ঢাকাFriday , 8 July 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

জঙ্গিদের স্প্লিন্টারে মুছে গেছে তাদের ঈদ আনন্দ

Link Copied!

gulshan-attackনিজস্ব প্রতিবেদক : পালিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। দেশজুড়ে বইছে আনন্দের বন্যা। কিন্তু এই আনন্দের মাঝেও শরীরে  স্প্লিন্টারের ব্যথা-যন্ত্রণা নিয়ে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন বীর সন্তানেরা, যারা কি না দেশকে ভালোবেসে জীবন দিতে চেয়েছিলেন। গুলশানে হলি আর্টিসান রেস্টুরেন্টে জঙ্গিদের প্রতিহত করতে গিয়ে তাদের শরীরের বিঁধেছে গ্রেনেডের অসংখ্য স্প্লিন্টার। হ্যাঁ, তাদের কথাই বলছি।
সুজন কুমার কুণ্ড :
শুক্রবার রাতে (১ জানুয়ারি) হলি আর্টিসান রেস্টুরেন্টে সন্ত্রাসীদের কবল থেকে দেশি-বিদেশি জিম্মিদের উদ্ধার করতে গিয়ে সন্ত্রাসীদের ছোড়া গ্রেনেডের স্প্লিন্টারে গুরুত্বর আহত হন স্পেশাল ওয়েপন অ্যান্ড ট্যাকটিক্স (সোয়াট) টিমের উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুজন কুমার কুণ্ডু।
সুজন এখন আশঙ্কাজনক অবস্থায় গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তার দুই পা এবং হাতে বিঁধেছে গ্রেনেডের অসংখ্য স্প্লিন্টার। শরীর অসহ্য জ্বালাপোড়া। চোখ বন্ধ করলেই ভেসে ওঠে সেই দুসহ্য স্মৃতি।
সুজন বলেন, ‘রেস্টুরেন্টের গেইটে ঘাসের ওপর একটি গ্রেনেড পড়েছিল। ডিবির এসি রবিউল স্যার গ্রেনেডটি হাতে তুলতেই বিকট শব্দে তা বিস্ফোরণ ঘটে। একই সঙ্গে জঙ্গিরা রেস্টুরেন্টের ভেতর থেকে গ্রেনেড ও গুলি ছুঁড়তে থাকে।’ তিনি আরো বলেন, ‘সেদিন শুধু একটা কথাই মাথায় ছিল, সন্ত্রাসীদের পালাতে দেয়া যাবে না। জীবন গেলেও না।’
ফারুক :
গুলশানের সন্ত্রাসী হামলায় মাত্র চারজন কনস্টেবল নিয়ে প্রথম প্রতিরোধ করেন এই বীর যোদ্ধা। ওয়ারলেসে ওসির ম্যাসেজ পেয়ে ছুটে যান হলি আর্টিসানের সামনে। ওই সময়ই সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যাওয়ার জন্য রেস্টুরেন্ট থেকে বেড় হচ্ছিল। ঠিক এমন সময়ই রেস্টুরেন্টের গেটে প্রতিরোধ গড়ে তুলেন গুলশান থানার এসআই ফারুক।
সন্ত্রাসীরা একের পর এক গ্রেনেড আর গুলি ছুড়তে থাকে। শরীরে স্প্লিন্টার বিদ্ধ হয়েও পিছু হটেননি তিনি। একটা সময় লুটিয়ে পড়েছেন মাটিতে। তবুও শুয়ে শুয়েই গুলি চালিয়ে আটকে রেখেছিলেন সন্ত্রাসীদের। এই বীর যোদ্ধা এখন গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালের জেনারেল ওয়ার্ডে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। তার দুই পায়ে আটটি স্প্লিন্টার বিদ্ধ হয়েছে।
শরীরের অর্ধেকটা ভারী ব্যান্ডেজে মোড়া। হাসাপাতালের বেডেই খাওয়া ও বাথরুম। পাশে আছেন স্ত্রী ও মেয়ে। তারাই এখন দেখভাল করছেন এসআই ফারুকের।
এসআই ফারুক বলেন, ‘ওইদিন একটাই পণ করেছিলাম, মরলে মরবো কিন্তু সন্ত্রাসীদের পালাতে দেবো না। গ্রেনেডের স্প্লিন্টার ও গুলির আঘাতে মাটিতে লুটিয়ে পড়েছিলাম, কিন্তু পিছ পা হইনি।’
আলমগীর হোসেন :
সাহসী এই যোদ্ধা ছিলেন এসআই ফারুকের ঠিক পেছনেই। তিনি একটু পরপর শর্টগানের গুলি ছুড়ে আটকে রেখেছিলেন সন্ত্রাসীদের।
আলমগীর হোসেন এখন আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১০১ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন। তারও দু’পায়ে স্প্লিন্টার বিঁধেছে।
প্রদীপ চন্দ্র দাস :
সন্ত্রাসীদের প্রতিহত করতে তার ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। তিনি এখন পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১০১ নম্বর ওয়ার্ডে আলমগীর হোসেনের সঙ্গেই চিকিৎসাধীন।
প্রদীপ চন্দ্র দাস বলেন, ‘আমাদের উপস্থিতি বুঝতে পেরেই জঙ্গিরা রেস্টুরেন্টের ভেতর থেকে হামলা চালায়। তারা গ্রেনেড ও গুলি ছুড়ে পালানোর চেষ্টা করে। কিন্তু আমরাও পাল্টা গুলি চালাতে থাকি। একপর্যায়ে তারা রেস্টুরেন্টের ভেতরে চলে যায়। তখন আমরা তিনজন আহত হই। কিন্তু আহত হওয়ার পরও গুলি ছুড়ে তাদের পালাতে দিইনি। নিয়ত একটাই ছিল, বাঁচি আর মরি সন্ত্রাসীদের পালাতে দেবো না।’
আহত এই চার পুলিশ সদস্যের পরিবারকে ঈদ করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার নিজস্ব তহবিল থেকে ১ লাখ টাকা করে সহায়তা প্রদান করেছেন। আর নিহত ডিবির পুলিশের এসি রবিউল ও বনানী থানার ওসি সালাউদ্দিনের পরিবারকে দেয়া হয়েছে ৩ লাখ টাকা করে সহায়তা।
এদিকে প্রথম প্রতিরোধের পর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ পুলিশ রেস্টুরেন্টে অভিযান চালানোর চেষ্টা করে। এ সময় জঙ্গিদের হামলায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার রবিউল করিম ও বনানী থানার ওসি সালাহউদ্দিন খান নিহত হন। পরদিন শনিবার সকালে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে সফল কমান্ডো অভিযান চালানো হয়। অভিযানের পর ঘটনাস্থল থেকে পাঁচ জঙ্গির লাশ উদ্ধার করা হয়। এর আগে শুক্রবার রাতে হামলার ৩০ মিনিটের মধ্যে ২০ জিম্মিকে নৃশংসভাবে হত্যা করে জঙ্গিরা।