নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশের তৃতীয় সমুদ্রবন্দর পায়রা বন্দরের নাব্যতা সঙ্কট কাটাতে বন্দরের প্রবেশ মুখে ড্রেজিংয়ের জন্য বেলজিয়ামের একটি প্রতিষ্ঠান ‘জান ডি নুল’ এর সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।
বুধবার (২৫ মে) দুপুরে রাজধানীর মিন্টু রোডস্থ নৌ-পরিবহন মন্ত্রীর বাসভবনে এ সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়।
অনাড়ম্বর আয়োজনে পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ক্যাপ্টেন মো. সাইদুর রহমান এবং বেলজিয়ামের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ‘জান ডি নুল’ এর পক্ষে রিজিউন্যাল ম্যানেজার ড্যানি ডি হার্ট সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।
এ সময় নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান, নৌ সচিব অশোক মধাব রায়সহ নৌপরিবহন মন্ত্রানালয়ের সংশ্লিষ্টি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
শাজাহান খান বলেন, ‘সমঝোতা স্মারক সই একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। দীর্ঘ দিনের স্বপ্ন পায়রা বন্দর। এই বন্দর ও পদ্মা সেতু দেশের অর্থনীতিকে গতিশীল করবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সৃশনশীল কূটনৈতিক তৎপরতা ও নেতৃত্বে আমরা বিস্তীর্ণ সাগরের ওপর একচ্ছত্র মালিকানা অর্জন করেছি। এখন সময় অফুরান এই সমুদ্র সম্পদ ও সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে জাতীয় অর্থনীতিকে আরও বেগবান করে তোলা।’
তিনি জানান, পায়রা বন্দরের মাধ্যমে বাংলাদেশের নৌ-বাণিজ্য আরো প্রসারিত করার অপার সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে। এখানে থাকবে একটি আধুনিক মানের কয়লা টার্মিনাল এবং এই টার্মিনালের মাধ্যমে খালাসকৃত কয়লা থেকে কয়েকটি কয়লাভিত্তিক পাওয়ার প্ল্যান্টের মাধ্যমে ৬ হাজার ৩৪০ মেঘাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে বলে মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরের মোহনা রামনাবাদ চ্যানেল সংলগ্ন আন্ধারমানিক নদীর পাড়ে কলাপাড়া উপজেলার টিয়াখালী ইউনিয়নের ইটবাড়িয়ায় নির্মাণ হচ্ছে দেশের তৃতীয় সমুদ্রবন্দর ‘পায়রা সমুদ্র বন্দর’। প্রক্রিয়া চলছে এ বন্দরে পণ্য খালাস শুরুর।
কিন্তু বন্দর থেকে পণ্য পরিবহনের জন্য অভ্যন্তরীণ নৌপথগুলোর দশা শোচনীয়। আন্ধারমানিক নদী দিয়ে পায়রা বন্দরের সঙ্গে সংযোগকারী ১০টি গুরুত্বপূর্ণ নদীপথের অন্তত একশ’ স্থানে (পয়েন্ট) চরম নাব্যতা সঙ্কট দেখা দিয়েছে। পয়েন্টগুলো হচ্ছে, বরিশাল-পটুয়াখালী-গলাচিপা (ভায়া কারখানা)-পায়রা বন্দর নৌপথের চরনাইদা বগাদিয়া।
নৌপথ সচল রাখতে নিয়োজিত বিআইডব্লিউটি-এর নৌ সংরক্ষণ ও পরিচালন বিভাগ এসব নাব্যতা সঙ্কটে পড়া পয়েন্টগুলো চিহ্নিত করেছে। এসব নদীপথ খনন করে নৌযান চলাচলের উপযোগী করার জন্য একই সংস্থার পরিকল্পনা বিভাগকে গত ৭ ফেব্রুয়ারি তাগিদপত্র দিয়েছে নৌ সংরক্ষণ ও পরিচালন বিভাগ।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, নৌপথগুলোর এসব পয়েন্টে চর জেগে উঠে নাব্যতা হারিয়েছে। ফলে পণ্যবোঝাই নৌযান দূরের কথা সাধারণ নৌযানও চলাচল করতে পারছে না।
সূত্র জানিয়েছে, পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলে নৌপথের নাব্যতা নির্দেশিকার জন্য সাগর মোহনা থেকে চারিপাড়া হয়ে রামনাবাদ মোহনা পর্যন্ত নদীপথে সিগন্যালিং বয়া ও কিনারে সিগন্যাল বাতি স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া বন্দর থেকে খালাসকৃত পণ্য দেশের অভ্যন্তরে পরিবহনের জন্য কুয়াকাটাগামী সড়কের রাজপাড়া থেকে বন্দর পর্যন্ত সাড়ে ৫ কিলোমিটার সড়ক ফোর লেন করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তাই জরুরি ভিত্তিতে পায়রা বন্দরের সঙ্গে সংযোগকারী নাব্যতা হারানো নৌপথগুলো খনন করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
উল্লেখ্য, দেশের তৃতীয় সমুদ্রবন্দর পায়রা বন্দরের সঙ্গে সংযোগকারী অভ্যন্তরীণ গুরুত্বপূর্ণ ১০টি নৌপথে নাব্যতা সঙ্কট দূর করতে ক্যাপাপিটাল ও রক্ষণাবেক্ষণ ড্রেজিং কার্যক্রম গ্রহণ করেছে সরকার। অধিকাংশ এলাকাজুড়ে নদীতে চর জেগে উঠায় বন্দরে পণ্য পরিবহন বাধাগ্রস্ত হওয়ার ফলে সরকার এ উদ্যোগ নেয়। খুব শিগগিরই এসব নৌপথ খনন করা হবে বলে জানিয়েছে পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ।

