ঢাকাTuesday , 5 July 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বৃষ্টির বাগড়া, দ্বিগুণ ভাড়ায় ছাদে ঘরমুখোরা

Link Copied!

bus
নিজস্ব প্রতিবেদক : বাধভাঙা জোয়ারের মতো ছুটছে ঘরমুখো মানুষ। সকালের বৃষ্টির কারণে এ জোয়ারকে ম্লান করে দিয়েছে। তবুও প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করার জন্য বাসের ছাদে, বাম্পারে, গেটে ঝুলে গরুর ট্রাকে উঠে যে যেভাবে পারছেন, ঠিক সে সেভাবে গ্রামের বাড়ি ছুটছেন।
সোমবার (৪ জুলাই) থেকে অধিকাংশ বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ছুটি ঘোষণা হওয়ায় ভোর থেকে বাস গাবতলী টার্মিনালে ঘরমুখো মানুষের ঢল নামে। ফলে কোলাহলপূর্ণ রাজধানী অনেকটাই ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে।
মঙ্গলবার (৫ জুলাই) গাবতলী বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, যাত্রীদের চাপ ছিল অতিমাত্রায়। বাসের ভিতরে জায়গা না থাকায় বাসের ছাদেও যাত্রী উঠতে দেখা গেছে। কিছুসংখ্যক বাস সিট পূর্ণ করে ঢাকা ছেড়েছে। ঢাকার আশপাশের জেলার বাসগুলোতেও ছিল যাত্রীর চাপ। অধিকাংশ বাসে ভাড়াও নেয়া হচ্ছে দ্বিগুণ।
সকাল থেকে বৃষ্টির কারণে যাত্রীদের পড়তে হচ্ছে বাড়তি ভোগান্তিতে। এ ছাড়া সাভারের আশুলিয়া, চন্দ্রা মহাসড়কে ধীরগতিতে গাড়ি চলার কারণে বিভিন্ন স্থানে যানজটের সৃষ্টি হয়। তবে দীর্ঘ ছুটি নিয়ে বাড়ির উদ্দেশে রওয়ানা হতে পেরে অনেকেই খুশি।
গাবতলী বাস টার্মিনালের হানিফ কাউন্টারের টিকিট মাস্টার মোহাম্মদ হারুন মিয়া বলেন, সকাল ১০টার পর থেকে মানুষের ভিড় বাড়ে। মঙ্গলবার অধিকাংশ গার্মেন্টস, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাবে ঈদ উপলক্ষে। তাই দুপুরের পড়ে যাত্রীদের চাপ বেড়ে যাবে।
এবার ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা আগের চেয়ে স্বস্তিদায়ক হচ্ছে বলে জানিয়েছেন যাত্রীরা। এবারের ঈদে ৯ দিন বন্ধ থাকায় অনেকেই গত বৃহস্পতিবার থেকেই যাওয়া শুরু করেছে। যে কারণে গত ২ দিন যাত্রীদের চাপ বেশি ছিল না।
পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানান, গাবতলী টার্মিনাল থেকে ছেড়ে যাওয়া বাসের টিকিট আগেই বিক্রি করা হয়। অনেকে টিকিট না পেয়ে বিভিন্ন লোকাল পরিবহনে  গন্তব্যে যাচ্ছেন। তবে গত দুইদিনের তুলনায় যাত্রীদের চাপ আজ অনেক বেশি ছিল।
আর এই সুযোগে পরিবহন মালিকরা কোনো নিয়মনীতি না মেনেই অতিরিক্ত ভাড়া ও ছাদে ওঠাচ্ছেন যাত্রীদের। আবার পরিবহন সংকট দেখিয়েও যাত্রীদের মাঝে আতংক ছড়িয়ে দেয়। বলা হয় গাড়ি নেই। তাই একরকম বাধ্য হয়েই বাস ও গরুর গাড়িতে উঠে পড়ছেন। এ ভাবেই ঈদ আনন্দ উৎসবে প্রিয়জনদের সঙ্গে যোগ দিতে বাড়ি যাচ্ছেন রাজধানীবাসীর অনেকেই।
মঙ্গলবার ঈদের ছুটির পঞ্চম দিনে বাধভাঙা জোয়ারের মতো মানুষ ছুটছেন। সবচেয়ে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ গেছে আন্তঃজেলা পরিবহনগুলোতে। তিল ধারণের জায়গা নেই পরিবহনগুলোতে। বিশেষ করে সকাল ১০টার পর থেকে যাত্রীদের চাপ বাড়তে থাকে।
পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে সড়কপথে যাতায়াতকারীদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠকে ভিজিলেন্স টিম, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম, মহাসড়কে নসিমন, করিমন, ইজিবাইক, মাহিন্দ্র চলতে না পারাসহ ৩২টি বিষয়ে সিদ্ধান্তের কোনোটাই কাজে আসছে না। এমনকি ১ হাজার স্বেচ্ছাসেবক রোভার স্কাউট দিয়েও কোনো ফল হচ্ছে না।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, এবারে ঈদে ঘরমুখো মানুষের ভোগান্তি হবে না। এও তিনি বলেছেন, ভাড়া বেশি নেয়ার অভিযোগ বা গাড়ি বেপরোয়াভাবে চালানোর অভিযোগ পেলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।
গাবতলী থেকে পাটুরিয়া ভাড়া ৭৫ টাকা, সেখানে নেয়া হচ্ছে ২শ’ টাকা। গাবতলী থেকে বালিরটেক ভাড়া ৬৫ টাকা সেখানে নেয়া হচ্ছে ২শ’ টাকা। গাবতলী থেকে হরিরামপুর, ঘিওর, দৌলতপুর, নাগরপুর, ঝিটকা সড়কেও নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে দ্বিগুণ ভাড়া নেয়ার অভিযোগ করেছেন ঘরমুখো যাত্রীরা।
স্কুল শিক্ষক রণজিৎ সরকার। যাবেন পাটুরিয়া। তিনি জানান, সরকার নির্ধারিত ভাড়া ৭৫ টাকা। মঙ্গলবার নেয়া হচ্ছে ২শ’ টাকা। এর পর গাড়ির ভিতরে যাত্রী দাঁড়িয়ে, ছাদে, বাম্পারে ও গেটে ঝুলিয়ে নেয়া হচ্ছে। হাতে গোনা দু’একজন পুলিশ দেখা গেলেও তারা এ ব্যাপারে ‘নাক গলাচ্ছেন না’ বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ গেল আন্তঃজেলা সড়ক পথের চিত্র। দূরপাল্লার বাসের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা।