কুষ্টিয়া প্রতিনিধি : এক সময়ের চরমপন্থি অধ্যুষিত কুষ্টিয়া এখন নিষিদ্ধ জঙ্গিদের বড় ঘাটি হিসাবে দেখা দিয়েছে। ঢাকা থেকে কিছু দিনের ব্যবধানে ডিবি পুলিশ দু’বার এসে পাঁচজনকে আটক করে নিয়ে গেছে। আটককৃতরা এলাকায় শান্তিপ্রিয় মানুষ হিসাবে পরিচিত। তাদের নামে কোনো অভিযোগও নেই। কিন্তু ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় তারা ভয়ানক সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত বলে খবর রয়েছে ডিবির কাছে। এরই সূত্র ধরে তাদের আটক করা হয়।
এদিকে কুষ্টিয়া থেকে হুজি ও আনসার উল্লাহ বাংলা টিমের নেতা ও সদস্য গ্রেপ্তার হওয়ার পর নড়েচড়ে বসেছে কুষ্টিয়ার প্রশাসন। তারা ইতোমধ্যে নিয়মিত কাজের মধ্যে কুষ্টিয়ায় বাসা ভাড়া করে থাকা মানুষদের তথ্য সংগ্রহ করেছে। বিভিন্ন জায়গায় পুলিশি নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
কুষ্টিয়া পুলিশের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, এ বিষয়টি খুবই স্পর্শকাতর। ভালোভাবে না জেনে বা প্রমাণ হাতে না নিয়ে এ বিষয়ে কাউকে আটক বা জিজ্ঞাসাবাদ করা কঠিন। পুলিশ সাধ্যমত চেষ্টা করে যাচ্ছে, কুষ্টিয়াতে কোনো অঘটন যেন না ঘটে।
সম্প্রতি ঢাকায় সংঘঠিত জোড়া খুনের সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে কুষ্টিয়া শহরের ছয় রাস্তার মোড় থেকে শিহাব ওরফে কেরামতকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার বাড়ি কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার নন্দলালপুর ইউনিয়নের সদরপুর গ্রামে। তার বাবার নাম মৃত আমীর আলী শেখ।
শিহাবের এলাকাবাসী ও পারিবারিক সূত্র জানায়, সদরপুর গ্রামের নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে শিহাব। লেখাপড়ায় উচ্চ মাধ্যমিকের গন্ডি পেরিয়েছে। বাবা আমীর শেখের ইচ্ছে ছিল মাদরাসা লাইনে পড়ালেখা করানোর। তাই বড় ছেলে আশরাফুলের চাকরির সুবাদে মৌলভীবাজারে একটি মাদরাসায় ভর্তি করা হয় তাকে। কোরআন ২০ পারা খতম করে কোনো এক সময় কাউকে কিছু না বলেই পালিয়ে আসে নিজ এলাকায়। কুমারখালী ডিগ্রি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়। এরপর নিজ এলাকায় মাছ চাষে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।
শিহাবের আত্মীয় ও প্রতিবেশী আবুল ফজল, রিপন ও দাউদ আলী জানান, শিহাব বিবাহিত, তার সংসারে দুটি মেয়ে সন্তান রয়েছে। এলাকার সবাই শিহাবকে একজন ভালো মানুষ হিসেবেই জানে। তাদের মতে, শিহাব কোনো খারাপ কাজে লিপ্ত থাকতে পারে না।
শিহাবের চাচা আবু তালেব জানান, তার মাঝে খারাপ কিছু লক্ষ্য করিনি। সে যদি কোনো অন্যায় কাজে জড়িত থাকে তাহলে শাস্তি হলে কোনো কিছু বলার নেই।
এর আগে গত ১০ ও ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা থেকে ডিবি পুলিশ কুষ্টিয়ায় অভিযান চালিয়ে এক স্কুল শিক্ষক, মসজিদের ইমাম ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। এদের তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও বেশ কয়েকদিন বিষয়টি গোপন রেখে ১৭ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার রাতে পুরান ঢাকা থেকে জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদের ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ।
জানা যায়, গত ১০ ও ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে কুষ্টিয়া শহরের লাহিনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের গণিত ও বিজ্ঞানের শিক্ষক সাজ্জাদুল আলম মুক্তি, শহরতলীর নগর মোহাম্মদপুর জামে মসজিদের পেশ ইমাম ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দাওয়াহ বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র আবুল বাশার ও কুষ্টিয়া ফায়ার সার্ভিস বিভাগের ড্রাইভার মেসবাহ জোয়ার্দ্দারকে ঢাকার ডিবি পুলিশ কুষ্টিয়ায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃতদের স্বজনদের দাবি, ঢাকা থেকে আগত গোয়েন্দা পুলিশের টিম গত ১০ ও ১১ ফেব্রয়ারি রাতে অভিযান চালিয়ে শিক্ষক সাজ্জাদুলকে ও মসজিদের ইমাম আবুল বাশারকে নিজ নিজ বাড়ি থেকে ও ফায়ার সার্ভিস বিভাগের কর্মী মেজবাহ জোয়ার্দ্দারকে কর্মস্থল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ওই সময় তাদের গ্রেপ্তারের পর গোয়েন্দা পুলিশ বলেছে, এরা বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মসূচি ও ধর্ম নিরপেক্ষ মতাদর্শের ব্যক্তিদের ওপর আক্রমণের পরিকল্পনায় ছিল।

