সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : ভারতে চলছে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগ। এর উন্মাদনা বাংলাদেশও। সেটা অবশ্যই মুস্তাফিজুরের কারণে। সঙ্গে রয়েছেন সাকিব আল হাসানও। তবে মুস্তাফিজকে নিয়েও আগ্রহটা সবার বেশী। কারণ হায়দরাবাদের হয়ে প্রতি ম্যাচেই খেলে যাচ্ছেন তিনি। তাও আবার বল হাতে রীতিমতো চমক দেখিয়ে। গোটা বাংলাদেশের ক্রিকেট প্রেমী পাখির চোখ করে থাকে মুস্তাফিজের খেলা থাকলে। আর মুস্তাফিজের নিজ জেলা শহর সাতক্ষীরাতে তো উৎসাহ-উদ্দীপনা থাকে আরও বেশী। মুস্তাফিজের খেলা মানেই বাড়তি রোমাঞ্চ বয়ে আনে সেখানকার দর্শকদের।
কাটার পেস বিস্ময়ের খেলা দেখতে জেলার মোড়ে মোড়ে জমায় দর্শক। যেদিন মুস্তাফিজের খেলা থাকে সেদিন ভক্তরা আগেই কাজ সেরে খেলা দেখার আসর বসান। শুধু মোড়ে মোড়ে চায়ের দোকানে নয়, ক্লাবে ক্লাবে, বাড়িতে বাড়িতে, মেস ও হোস্টেলেও জমে উঠে মুস্তাফিজ উৎসব। শিশু থেকে বৃদ্ধ সবার মুখে মুস্তাফিজ বন্দনা। সাবাস মুস্তাফিজ ! চালিয়ে যাও এগিয়ে যাও, দেখিয়ে দাও ক্রিকেট বিশ্বকে। এধরনের বাক্য শোনা যায় ক্রিকেট ভক্তদের মুখ থেকে।
মুস্তাফিজের সানরাইজার্স হায়দরাবাদের খেলা রাতে হলেও, দেখার প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায় দুপুর থেকেই। শুধুমাত্র মুস্তাফিজের এলাকা নয় গোটা জেলায় সকল শ্রেণী-পেশার মানুষ সব কাজ বাদ দিয়ে মুস্তাফিজের খেলা দেখে।
সদ্য অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক শেখ জাভিদ হাসান বলেন, ‘মুস্তাফিজের ভেতর যে প্রতিভা সেটি প্রকৃতিগতভাবে পেয়েছে সে। অন্যদের মতো স্বভাব-সুলভ খেলোয়াড় সে নয়। অনুশীলনের মাধ্যমে সে তার প্রতিভাকে শাণিত করেছেন। মুস্তাফিজ ভালো খেলুক বা খারাপ খেলুক সেটি মূখ্য বিষয় নয়। খেলছে তো মুস্তাফিজ।’
বিদ্যুত না থাকলে স্মার্ট ফোন ব্যবহার করে ক্রিকইনফোর মাধ্যমে লাইভ ক্রিকেট স্কোর আপডেটের মাধ্যমে খেলার দেখার তৃষ্টা মেটান তিনি।
মুস্তাফিজের খেলা থাকলে সেদিন সকল কাজ বাদ দিয়ে মুস্তাফিজের খেলা দেখেন এই অধ্যাপক। কাটার মাস্টারের খেলার দিন এলাকার কৃষক তার কাজ বাদ দেয়, ব্যবসায়ী তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়, পাড়ার ছেলেরা তাদের খেলা বাদ দিয়ে ক্লাব বা খেলার মাঠে বড় পর্দা টানিয়ে দেখে মুস্তাফিজের খেলা। কালিগঞ্জ উপজেলার তারালি ইউনিয়নের তেতুলিয়া গ্রামের গিয়ে দেখা গেছে এমন দৃশ্য।
আইপিএলে এখন পর্যন্ত সানরাইজার্সের হয়ে ১১ ম্যাচে মুস্তাফিজ ঝুলিতে ভরেছেন ১৩টি উইকেট। এরমধ্যে এক ম্যাচে ৪ ওভারে ৯ রানে এক মেডিন ওভারসহ ২ উইকেট নিয়ে ক্রিকেট বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন এই সাতক্ষীরা এক্সপ্রেস। বরেয়া মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শরীর চর্চার শিক্ষক একেএম হাসানুজ্জামান বলেন, ‘আমার ছাত্র মুস্তাফিজের ছবি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গণভবনের দেওয়ালে সেটে দিয়েছে, এতে আমার স্কুল এবং আমরা গর্ববোধ করছি।
মুস্তাফিজের সবচেয়ে ঘনিষ্ট বন্ধু হাফিজ বলেন, ‘মুস্তাফিজের খেলার দিন বড় পর্দার ব্যবস্থা করি এবং সকল কাজ বাদ দিয়ে মুস্তাফিজের খেলা দেখি। মুস্তাফিজ উইকেট নিলে কি অনুভূতি হয় সেটি ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। এলাকার মানুষ যখন বলে তুই মুস্তাফিজের বন্ধু তখন কী যে ভালো লাগে সেটি ভাষায় প্রকাশ করতে পারবো না।
মুস্তাফিজের আরেক বন্ধু যতিন্দ্র নাথ মন্ডল বলেন, ‘আইপিএলেও সত্যি অসাধারণ বল করেছে মুস্তাফিজ। বন্ধুর এই অর্জনে আমি খুব খুশি। সারাবিশ্ব আমার বন্ধুকে নিয়ে আলোচনা করছে এর চেয়ে বড় কী হতে পারে। সে আরও ভালো খেলা উপহার দিক এটাই আমার চাওয়া।’ মুফিজের বাবা আলহাজ্ব আবুল কাশেম বলেন, ‘মুস্তাফিজ এখন আর আমার একার নয় সে এখন গোটা সাতক্ষীরার, দেশের সকলের। সন্তানের অর্জনে পিতা-মাতার চেয়ে কেউ বেশী খুশি হয় না। আইপিএলের মতো আসরে ম্যাচ সেরা হচ্ছে আমার অনূভূতি বোঝাতে পারবো না।’
মুস্তাফিজের এলাকায় একটি বে-সরকারি মোবাইল ফোন কোম্পানির পক্ষ থেকে মুস্তাফিজের সকল ম্যাচ বড় পর্দায় এবং লোডশেডিংয়ে নিরবচ্ছিন্ন খেলা দেখতে পারে সে জন্য জেনারেটরের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এটিকে মুস্তাফিজের ক্রিকেট ভক্তরা স্বাগত জানিয়েছেন।

