নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা বলেছেন, ‘সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ব্যতীত গণতন্ত্র অর্থহীন। রাষ্ট্র যখন বাক স্বাধীনতা, ব্যক্তি স্বাধীনতা ও বিচারবিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে পারে তখনই বলা যায় যে, একটি স্বাধীন রাষ্ট্রে গণতন্ত্র গুণগত এবং দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।’
বুধবার সন্ধ্যায় বাংলা একাডেমিতে দৈনিক ‘প্রতিদিনের সংবাদ’ এর নবযাত্রা উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।
এসময় বিচারবিভাগের কার্যক্রম সম্পর্কে গণমাধ্যম গঠনমূলক ও ন্যায্য সমালোচনা করবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধান বিচারপতি।
আলোচনায় সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন- ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন পত্রিকাটির সম্পাদক আবু সাইদ খান।
প্রধান বিচারপতি তার বক্তব্যে বলেন, ‘আশা করি, বিচারবিভাগের কার্যক্রম সম্পর্কে সংবাদ ও মিডিয়া গঠনমূলক সমালোচনা করবে। বিদ্বেষ প্রসূত হয়ে বিচারবিভাগকে হেয় প্রতিপন্ন করা কোনোভাবেই কাম্য নয়।’
‘বিচারবিভাগ ও সাংবাদিকতার সম্পর্ক’ নিয়ে তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্র পরিচালনায় বিচারবিভাগের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিচারবিভাগ স্বাধীন না হলে রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠা পায় না। বিচারবিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে সাংবাদিকরা।’
তিনি বলেন, ‘মিডিয়া বিচারবিভাগের বিভিন্ন কার্যক্রম বিষয়ে সময়োপযোগী সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে নিরন্তর সহযোগিতা করে বিচারবিভাগের যুগান্তকারী সংস্কার সাধনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তবে কিছু কিছু সংবাদপত্র ব্যক্তিগত বিদ্বেষ, একপেশে খবর, অদূরদর্শী এবং পত্রিকার কাটতি বাড়ানোর জন্য নৈতিকতা বিবর্জিত সংবাদ প্রচার করে বিচারবিভাগ তথা জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে।’
তিনি বলেন, ‘অনেক সময় মিডিয়া ট্রায়ালের ফলে বিচারক এবং বিচারপ্রার্থী জনগণ বিব্রত হয় যা অনভিপ্রেত এবং অনাকাঙ্ক্ষিত। বিচারবিভাগও ভুল-ত্রুটির ঊর্ধ্বে নয়।’
এসকে সিনহা বলেন, ‘সমাজে ক্রমাগত উগ্রতা ও অসহিষ্ণুতা ছড়িয়ে পড়ছে। মানুষের মধ্যে সহিষ্ণুভাব আশ্চর্যজনকভাবে লোপ পাচ্ছে। এ উগ্রতা এবং অসহিষ্ণুতা মোকাবেলায় মানুষকেই এগিয়ে আসতে হবে। সন্ত্রাসবাদ জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি স্বরূপ। সাংবাদিকরা ক্ষুরধার লেখনীর মাধ্যমে এর বিরুদ্ধে ব্যাপক জনমত গঠন করতে অনন্য ভূমিকা রাখতে পারে।’

