ঢাকাTuesday , 26 April 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ব্যাংকে অনলাইন সেবা পাচ্ছে মাত্র ২% গ্রাহক

Link Copied!

onlineনিউজ ডেস্ক : সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে দেশের ৫৬টি ব্যাংকে প্রায় ৮ কোটি গ্রাহক হিসাবের মাত্র ২ শতাংশ অনলাইন সেবার সুবিধা পাচ্ছে। বিভিন্ন ব্যাংক থেকে মোবাইলে ও এসএমএস-এর মাধমে এ সেবা গ্রহণকারী গ্রাহক হিসাব ১ কোটি ২৩ লাখের কিছু বেশি, যা মোট হিসাবের ১৫ দশমিক ৫৫ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স ডিপার্টমেন্টের তৈরি করা এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৫ সাল শেষে সবগুলো ব্যাংকে গ্রাহকের বিভিন্ন ধরনের মোট হিসাব (অ্যাকাউন্ট) রয়েছে ৭ কোটি ৯১ লাখ ১৪ হাজার ৩৯৬টি। যার মধ্যে ১৬ লাখ ২৯ হাজার ৭৭২টি হিসাব অনলাইন ব্যাংকিং সুবিধার আওতায় পরিচালিত হয়। শতাংশের হিসাবে এটি মাত্র ২ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ। এর বাইরের ৭ কোটি ৭৪ লাখ ৮৪ হাজার বা ৯৮ শতাংশ হিসাব অনলাইন ব্যাংকিং সুবিধার বাইরে রয়েছে।
এবিবির ভাইস চেয়ারম্যান ও ঢাকা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেছেন, ‘কোর ব্যাংকিং প্লাটফর্মটা এখনো আমাদের দেশে তৈরি হয়নি। যে কারণে প্রায় ৮ কোটির মতো অ্যাকাউন্টের ৯৮ শতাংশই এখনো অনলাইন সেবার বাইরে। এটাতে সরকারি ব্যাংকগুলো আরও বেশি পিছিয়ে রয়েছে।’
তিনি জানান, ‘এখনো কোনো গ্রাহক এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় টাকা পাঠাতে গেলে তাকে একটি শাখায় যেতে হয়। সেখানে গিয়ে যে শাখায় টাকা পাঠানো হবে সেই শাখার কোড বের করে, ডিটেইল নিয়ে এবং সেটা অবার অনলাইনের আওতায় কি না সেটা বের করতে হয়। তার মানে সময়টা বেশি লাগছেই। অনলাইন সুবিধাটা পুরোপুরি থাকলে এ সময়টা লাগত না। গ্রাহকরাও উপকৃত হতো দ্রুত।’
কোর ব্যাংকিং প্লাটফর্ম গড়ে উঠতে কত সময় লাগতে পারে জানতে চাইলে শীর্ষ এ ব্যাংকার বলেন,  ‘কোন ব্যাংকের কী অবস্থা আমি আসলে সম্পূর্ণ জানি না। তবে এর জন্য আরও অনেক বছর লেগে যাবে। কারণ হিউজ ইনভেস্টমেন্টেরও প্রয়োজন রয়েছে; সেটাতেও প্রস্তুতি থাকতে হবে।’
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকারি ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে দেখা গেছে, ৩ কোটি ৬১ লাখ ২৬ হাজার গ্রাহক একাউন্টের মাত্র ২৬টি ব্যাংক হিসাব অনলাইন ব্যাংকিং সুবিধা গ্রহণ করে। আর ৩ হাজার ১০১টি হিসাব ব্যাংকিং সেবা গ্রহণ করে মোবাইলে বা এসএমএসের মাধ্যমে। বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোতে গ্রাহকের রয়েছে ৪৩ লাখ ৮৮ হাজার ব্যাংক হিসাব। ব্যাংকগুলোর কোন হিসাবই অনলাইন সেবার আওতায় নেই।
বেসরকারি ব্যাংকগুলোর ৩ কোটি ৭৮ লাখ ২৬ হাজার হিসাবের বিপরীতে ১৪ লাখ ৮১ হাজার বা ৩ দশমিক ৯২ শতাংশ হিসাব অনলাইন সেবা গ্রহণ করছে। তবে এর মধ্যে ৩১ দশমিক ৭০ শতাংশ মানুষ মোবাইলে বা এসএমএসে ব্যাংকিং সেবা নিচ্ছে। বিদেশি ব্যাংকগুলোতে অ্যাকাউন্ট আছে প্রায় ৪ লাখ ৬০ হাজার গ্রাহকের। এদের ৩১ দশমিক ৩৯ শতাংশ বা ১ লাখ ৪৪ হাজার গ্রাহক অনলাইন সেবা নিচ্ছে। আর নতুন ব্যাংকগুলোর ৩ লাখ ১৩ হাজার ৭৪৬টি হিসাবের মধ্যে অনলাইন সুবিধাভোগীর সংখা ৪ হাজার ৯০টি।
গ্রাহক হিসাবের পাশাপাশি সারাদেশে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর ৩ হাজার ৬৯৭টি শাখার মধ্যে এখনো ১ হাজার ২৪টি শাখা রয়েছে অনলাইন সুবিধার বাইরে। অর্থাৎ মোট শাখার ২৭ দশমিক ৭০ ভাগ শাখায় গ্রাহকরা অনলাইন ব্যা্ংকিং সুবিধা পায় না।  তথ্য অুনযায়ী, ২ হাজার ৬৭৩টি শাখায় গ্রাহকদের অনলাইন ব্যাংকিং সুবিধা চালু রয়েছে।
রাষ্ট্রায়ত্ত রুপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম ফরিদ উদ্দিন বলেন, ‘রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর অনেক শাখা। এগুলো ধাপে ধাপে অনলাইনের আওতায় আনতে হচ্ছে। যে কারণে একটু সময় লাগছে। তবে এ বছর (২০১৬ সাল) শেষে আমাদের সবগুলো শাখাই আমরা অনলাইনের আওতায় আনতে পারব।’
অনলাইন সেবা প্রদানে খারাপ অবস্থায় রয়েছে বিশেষায়িত ব্যাংক বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (বিডিবিএল) ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের (রাকাব)। চারটি ব্যাংকে মোট শাখার সংখ্যা রয়েছে ১ হাজার ৪০৮টি। এর মধ্যে মাত্র ৯৪টি শাখা ছাড়া বাকিগুলোতে অনলাইন সেবার বাইরে রয়েছে। অর্থাৎ ৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ শাখা অনলাইন সেবা দিচ্ছে গ্রাহকদের।
বেসরকারি ব্যাংকগুলো ৯৯ দশমিক ৫০ শতাংশ, বিদেশি ও নতুন ব্যাংকগুলো শতভাগ অনলাইন সেবা প্রদান করছে গ্রাহকদের। দেশে কার্যক্রম পরিচালনাকারী ৫৬ টি ব্যাংকের সর্বমোট ৯ হাজার ৪৫৮টি শাখার মধ্যে ৭ হাজার ১০০ শাখা অনলাইন সেবা দিচ্ছে। আর অনলাইন সেবা প্রদানের বাইরে রয়েছে ২৪ দশমিক ৯৩ শতাংশ বা ২ হাজার ৩০০ শাখা।