অর্থনৈতিক প্রতিবেদক : ব্যাংকগুলোর অতিরিক্ত বিনিয়োগ (এক্সপোজার) সমন্বয় ইস্যুতে বেশ কিছু দিন শেয়াবাজারে অস্থিরতা বিরাজমান ছিল। কিন্তু গত সোমবার বিকল্প নীতির মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান প্রক্রিয়াধিন বলে জানায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ খবরের পরের দিন সূচকের উল্লম্ফন ছিল শেয়ার বাজারে। কিন্তু তারপরও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সাপ্তাহিক লেনদেনে নেতিবাচক প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে। যার ধারবাহিকতায় সাপ্তাহিক লেনদেন কমেছে ১ দশমিক ৯৮ শতাংশ। তবে সামনের দিনগুলোতে বাজার ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা আছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শেয়ারবাজারে ব্যাংকগুলোর অতিরিক্ত বিনিয়োগ (এক্সপোজার লিমিট) সমন্বয়ের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এতে সময় না বাড়িয়ে সহযোগী প্রতিষ্ঠানের মূলধন বাড়ানোর মাধ্যমে সমন্বয়ের যে নীতি বাংলাদেশ ব্যাংক গ্রহণ করেছে তা বাজারের জন্য দীর্ঘ মেয়াদি ফলপ্রসু হবে। এতে বাজারে সেল প্রেসার থাকবে না। ফলে বাজার ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা আছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পহেলা মে (রোববার) সরকারি ছুটির কারণে গত সপ্তাহে চার কার্যদিবস দেনদেন হয়েছে দেশের শেয়ারবাজারে। এ সময়ে টাকার ডিএসইতে অংকে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৭৪৫ কোটি ৯১ লাখ ৮২ হাজার ২২৯ টাকা। যা এর আগের সপ্তাহের চেয়ে ৩৫ কোটি ২০ লাখ টাকা বা ১ দশমিক ৯৮ শতাংশ কম। আগের সপ্তাহে ডিএসইতে পাঁচ দিনে লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ৭৫৭ কোটি ৩৪ লাখ ৮১ হাজার ৪৯৪ টাকা।
এদিকে, সোমবার (২ এপ্রিল) লেনদেন শুরুতে ডিএসইর বাজার মূলধন ছিল ২ লাখ ৯৯ হাজার ৯৮৫ কোটি ২৯ লাখ ৩০ হাজার ১৬৪ টাকায় এবং শেষ কার্যদিবসে বৃহস্পতিবার (৫ এপ্রিল) লেনদেন শেষে বাজার মূলধন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৫ হাজার ৫৭৮ কোটি ৬৪ লাখ ৭৮ হাজার ৩৪ টাকায়। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন বেড়েছে ৫ হাজার ৫৯৩ কোটি ৩৫ লাখ ৪৭ হাজার টাকা বা ১ দশমিক ৮৬ শতাংশ।
এদিকে, গত সপ্তাহে ডিএসইতে বেড়েছে দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ। প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয়েছে ৪৩৬ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। যা তার আগের সপ্তাহে ছিল ৩৫৬ কোটি ৬২ লাখ টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে গড়ে লেনদেন বেড়েছে ৮০ কোটি ২৫ লাখ টাকা বা ২২ দশমিক ৫৩ শতাংশ বেশি।
গত সপ্তাহে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে ১১১ পয়েন্ট বা ২ দশমিক ৬৫ শতাংশ, ডিএস৩০ সূচক বেড়েছে ৫২ পয়েন্ট বা ৩ দশমিক ২৮ শতাংশ এবং শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস বেড়েছে ৩১ পয়েন্ট বা ৩ দশমিক ১২ শতাংশ।
গত সপ্তাহে ডিএসইতে তালিকাভুক্ত মোট ৩২৯টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ২০১টির, কমেছে ১০০টির এবং অপরিবর্তিত আছে ২৫টির আর লেনদেন হয়নি তিনটি কোম্পানির শেয়ার। গত সপ্তাহে দেশের অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সিএএসপিআই সূচক বেড়েছে ২ দশমিক ৫৫ শতাংশ। সিএসই৩০ সূচক বেড়েছে ২ দশমিক ৬৪ শতাংশ, সার্বিক সূচক সিএসসিএক্স বেড়েছে ২ দশমিক ৬৪ শতাংশ, সিএসই৫০ সূচক বেড়েছে ২ দশমিক ৯০ শতাংশ এবং শরীয়াহ সিএসআই সূচক বেড়েছে ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ।
গত সপ্তাহে সিএসইতে গড়ে মোট লেনদেন হয়েছে ২৬৯টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ার। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১৬১টির, কমেছে ৭৯টির এবং অপরিবর্তিত আছে ২৯টির। টাকার অংকে লেনদেন হয়েছে ৯৭ কোটি ৮৩ লাখ ৮৪ হাজার টাকা।

