আন্তর্জাতিক ডেস্ক : অরল্যান্ডো শহরে সমকামীদের একটি ক্লাবে বন্দুক হামলায় ৪৯ জন নিহত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও অস্ত্র ক্রয় বিক্রয় নীতিমালা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়েছে যার প্রভাব আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও পড়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনাটি থেকেও ফায়দা তুলতে চাইছেন ডেমোক্রেটিক ও রিপাবলিকান দলের সম্ভাব্য দুই প্রার্থী ট্রাম্প ও হিলারি।
রোববারের ওই হামলার পর রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প ফের মুসলিম বিরোধী বক্তব্য রাখতে শুরু করেছেন। তিনি মুসলিম শরণার্থীদের সেদেশে প্রবেশের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপেরও দাবি তুলেছেন। তিনি আরো বলেছেন, গণহারে সবাইকে যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে দেয়ার এই অভিবাসন নীতিমালার কারণেই অরল্যান্ডো হামলার মত ঘটনা ঘটেছে।
অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন মুসলিম বিদ্বেষী বক্তব্যের জন্য ট্রাম্পের সমালোচনা করেছেন। একই সঙ্গে তিনি দেশটির সহজ অস্ত্র ক্রয় নীতির বিরুদ্ধেও অবস্থান নিয়েছেন।
রোববারের ওই হামলায় কমপক্ষে ৪৯ জন নিহত এবং আরো ৫৩ জন আহত হয়েছে। বন্দুক হামলাকারী ওমর মতিন নিজেও পুলিশের গুলিতে মারা গেছেন। ওই নিহতদের জন্য মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে বিশেষ স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছে।
দেশ জুড়ে বিরাজমান শোকাবহের মধ্যেই এই চলছে দুই প্রেসিডেন্ট প্রার্থীর বিতর্ক। রিপাবলিকান দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, মার্কিন অভিবাসন নীতিমালা একেবারেই অকার্যকর। তার মতে, তার (ওমর মতিন) পরিবারকে যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে দেয়া হয়েছিল বলেই সে এখানে অবস্থান করছিল।
তিনি আরো বলেন এখন যে মার্কিন অভিবাসন নীতিমালা রয়েছে তাতে গণহারে যুক্তরাষ্ট্রে মানুষজনকে আসতে দেয়া হচ্ছে এবং সে বিষয়টির বিরুদ্ধে এখনই জোর আলাপ হওয়া উচিত। মার্কিন অভিবাসন নীতিমালা দেশটির নাগরিকদের নিরাপত্তা বিরোধী বলেও মত প্রকাশ করেছেন তিনি।
অন্যদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মুসলিম বিরোধী মনোভাবের চরম সমালোচনা করেছেন সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন। তিনি দেশটিতে অ্যাসল্ট রাইফেল ক্রয় করার সহজ আইনের বিরুদ্ধেও জোরালো মত প্রকাশ করেছেন। তিনি বলছেন, যুদ্ধের ময়দানে যেসব অস্ত্রের ব্যবহার চলে সেগুলোর কোন যায়গা নেই যুক্তরাষ্ট্রেরে শহরের রাস্তাঘাটে।
হিলারি ক্লিনটন আরো বলেছেন, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইএর সন্দেহভাজন তালিকায় থাকা ব্যক্তিটি কীভাবে কোনো প্রশ্ন ছাড়াই দোকানে গিয়ে অস্ত্র কিনে ফেললো এখন সবারই সেই প্রশ্ন তোলা উচিত।
এসব বিতর্কের মধ্যেই অরল্যান্ডো শহরের নাগরিকেরা নিহতদের স্মরণ করতে শুরু করেছেন। তার ঘটনাস্থলে ফুল দিয়ে আর মোমবাতি জ্বালিয়ে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। পালস নাইটক্লাবে চালানো ওই হামলাকে আধুনিক যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী গুলিবর্ষণের ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।

