ঢাকাWednesday , 1 June 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

রপ্তানি হচ্ছে যশোরের পাথরভাঙা মেশিন

Link Copied!

machinযশোর প্রতিনিধি : ১৯৯২ সালে মাত্র ১২শ টাকা পুঁজি নিয়ে যশোর শহরে রিপন মেশিনারিজ নামে কৃষি পার্টসের ব্যবসা শুরু করেন আশরাফুল ইসলাম বাবু। এরপর ব্যবসা ভালো হলে ১৯৯৫ সালে রিপন ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ গড়ে তোলেন। বর্তমানে তার প্রতিষ্ঠানে উৎপাদন হচ্ছে স্টোন মিনি ক্রাশার, ইটভাঙা, পাথরভাঙা মেশিন, ইস্পলার, প্রেসার পুলি, লাইনার স্লট প্লেট, পানির পাম্প, স্যালো ইঞ্জিনের মেশিনসহ বিভিন্ন ধরনের মেশিনারিজ। ওই প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত পাথরভাঙা মেশিন দেশের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি ভারতে রপ্তানি হচ্ছে।
আশরাফুল ইসলাম বাবুর ছেলে লিয়াকত হোসেন রিপন জানান, প্রতিমাসে তাদের উৎপাদিত ১৫টি পাথরভাঙা মেশিন ভারতে রপ্তানি করা হচ্ছে। যার প্রতি মেশিনের দাম সাড়ে ৪ লাখ টাকা। এছাড়া দেশের বাজারে তাদের ইট ও পাথরভাঙা মেশিনের বাজার ভালো।
শুধু রিপন ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ না, যশোরে অন্তত ৩শ হালকা ও ভারি প্রকৌশল শিল্প প্রতিষ্ঠান রয়েছে। যাদের পণ্য সারা দেশে ব্যবহার হচ্ছে। গত ২৯ মে তিনদিন ব্যাপী যশোরে অনুষ্ঠিত হয়েছে জাতীয় লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য ও প্রযুক্তি মেলা। মেলাটির উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক ড. হুমায়ুন কবীর। মঙ্গলবার মেলাটি শেষ হয়েছে।
দেশীয় ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য সেবা ও প্রযুক্তির বিকাশ এবং প্রচারের উদ্দেশ্যে এই মেলার আয়োজন করে বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প মালিক সমিতি যশোর জেলা শাখা। মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক বলেন, ‘এ শিল্পের উদ্যোক্তা নিরবে নিভৃতে দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে ব্যাপক অবদান রেখে চলেছে। তাদের বিকশিত করতে সব মহলকে এগিয়ে আসতে হবে।’
মেলা ঘুরে দেখা গেছে, বাস-ট্রাকের যন্ত্রাংশ উৎপাদন করছে এনায়েত লেদ। তারা গাড়ির ড্রাম, পেসার প্লেট, হাড়ি, গ্রাউন্ড চাপাসহ ৩৯টি পণ্য উৎপাদন করে থাকে। প্রতিষ্ঠানটির মালিক আক্তার হোসেন জানান, তাদের কারখানায় উৎপাদিত গাড়ির যন্ত্রাংশ সারা দেশে বিক্রি হচ্ছে। এগুলো মানসম্মত যন্ত্রাংশ। যা আগে বিদেশ থেকে তারা আমদানি করত। এখন আমদানির প্রয়োজন হয়না। গাড়ির মালিকরা তাদের যন্ত্রাংশ ব্যবহার করছেন।
অগ্রণী ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মালিক শমসের আলী জানান, তাদের কারখানা যশোর-নড়াইল রোডে অবস্থিত। সেখানে সরিষার তেল ভাঙানো মেশিন, বোতলজাতের জন্য ফিল্টার উৎপাদন হচ্ছে। তাদের পণ্য দেশের ৪০টি জেলায় যাচ্ছে।
যশোর বিসিকে ভাই ভাই ইঞ্জিনিয়ারিং উৎপাদন করছে টিউবয়েল, বিচেলিকাটা মেশিন, বাড় গড়ির ড্রাম ও অটো বাইকের পার্টস প্রতিষ্ঠানটির মালিক ইলিয়াস হোসেন জানান, তারা চট্রগ্রাম থেকে জাহাজভাঙা কাঁচামাল কিনে এনে তা গলিয়ে পণ্য উৎপাদন করছেন। যা দেশের বাজারে অর্থনীতিতে অবদান রাখছে। যদি সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ পাওয়া যেত তাহলে এই শিল্প আরো বিকশিত হতো।
বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প মালিক সমিতি যশোর জেলা শাখার যুগ্ম সম্পাদক সিরাজ খান মিন্টু জানান, জেলায় ৩০০টি হালকা ও ভারি শিল্প প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে ২৫টি প্রতিষ্ঠান ভারি শিল্প পণ্য উৎপাদন করছে। যার মধ্যে রয়েছে পাথর, খোয়াভাঙা মেশিন, কৃষি পার্টস মেশিনারিজ, পাওয়ার টিলার মেশিন, রাইস মিলের মেশিন, বড় গাড়ির যন্ত্রাংশ উল্লেখযোগ্য। এসব শিল্প প্রতিষ্ঠানে বছরে হাজার কোটি টাকার পণ্য উৎপাদন হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের সমিতির সদস্যভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহযোগিতা দিলে আরো ভালো করতে পারতাম। কেননা ইতোমধ্যে ভ্যাট আইন নিয়ে আমাদের মধ্যে ভীতি দেখা দিয়েছে। যদি প্যাকেজ ভ্যাট উঠে যায় তাহলে এসব শিল্প প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাবে। সারা বছর শ্রমিক দিয়ে পণ্য করলেও বিক্রি হয় ৩-৪ মাস।’
এ ব্যাপারে যশোর চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি মিজানুর রহমান খান জানান, যশোরের ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প প্রতিষ্ঠান অনেক আগে থেকে জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রেখে চলেছে। এটাতে আরো বিকশিত হতে হলে আন্তর্জাতিক বাজার খুঁজে বের করতে হবে। কেননা উৎপাদিত পণ্যের পরিচিতি না থাকলে তা খুব বেশি এগোবেনা। আর ব্যাংগুলোকে ভালো প্রতিষ্ঠানে এসএমই ঋণ দিতে হবে।