে বা বিদেশি অনুদান নেওয়ার ক্ষেত্রে আইন মানা হয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গত দশ বছরে জাকির কোন কোন দেশে গিয়েছেন, কাদের সঙ্গে দেখা করেছিলেন এবং সেই সফরের জন্য কারা টাকা ঢেলেছে, সেটাও রয়েছে তদন্তের আওতায়।
জাকিরের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ইসলামিক রিসার্চ ফাউন্ডেশনের কাজকর্মও যথেষ্ট সন্দেহজনক বলে মনে করছেন ভারতীয় গোয়েন্দারা। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানাচ্ছে, সৌদি আরবের মতো মুসলিম দেশগুলি থেকে বিশেষ উদ্দেশ্যে বিপুল পরিমাণে টাকা পাঠানো হচ্ছে জাকিরের সংস্থাকে। সমাজসেবার নামে যা ছড়িয়ে দেওয়া হয় গোটা দেশে।
এই তৎপরতার মধ্যেই রোববার জাকিরের বিরদ্ধে বিস্ফোরক তথ্য জানিয়েছে বিহার পুলিশ। তার বিরুদ্ধে এখনও পর্যন্ত ওঠা অভিযোগগুলি হল, ঢাকার গুলশানে হামলকারী দুই জঙ্গি ও হায়দরাবাদে ধৃত আইএস জঙ্গি এই ধর্ম প্রচারকের ভক্ত ছিল।
বিহার পুলিশ জানিয়েছে, পটনার গান্ধি ময়দান ও বুদ্ধগয়া বিস্ফোরণে ধৃত জঙ্গিদের কাছে ড. জাকিরের বক্তৃতার সিডি ও বই উদ্ধার করেছে ভারতের জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। ধৃতরা জানায়, তারা নিয়ম করে জাকিরের বক্তৃতা শুনতো। এমনকী ইন্ডিয়ান মুজাহিদিনের দ্বারভাঙা মডিউলের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত বাঢ় সামেলা গ্রামের লাইব্রেরি থেকেও এই ধর্ম প্রচারকের বক্তৃতার বহু সিডি ও বই উদ্ধার করে এনআইএ।

