রংপুর প্রতিনিধি : দীর্ঘ কালক্ষেপণের পর আরো দুই দফা সময় বাড়িয়েও শেষ হচ্ছে না উত্তরাঞ্চলের মানুষের স্বপ্নের দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতুর নির্মাণ কাজ। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের ধীরগতির কাজের কারণেই নির্ধারিত সময় শেষে আরও দুই দফা সময় বাড়ানো হলেও তাতে কাজ শেষ হয়নি। এ অবস্থায় হতাশ ও ক্ষুব্ধ এই অঞ্চলের মানুষ। আর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দাবি, ৭০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। বাকি কাজ চলতি বছরেই শেষ হবে।
স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্র জানায়, ২০১২ সালের ২০ সেপ্টেম্বর বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতুর নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন। ২০১৪ সালের জুনে সেতুর কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তা না হওয়ায় ২০১৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়। তাতেও কাজ শেষ না হওয়ায় দ্বিতীয় দফায় চলতি বছরের জুন পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়।
সরেজমিনে জানা যায়, সেতুর ১৬টি পিলারের ওপর ৮৫টি গার্ডারের মধ্যে ৪০টি স্থাপন করা হয়েছে। ১৭টি স্প্যানের মধ্যে বসানো হয়েছে ৬টি। এসব কাজ শেষ হওয়ার পর সেতুর দুই দিকে রেলিং নির্মাণ করতে হবে। এরপর আলোর ব্যবস্থা। অন্যদিকে সেতুর উত্তর দিকে সংযোগ সড়ক নির্মিত হলেও দক্ষিণ দিকে এখনো সংযোগ সড়কের কাজ শুরু করতে দেখা যায়নি।
এদিকে তিস্তা সড়ক সেতুর কাজে এমন কালক্ষেপণ দেখে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রকৌশলী জানান, এখনো দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতুটির অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ বাকি রয়েছে। সেই সঙ্গে বর্ষাকাল চলে এসেছে। চলতি বছরেও কাজ শেষ করা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
লালমনিরহাটের বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে উত্তরাঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালিত হয়। এই বন্দর দিয়ে ভারত থেকে পাথর, ফল, কয়লা, কাঁচসহ আরও অনেক পণ্য আমদানি হয়ে আসে। সেই সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি হয়ে যায় জুস, বিস্কুটসহ আরও কিছু ভোগ্যপণ্য। এছাড়া ভারতের দার্জিলিংসহ আরও কিছু দর্শনীয় স্থানে যাওয়ার জন্যও বুড়িমারী স্থলবন্দর হয়ে যেতে হয়। রংপুর হয়ে গেলে লালমনিরহাট শহর হয়ে অনেক পথ ঘুরতে হয়। কিন্তু সেতুটি নির্মাণ হলে রংপুর থেকে সড়কপথে বুড়িমারী যেতে ৫০ কিলোমিটার পথ কমবে। তাই এ অঞ্চলের মানুষের দাবি দ্রুত শেষ হোক তাদের স্বপ্ন পূরণে দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতুর নির্মাণ কাজ।
রংপুরের আমদানিকারক শাহজাহান বাবু জানান, সেতুটি নির্মিত হলে রংপুর আসতে সময় অর্ধেকে নেমে আসবে। সেই সঙ্গে পরিবহন খরচও অনেক কমে যাবে।
এই বন্দর দিয়ে প্রায়ই চলাচল করেন প্রকৌশলী এ টি এম মোহসীন। তিনি জানান, স্থলবন্দরে যেতে লালমনিরহাট হয়ে ঘুরে চারঘণ্টা সময় লাগে। তিস্তা সেতু হলে তা দেড় ঘণ্টায় নেমে আসবে। জরুরি ভিত্তিতে সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ করার দাবি জানান তিনি।
নির্মাণ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ডব্লিউএমসিজি-নাভানা গ্রুপ ১২১ কোটি টাকা ব্যয়ে ৮৫০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৯ দশমিক ৫ মিটার চওড়া এই সেতু নির্মাণে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। সেতুটির এক প্রান্তে রংপুরের গঙ্গাচড়া মহিপুরঘাট ও অন্যপ্রান্তে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ।
দুই দফায়ও কাজ শেষ না হওয়ার ব্যাপারে নাভানা কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের প্রকল্প ব্যবস্থাপক সাধন কুমার পাল জানান, দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। ইতোমধ্যে সেতুর নির্মাণকাজ ৭০ শতাংশ শেষ। আশা করা হচ্ছে, এ বছরই কাজ শেষ হবে।
এলজিইডির লালমনিরহাট কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী আল আমিন জানান, সংযোগ সড়ক নির্মাণ করতে সময় লেগে গেছে। এই সংযোগ সড়ক না থাকায় সেতুর কাছে মালামাল নিয়ে যেতে অনেক বেগ পেতে হতো। এখন একদিকে সংযোগ সড়ক নির্মিত হওয়ায় মালামাল নিয়ে যেতে সুবিধা হচ্ছে। তিনি চলতি বছরের মধ্যে কাজ শেষ করা সম্ভব হবে বলে মন্তব্য করেন।

