ঢাকাFriday , 3 June 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কী শেখানো হয় আইএসের বিশ্ববিদ্যালয়ে

Link Copied!

ISSআন্তর্জাতিক ডেস্ক : ঠিক দুই বছর আগে ইরাকের দ্বিতীয় বৃহত্তম নগরী মসুল দখলে নিয়েছিল জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস)। এরপর সেখানে ব্যাপক ধ্বংযজ্ঞও চালিয়েছিল তারা। তবে মসুলের বিশ্ববিদ্যালয়টি ঠিকই চালু রেখেছে আইএস। আর এ কারণে বিশ্ববিদ্যালয়টি খোলা রাখা নিয়ে তৈরি হয় নানা প্রশ্ন।
স্বাভাবিক কারণেই বিশ্ববিদ্যালয়টি খোলা রাখা হয়েছে, নাকি রাসায়নিক অস্ত্রসহ অন্যান্য অস্ত্র তৈরি করতে ব্যবহার করা হয় এটি- এমন প্রশ্ন ছিল সবার মনে। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে কী হয় তা গোপন রাখার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিল আইএস। তবে সেখানে এমন কিছু শিক্ষার্থী এবং গবেষক ছিল, যারা বিশ্ববিদ্যায়ের আভ্যন্তরীণ কর্মকাণ্ড বাইরের লোকদের জানাতে চাইতো।
এ কাজে তাদের সহায়তা করেছিল নিউইয়র্ক-ভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব এডুকেশন’র সহ-গবেষণা সংগঠন ‘স্কলার রেসকিউ ফান্ড’। হিটলারের সময়ে ইউরোপের অনেক গবেষককে নাৎসিদের হাত থেকে উদ্ধার করেছিল এই স্কলার রেসকিউ ফান্ড।
নাম না প্রকাশ করার শর্তে মসুল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা জানান, পুরো শহরজুড়ে কীভাবে সহিংসতা আর ভীতি তৈরি করে আসছিল আইএস। গণহারে মৃত্যুদণ্ড প্রদান, লোকজনের ওপর নির্যাতন, বিমান হামলা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় পুরো শহরটিই একটি নরকে পরিণত হয়েছিল।
২০১৪ সালে মসুল দখলে নেয়ার পর সেখানে লোকদের পেছনে গোয়েন্দাগিরি, প্রতিনিয়ত তাদের অপমান করা এবং ভয়ানক পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিতো আইএস। কয়েক মিনিটের মধ্যে বিচারকাজ শেষ করা হতো জঙ্গি এই সংগঠনটির আদালতে। এরপর অল্প সময়ের মধ্যেই কার্যকর করা হতো দণ্ড।
মসুল বিশ্ববিদ্যালয় আইএসের হাতে যাওয়ার পর থেকে সাহিত্য এবং দর্শনের মতো বিষয়গুলো বন্ধ করে দেয়া হয়। তাদের আদর্শের সঙ্গে বেমানান সবকিছুই নিষিদ্ধ করা হয় সেখানে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উদ্ধারকৃতরা জানান, আইএস সদস্যরা কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের বই পুড়িয়ে দেয়। এরপর তারা সেখানকার প্রত্মতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো ধ্বংস করে দেয়। যেসব গবেষক পশ্চিমা দেশ এবং ইরাকি সরকারের আস্থাভজন প্রমাণিত হয় তাদের মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়।
যুদ্ধবিদ্যা বিষয়ক বিষয়গুলো উৎসাহিত করে আইএস। এসব বিভাগের উন্নয়নের জন্য তারা বিদেশি যোদ্ধাদের নিয়োগ দেয়। মসুল থেকে পালিয়ে যাওয়া চিকিৎসকদের স্থান পূরণের জন্য চিকিৎসাবিদ্যা, ফার্মাসি, নার্সিং এবং দন্তচিকিৎসার বিষয়ের ওপর জোর দেয় আইএস। এছাড়া শারীরিক কসরতের উপরও গুরুত্ব দেয়া হয়।
ভাষা শিক্ষাকেও উৎসাহিত করে তারা। বিদেশি যোদ্ধাদের সঙ্গে যোগাযোগে যাতে সুবিধা হয় সে উদ্দেশ্যেই এটা করে তারা। খেলাধুলাকে জিহাদি প্রশিক্ষণে পরিণত করা হয়। সামরিক পদ্ধতিতে শেখানো হয় খেলাধুলা।