সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : মুসলমানদের সিয়াম সাধনার মাস রমজান আসার আগেই সুনামগঞ্জের বাজারগুলোতে বেড়েছে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। চলতি মাসের মধ্যেই এসব পণ্যের দর বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
মঙ্গলবার শহরের একমাত্র পাইকারি ও খুচরা বাজার পূর্ব বাজার এলাকার দোকানগুলো ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।
ব্যবসায়ী সমিতির নেতাদের দেয়া তথ্যে জানা যায়, চলতি মাসের শুরুর দিকে যেসব পণ্য তারা বিক্রি করেছেন সেগুলোর দাম হঠাৎ করেই বাড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে আসন্ন রমজান মাসকে কেন্দ্র করে চিনি, ছোলা, মশুর ডাল, রসুন, চিড়া ও গুড়া মসলাসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম আগের চেয়ে বেড়েছে।
সুনামগঞ্জ সদর ব্যবসায়ী সমিতির তথ্য অনুযায়ী চলতি মাসের শুরুর দিকে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হয়েছে সর্বোচ্চ ৫০ টাকা দরে। কিন্তু বর্তমানে প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হচ্ছে ৬৫ টাকায়। এছাড়া মশুর ডাল (তুরস্ক) প্রতি কেজি ছিল ১১০ টাকা। যা এখন বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা দরে। প্রতি কেজি রসুন (চায়না) ২০০ টাকার পরিবর্তে বিক্রি হচ্ছে ২৬০ টাকায়। ছোলা প্রতি কেজি ৮০ টাকার পরিবর্তে ৮৫ টাকা, রসুন (দেশি) ৮০ টাকার পরিবর্তে ১১৫ টাকা, রাধুনী গুড়া মশলা (মরিচ) প্রতি ৫০০ গ্রাম প্যাকেট ১৮৫ টাকার পরিবর্তে ২০৮ টাকা, চিড়া প্রতি কেজি ৩০ টাকার পরিবর্তে বিক্রি হচ্ছে ৩৫ টাকায়।
অন্যদিকে, প্রতি কেজি আদা বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়, পেঁয়াজ প্রতি কেজি ২২ টাকা, শুকনা মরিচ প্রতি কেজি ১৪০ টাকা, সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ৯০ টাকা, সরিষার তেল (সুরেশ) প্রতি লিটার ২৬০ টাকা, সরিষার তেল (রুপচাঁদা) প্রতি লিটার ২২০ টাকা, বেসন প্রতি কেজি ৭০ টাকা, গুড়া মশলা (হলুদ) প্রতি কেজি প্যাক ৩৭০ টাকা, গুড়া মশলা (ধনিয়া) প্রতি কেজি প্যাক ৩১০ টাকা, আটা প্রতিকেজি (খোলা) ২৫ টাকা, আটা প্রতি কেজি (প্যাক) ৩৪ টাকা, ময়দা প্রতি কেজি (খোলা) ৩০ টাকা, ময়দা প্রতি কেজি (প্যাক) ৪০ টাকা, হরলিক্স ৪০০ গ্রাম প্যাকেট ৩৭৫ টাকা, গুড়ো দুধ (মার্কস) প্রতি কেজি ৫০০ টাকা, ডিপ্লোমা ৫০০ গ্রাম গুড়ো দুধ ২৯০ টাকা, অ্যাংকর ৫০০ গ্রাম গুড়ো দুধ ২৯৫ টাকা, ডানো ৪০০ গ্রাম গুড়ো দুধ ২৪৫ টাকা, রেড কাও ৪০০ গ্রাম গুড়ো দুধ ২৪৫ টাকা। এসব ছাড়াও অন্যান্য নিত্য প্রয়োজনীয় ভোজ্য পণ্যের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
মোতাহের হোসেন সানি নামে এক ক্রেতা বলেন, ‘রমজান মাস আসলেই বাজারে যেন আগুন ধরে যায়। আগাম বাজার করে রাখার জন্যই এসেছিলাম। অন্য সময় পেঁয়াজের দাম নিয়ে আতঙ্ক থাকলেও এবার সেটা স্বাভাবিক। তবে রসুন, চিনিসহ অন্যান্য পণ্যের দাম অতিরিক্ত হারে বাড়ানো হয়েছে।’
সুনামগঞ্জ সদর ব্যবসায়ী সমিতির সহ সভাপতি ও পূর্ব বাজার এলাকার মেসার্স আকবর আলী স্টোরের ব্যবসায়ী আব্দুল লতিফ জানান, মে মাসের শুরুর দিকে যেসব পণ্যের দাম কম ছিল সেগুলো রমজান মাস আসার আগেই বাড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে চিনির দামটা হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে। অন্যান্য পণ্য অপরিবর্তিত মূল্যে বিক্রি হলেও মশুর ডাল, বুটের ডাল, ছোলা, আলু, রসুন, গুড়া মরিচ ইত্যাদির দাম বেড়ে গেছে।

