ঢাকাFriday , 24 June 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

১১ মাসে ২ হাজার কোটি টাকা বাড়তি রাজস্ব আদায়

Link Copied!

NBRঅর্থনৈতিক প্রতিবেদক : মূল লক্ষ্যমাত্রা থাকাকালীন গত ০৯ মাসে রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি ছিল। কিন্তু রাজস্ব ঘাটতি সমন্বয় করতে ২০১৫-১৬ অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রা সংশোধনের পর গত দুই মাসে রাজস্ব আদায় বাড়তে দেখা গেছে। চলতি অর্থবছরের ১১ মাসে (জুলাই-মে) সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২ হাজার ৩৯৩ কোটি টাকা বেশি রাজস্ব আদায় করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুন) এনবিআর সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
সূত্রটি জানায়, চলতি অর্থবছরের মে মাস পর্যন্ত এনবিআরের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ২৯ হাজার ৯০২ কোটি টাকা। যার বিপরীতে ১১ মাসে ১ লাখ ৩২ হাজার ২৯৫ কোটি টাকা আদায় করেছে প্রতিষ্ঠানটি। যা মূল লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ২ হাজার ৩৯৩ কোটি টাকা বেশি। ফলে এই সময়ে রাজস্ব আদায়ের প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ১৪ দশমিক ১৮ শতাংশ।
তবে এনবিআরের আগের চিত্র অনুযায়ী, মূল লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে আনার পর সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার হিসেবে রাজস্ব আদায় বেশি হচ্ছে বলে দেখা যাচ্ছে। প্রথমে এনবিআরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১ লাখ ৭৬ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা। সেই লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্তই রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ২১ হাজার ২৬০ কোটি টাকা। যার বিপরীতে রাজস্ব আদায় হয়েছিল ১ লাখ ৭ হাজার ২১৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা। তখন ওই ৯ মাসে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ঘাটতি দাঁড়িয়েছিল ১৪ হাজার ৪৬ কোটি ৬০ লাখ টাকা। এর আগে চলতি অর্থবছরের প্রথম ৮ মাসেও রাজস্ব আদায়ের ঘাটতি ছিল ১৩ হাজার ৫১১ কোটি ১৩ লাখ টাকা।
তখন এই বিশাল আকারে রাজস্ব ঘাটতি সমন্বয় করতেই লক্ষ্যমাত্রা কাটছাঁট করে ১ লাখ ৫০ হাজার সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে এনবিআর। এর ফলে গত এপ্রিল মাস থেকে সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেড়েছে রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ। সংশোধনের পর প্রথম ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ২ হাজার ২১৭ কোটি ২৪ লাখ টাকা আদায় করে সংগঠনটি। এই ১০ মাসে ১ লাখ ১৭ হাজার ১২১ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে এনবিআর আদায় করেছে ১ লাখ ১৯ হাজার ৩৩৮ কোটি ২৪ লাখ টাকা।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পূর্বের বিশাল রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা বহাল থাকলে সেটি পূরণ এখনো সম্ভব হতো না। তবে সেই লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে এনে সংশোধন করার পর তা পূরণ করা ও তার চাইতে বেশি আদায় করা সম্ভব হচ্ছে।
এনবিআর এর এক কর্মকর্তা বলেন, ‘১৯৭২-৭৩ অর্থবছরে এনবিআরের রাজস্ব সংগ্রহের পরিমাণ ছিল মাত্র ১৬৬ কোটি টাকা। প্রায় চার দশকের ব্যবধানে গত ২০১৪-১৫ অর্থবছরে এনবিআর ১ লাখ ৩৫ হাজার ৭০০ কোটি টাকা রাজস্ব সংগ্রহ করেছে। যা ১৯৭২-৭৩ অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৮২৩ গুণ বেশি।’
এনবিআর চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান বলেন, ‘সুশাসন ও উন্নততর ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি প্রবর্তনের মাধ্যমে এনবিআর গতানুগতিকতার বাইরে এসে নিজেকে একটি সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের প্রয়াস চালাচ্ছে। রাজস্ব আহরণের ক্ষেত্রে যেকোনো প্রকার হয়রানি, কর ফাঁকি এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা করে একটি ‘করদাতাবান্ধব রাজস্ব সংস্কৃতি’ গড়ে তুলতেএনবিআর নিরন্তর সচেষ্ট রয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘আধুনিক ডিজিটাল এনবিআরের কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে। ফলশ্রুতিতে দেশের জনগণ সহজেই হয়রানিমুক্ত পরিবেশে স্বত:স্ফূর্তভাবে এবং স্বচ্ছন্দে আয়কর, ভ্যাট ও শুল্ক প্রদান করতে পারছেন। তাই রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ আগের তুলনায় দিন দিন বাড়ছে, আগামীতেও বাড়বে। এজন্য যেকোনো ধরনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে এনবিআর এখন প্রস্তুত।’