নিজস্ব প্রতিবেদক : ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটে বিশেষ কৌশলে কালো টাকা সাদা করার বিধান রাখায় গভীর হতাশা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। পাশাপাশি সরকারকে বিধানটি বাতিলের আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
বৃহস্পতিবার (০২ জুন) বাজেট অধিবেশন চলাকালে এক বিবৃতিতে টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এ আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ‘বাজেটে পরোক্ষভাবে কালো টাকা সাদা করার যে সুযোগ রাখা হয়েছে তা দুর্ভাগ্যজনক এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বহুবার ঘোষিত দুর্নীতি-বিরোধী অবস্থানের পরিপন্থি। এই প্রেক্ষিতে জনগণের আস্থা অর্জনে সরকারের উচিত বাজেটে কালো টাকা বৈধতা দেয়ার সুযোগ বাতিল করা।’
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘কালো টাকা সাদা করার অনৈতিক বিধানের বিরুদ্ধে ইতোপূর্বে সংসদ ও সংসদের বাইরে অর্থমন্ত্রীকে বিভিন্নভাবে অবস্থান গ্রহণ করতে দেখা গেছে। অথচ অনৈতিকতা-বান্ধব এ সুযোগটি আবারো অব্যাহত রাখার প্রস্তাব করা হচ্ছে। এটি সংবিধানের ২০(২) অনুচ্ছেদের সাথে সাংঘর্ষিক এবং সরকারের ঘোষিত ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপোষহীন মনোভাব’ বা বিদেশ থেকে পাচারকৃত অর্থ ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতির পরিপন্থি।’
পরস্পরবিরোধী এই অবস্থানের ফলে দেশে দুর্নীতিকে প্রশয় প্রদানের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের বিব্রতকর দৃষ্টান্ত স্থাপিত হচ্ছে বলেও বিবৃতিতে মন্তব্য করেন টিআইবি’র এই নির্বাহী পরিচালক।
তিনি বলেন, ‘জাতীয় রাজস্ব বোর্ডসহ সরকারের নিজ তথ্যানুযায়ী, কালো টাকা বৈধ করার এই অব্যাহত সুযোগ রাজস্ব আদায় বা বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টিতে বাস্তবে কখনো কোনো উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারেনি। অথচ কোনো কোনো বিশেষ প্রভাবশালী সুবিধাভোগী মহলের অবৈধতাকে প্রশ্রয় দিয়ে তাদেরকে অনৈতিকভাবে সুরক্ষা দিয়ে সততার চর্চাকে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে।’
টিআইবি দীর্ঘদিন থেকেই কালো টাকা সাদা করার সুযোগের বিপক্ষে অ্যাডভোকেসি করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় বাজেট ঘোষণার পূর্বে গত ২৬ এপ্রিল দীর্ঘদিনের উদ্বেগ পুনর্ব্যক্ত করে বর্তমান বাজেটে কালো টাকা বৈধকরণের সুযোগ না দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল সংস্থাটি।

