স্পোর্টস ডেস্ক : ‘কী সহজে হয়ে গেল বলা, কাঁপল না গলা!’ শামসুর রহমানের বিখ্যাত কবিতা ‘একটি ফটোগ্রাফ’-এর অংশ। ছেলের মৃত্যর খরব বলতে গিয়ে কবি নিজেকেই এমন প্রশ্ন করেছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকার অলরাউন্ডার ক্রিস মরিসের ক্ষেত্রেও কি ব্যাপারটা এমন হওয়া উচিত ছিল না? দু’এক ম্যাচ দিয়েই মুস্তাফিজুর রহমানকে আটকানোর রহস্য উদঘাটন করে ফেললেন? হ্যাঁ, এতটুকু খুব সহজেই বলেছিলেন। তবে মুস্তাফিজকে নিয়ে কথা বলার যবনিকা টানলেন গলা কাঁপিয়ে এবং কাটার বয়ের সমীহ করেই।
বৃহস্পতিবার দিল্লি ডেয়ারডেভিলসের কাছে ৭ উইকেটে হেরে গেছে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। ওই ম্যাচে মুস্তাফিজ ভালো বোলিং করতে পারেননি। ৪ ওভারে ৩৯ রান খরচ করেও উইকেটের দেখা পাননি বাংলাদেশি পেসার। এই পারফরম্যান্স দিয়েই নাকি মুস্তাফিজ-রহস্য উন্মোচন করার সাফল্যের দাবিদার হয়েছে পুনে সুপারজায়ান্ট! অসি অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ ও ভারতীয় ক্রিকেটার রবিচন্দ্রন অশ্বিন খুব সাবলীলভাবেই খেলেছিলেন মুস্তাফিজকে! তাদের দেখানো পথে হেঁটেই সফল হয়েছে দিল্লিও। দলটির প্রোটিয়া তারকা ক্রিস মরিসের দাবি এমনই।
এক সংবাদ সম্মেলনে দিল্লির অলরাউন্ডার মরিস বলেন,‘এর জন্য আমরা অবশ্যই বেশ সময় নিয়েছি। কীভাবে স্টিভেন স্মিথ তাকে (মুস্তাফিজ) খেলেছে, সেটা বারবার দেখেছি। আগের ম্যাচে অশ্বিন তাকে কীভাবে মোকাবিলা করেছে, সেখানেও নজর রেখেছি। বিশেষ করে ডানহাতিদের জন্য এই পর্যবেক্ষণ! আমরা অনেক কিছু বিশ্লেষণের পর তাকে আটকানোর একটা পরিকল্পনা বের করেছি। সেটা কাজে লেগেছে!’
সব শেষে মুস্তাফিজের প্রশংসা করতে ভুল করেননি হায়দরাবাদের বিপক্ষে দিল্লির হয়ে আলো ছাড়িয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কারজয়ী মরিস। বলেন, ‘মাত্র ২০ বছর বয়সেই সে (মুস্তাফিজ) অবিশ্বাস্য একজন বোলার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। তার চেয়েও বড় কথা, প্রথমবার আইপিএলে খেলতে এসেই আলো ছড়াচ্ছে। প্রথমবারেই তাকে নিয়ে সবার মাথার ঘাম পায়ে ফেলতে হচ্ছে, তাকে আটকানোর পথ খুঁজতে হচ্ছে। এর জন্য পর্দার আড়ালে বেশ ঘাম ঝরাতে হয়। সব কথা তো আর খুলে বলা যায় না!’

