ঢাকাFriday , 8 July 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

জাপানি নাগরিকদের দেখা মাত্রই হত্যা করে জঙ্গিরা

Link Copied!

gulshan-attack-2
ডেস্ক নিউজ : ঢাকার গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলাকারীরা জাপানি নাগরিকদের দেখা মাত্রই হত্যা করে বলে জানিয়েছেন রেস্টুরেন্টটির প্রত্যক্ষদর্শী এক কর্মচারী। ‘দ্য জাপান টাইমস’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব তথ্য জানান। বৃহস্পতিবার পত্রিকাটির অনলাইনে এ সাক্ষাৎকার প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে ওই কর্মচারীর পরিচয় উল্লেখ করা হয়নি। প্রাণের ভয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মচারী এ সাক্ষাৎকার দিয়েছেন বলে  প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
সাক্ষাৎকারের শুরুতে ওই কর্মচারী বলেন, ঘটনার দিন একজন জাপানি যুবকের সঙ্গে তিনিও রেস্টুরেন্টের কোল্ড রুমে (হিমাগার) লুকিয়ে ছিলেন। যদিও পরবর্তী সময়ে ওই জাপানি যুবককে গুলি করে হত্যা করা হয়।
ওই কর্মচারী ‘দ্য জাপান টাইমস’কে জানান, ঘটনার ঠিক আগে তিনি রেস্টুরেন্টের ভেতরে একজন কাস্টমারের জন্য পেস্তা আনতে গিয়েছিলেন। এ সময় তিনি ‘আল্লাহু আকবর’ ধ্বনির ও গুলির শব্দ শুনতে পান। তিনি আরও বলেন, মুহূর্তেই রেস্টুরেন্টের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পরে।  তিনি কোল্ড রুমের বাইরে তাকিয়ে দেখতে পান কয়েকজন মানুষ বন্দুক ও তলোয়ার হাতে চিৎকার করছে। রেস্টুরেন্টের গ্রাহকরা, যারা কিছুক্ষণ আগেই খাবার খেয়েছেন, বাঁচার জন্য দৌঁড়ে পালানোর চেষ্টা করছিলেন। এ সময় এক  জাপানি নাগরিক হামলাকারীদের কাছে বলছিলেন, তাকে যেন কোল্ডরুমে যেতে দেওয়া হয়। এর কিছুক্ষণ পর দুজন কোল্ডরুমের ঠাণ্ডা থেকে বাঁচতে উপুড় হয়ে শুয়ে পড়লেন এবং ভেতর থেকে রুমের দরজা বন্ধ করেন। যেন হামলাকারীরা ভেতরে আসতে না পারে। রাত সাড়ে ৮টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত তারা (জাপানিরা) নিজেদের মধ্যে নিচুস্বরে কথা বলছিলেন। এ সময় রেস্টুরেন্টের ওই কর্মচারী শুনতে পান একজন হামলাকারী বলে, ভালো করে খুঁজে দেখো, যেন একজনও বাকি না থাকে। প্রত্যক্ষদর্শী কর্মচারী আরও বলেন, একজন হামলাকারী রুমের দিকে এগিয়ে এলো। দুর্ভাগ্যজনকভাবে দরজার কাছে ওই দুজনকে দেখে ফেললো। এ সময় এই দুই জাপানি সর্বশক্তি দিয়ে কোল্ডরুমের দরজা আটকে রাখার চেষ্টা করেন। কিন্তু  হামলাকারীরা  দরজা খুলে ফেলে।
প্রত্যক্ষদর্শী আরও জানান, এই সময়  একজন হামলাকারী দরজার দিকে এগিয়ে আসে। তাকে চিনতে পারি। সে বাংলাদেশের একজন সিনিয়র রাজনীতিবিদের ছেলে। রোহান ইমতিয়াজ। সে আমাকে বলে,  ‘ভয়ের কোনও কারণ নেই, এখনই বেরিয়ে যাও।’  এরপর তিনি  হামাগুড়ি দিয়ে সিঁড়ির দিকে  এগিয়ে যান। যাওয়ার সময়  দেখেন,  ৪/৫ জাপানির লাশ পড়ে আছে। এ সময় তিনি শুনতে পান ইমতিয়াজ কোরআনের আয়াত তিলাওয়াত করতে করতে বলে, ‘আমরাও এখন মরতে প্রস্তুত।’
প্রত্যক্ষদর্শী ওই কর্মচারী বলেন, আমার সঙ্গে এক জাপানি যুবক ছিলেন। আমরা যখন এক সঙ্গে কোল্ডরুমের মধ্যে লুকিয়ে ছিলাম, তখন আমি তার নাম জিজ্ঞাসা করেছিলাম। কিন্তু এখন তা স্মরণ করতে পারছি না। যখন রেস্টুরেন্টের মধ্যে থেকে বেরিয়ে আসি, তখন ভেতরের টেবিল ও ক্যাফের বাইরে বিদেশিদের লাশ দেখেছি। তিনি আরও বলেন, এ সময় আঘাতের যন্ত্রণায় একজন ভারতীয় নারী কাতরাচ্ছিলেন। কিন্তু হামলাকারীরা তাকে তলোয়ারের আঘাতে হত্যা করলো।
হামলাকারীদের পরিচয় দিতে গিয়ে রেস্টুরেন্টটির এই কর্মচারী বলেন, তারা নিজেদের ইসলামিক স্টেটের সহযোগী হিসেবে দাবি করছিল। তাদের গায়ে টি শার্ট ও পরনে জিন্স ছিল। এ সময় তারা খুবই শান্ত ছিল এবং ইংরেজি ও আরবি ভাষায় সাবলিলভাবে ফোনে কারও সঙ্গে কথা বলছিল। তিনি আরও বলেন, হামলাকারীদের একজন নিবরাস ইসলাম (২২) বলছিল, বাংলাদেশিদের ভয়ের কোনও কারণ নেই। এ সময় হামলাকারী মীর সামি মোবাশ্বির (১৮) সবার সঙ্গে কথা বলেছিল।
হলি আর্টিজান বেকারির এই কর্মচারী ‘দ্য জাপান টাইমম’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আরও বলেন,  যখন  কমান্ডো অভিযান শুরু হয়, তখন হামলাকারীরা নিজেদের অস্ত্র হাতে তুলে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করছিল। কিন্তু ততক্ষণে পুরো এলাকা প্রচণ্ড গোলাগুলির শব্দে কেঁপে ওঠে।