ডেস্ক নিউজ : বাংলাদেশের গুলশান হামলার প্রেক্ষিতে ‘দুই জঙ্গিকে উদ্বুদ্ধ’ করা জাকির নায়েক শিগগির দেশে ফিরবেন। দেশে ফিরে তার বিরুদ্ধে ওঠা সব ‘ভিত্তিহীন’ অভিযোগের জবাব দেবেন তিনি। কথা বলবেন মিডিয়ার সঙ্গে। জাকির নায়েকের শ্যালক ও ট্রাস্ট ম্যানেজারকে উদ্ধৃত করে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, অভিযোগ উঠেছে যে ঢাকায় গুলশানে নিহত জঙ্গিদের দুজন-রোহান ইমতিয়াজ এবং নিবরাস ইসলাম জাকির নায়েককে অনুসরণ করত। রোহান গত বছর জাকির নায়েকের পিস টিভির একটি অনুষ্ঠান তার ফেসবুক পেজে পোস্ট করেছিল। পোস্টে সে জাকির নায়েককে উদ্ধৃত করে লিখেছিল যে ‘প্রত্যেক মুসলিমেরই সন্ত্রাসবাদী হয়ে ওঠা উচিত।’ তাই গুলশানের হামলাকারীরা জাকিরের বক্তৃতায় অনুপ্রাণিত হয়েছিল কি না, বাংলাদেশের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তা তদন্ত করে দেখার কথা জানায় ভারত। বুধবার প্রকাশিত খবরে তখনও পর্যন্ত বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কোনও অভিযোগ না পাওয়ার কথা জানানো হয়।
জাকিরের বিরুদ্ধে ওঠা জঙ্গিবাদী মদদের অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন তার শ্যালক ও ট্রাস্ট ম্যানেজার মুবারক কাপদি। তাকে উদ্ধৃত করে টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘তিনি কখনও সন্ত্রাসবাদ উসকে দেননি। কেউ যদি তার বিচ্ছিন্ন মন্তব্য বা বক্তব্যকে আংশিক অংশ নিজস্ব স্বার্থে ব্যবহার করে, তাহলে তার করার কিছু নাই।’
এদিকে জাকির নায়েকের আরেক ট্রাস্ট ম্যানেজার মানজুর শেখও জাকির নায়েককে দায়ী করার ঘটনায় ভীষণ ক্ষুব্ধ হয়েছেন। একে ভয়াবহ মিথ্যে প্রচারণা বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। বলেছেন, ‘জাকির কখনও ঘৃণা ছড়ায় না। বিশ্বজুড়ে প্রচারিত তার বক্তব্যে তিনি সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বলেন’।
সৌদি আরবে ওমরা পালন শেষে ভারতে ফিরলেই ‘জঙ্গিবাদে মদদ দেওয়া’র অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে পারেন বিতর্কিত ধর্মীয় নেতা জাকির নায়েক। এরইমধ্যে তার বিরুদ্ধে তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ শুরু করেছে ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থা এনআইএ। এদিকে গুলশান হামলায় জড়িত দুই তরুণকে ‘জঙ্গিবাদে উদ্ধুব্ধ করা’য় তার বিরুদ্ধে ভারতের কাছে অভিযোগ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ভারত আশ্বাস দিয়েছে, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে তারা।
সৌদি আরব থেকে ভারতের ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস পত্রিকাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে অবশ্য ঢাকার জঙ্গি হামলার নিন্দা করেছেন জাকির। সেই সঙ্গেই তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশে নব্বই শতাংশ লোকই আমাকে চেনে, সে দেশের অর্ধেক লোকই আমার ফ্যান। ফলে ওই হামলাকারীরাও যদি আমায় চিনত, তাতে আমি অবাক হবো না।’

