স্পোর্টস ডেস্ক : গুজরাটের বিরুদ্ধে বিপর্যয়ের ম্যাচে তিনি পাল্টা লড়াইয়ের বার্তা পৌঁছে দিয়েছিলেন বিপক্ষ শিবিরে। ব্যাটে হাফসেঞ্চুরির পাশাপাশি বল হাতে গুজরাত লায়ন্সকে প্রথম ধাক্কাটাও দিয়েছিলেন। রাইজিং পুণে সুপারজায়ান্টসের বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে সেই সাকিব-আল-হাসান উদ্বিগ্ন সতীর্থ সুনীল নারাইনের ফর্ম নিয়ে। বাংলাদেশের অলরাউন্ডার মেনে নিচ্ছেন, নারাইন নিষ্প্রভ থাকায় সমস্যায় পড়তে হচ্ছে কেকেআরকে।
শুক্রবার সকাল থেকে গৌতম গম্ভীর,রবিন,উথাপ্পাসহ কেকেআর ক্রিকেটারেরা বাইপাসের ধারে টিমহোটেলে ব্যস্ত সময় কাটালেন স্পনসরদের অনুষ্ঠানে। জার্সি, হেলমেট, গ্লাভসের মতো বিভিন্ন ক্রিকেটীয় সরঞ্জামে সই করলেন ক্রিকেটারেরা। সাকিব এলেন সবার শেষে। নবম আইপিএলে নারাইনকে সেরকম কার্যকরী না দেখানোটা কি কেকেআরের কাছে ধাক্কা? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্ন শুনে সাকিব বলেন, ‘হ্যাঁ, অবশ্যই। ওর মতো ক্রিকেটার প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স না করলে স্বাভাবিকভাবেই সেটা বড় ধাক্কা।’
বাংলাদেশের প্রাক্তন অধিনায়ক আরও বলছেন, ‘আমাদের ডেথ ওভারে নারাইনের বল করা এক রকম নিশ্চিত থাকত। এবার সেটা হচ্ছে না। শেষ পাঁচ-ছ’ওভারেই আমরা বেশিরভাগ ম্যাচ হেরে যাচ্ছি। এটা অবশ্যই একটা দুশ্চিন্তার ব্যাপার।’ বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার যোগ করেন, ‘গত পাঁচ বছর ধরে নারাইন যে ভূমিকাটা পালন করত, এবার সেটা পারছে না। নতুন কাউকে সেই দায়িত্ব নিতে হবে।’
তিনি নিজে নাইটদের দশ ম্যাচের মধ্যে প্রথম একাদশে সুযোগ পেয়েছেন মাত্র ছ’টিতে। সাকিব অবশ্য খোলামেলাভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি প্রত্যেক ম্যাচেই খেলতে চান। বলছেন, ‘কেউই চায় না বাইরে বসতে। আমিও চাই না। সব ম্যাচ খেলতে চাই। দলের হয়ে অবদান রাখতে চাই।’ পাশাপাশি তিনি আরো বলেন, ‘দলে দশজন বিদেশি ক্রিকেটার রয়েছে। তাদের মধ্যে মাত্র চারজনই প্রথম একাদশে সুযোগ পাবে। কাউকে না কাউকে বসতেই হবে। কিছু ক্ষেত্রে টিম কম্বিনেশনের স্বার্থে বা উইকেটের চরিত্র বুঝে কিছু বদল করতে হয়।’
প্লে-অফে যাওয়ার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী সাকিব। পয়েন্ট টেবিলের প্রথম চার দলের মধ্যে থাকতে হলে বাকি চার ম্যাচের মধ্যে অন্তত দু’টিতে জিততে হবে কেকেআরকে। নাইটদের ২৯ বছরের অলরাউন্ডার বলছেন, ‘যেভাবে খেলছি তাতে আশা করছি বাকি চার ম্যাচের অন্তত দু’টো জিতব। আমাদের চেষ্টা থাকবে প্রথম দু’দলের মধ্যে জায়গা করে নেব আমরা। তাহলে ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা আরও বাড়বে। পুণের বিরুদ্ধে জিততে পারলে ছন্দ পেয়ে যাব। তাতে পরের তিনটি ম্যাচে সুবিধা হবে।’
গত আইপিএলের তিক্ত অভিজ্ঞতাও ভুলছেন না তিনি। পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকলেও শেষ দু’টো ম্যাচ হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল নাইটদের। সাকিব বলছেন, ‘গতবারের টুর্নামেন্ট থেকে শিক্ষা নিয়েছি যে, আরাম করার কোনও জায়গা নেই। প্রত্যেকটা ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ।’
ধোনিদের বিপজ্জনক প্রতিপক্ষ মনে করছেন সাকিব। তিনি বলেন, ‘ধোনিরা টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গিয়েছে। তবে ওদের দলের যা দক্ষতা, সকলকে ভুল প্রমাণ করার জন্য মুখিয়ে থাকবে পুণে।’ আইপিএলে স্বদেশীয় মুস্তাফিজুর রহমানের পারফরম্যান্স দেখে প্রভাবিত সাকিব বলেন, ‘মুস্তাফিজুর অসম্ভব প্রতিভাবান। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ও এখন বিশ্বের সেরা পেসার।’ বাংলাদেশকে ক্রিকেটবিশ্বে সকলের সমীহ আদায় করে নিতে হলে টেস্ট ক্রিকেটে ভাল খেলতে হবে বলেও মত তার।
সাকিব আরো যোগ করেন, ‘সীমিত ওভারের ক্রিকেটে বাংলাদেশ খুব ভাল খেলছে। তবে টেস্ট ক্রিকেটে আরও ভাল খেলতে হবে। টেস্ট জিততে হবে।’

