স্পোর্টস ডেস্ক : ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে (ডিপিএল) খুব একটা খেলার সুযোগ পান না জুবায়ের হোসেন লিখন। গতবার ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগে আবাহনীর হয়ে একটি মাত্র ম্যাচ খেলেছিলেন এই তরুণ লেগ স্পিনার। তাই ঢাকা ক্রিকেট লিগে পাওয়া সুযোগকে হেলায় হারাতে চান না তিনি। প্রাপ্ত সুযোগগুলোকে কাজে লাগিয়ে ঢাকা লিগের পাশাপাশি জাতীয় দলে নিজের জায়গাটাকে পোক্ত করতে চান বলে জানিয়েছেন জুবায়ের হোসেন লিখন।
শুক্রবার ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট কলাবাগান ক্রীড়া চক্রের বিপক্ষে আবাহনীর ৭ উইকেটের বড় জয়ে নিজের সামর্থের প্রমাণ রেখেছেন জুবায়ের। ৩৪ রানে ৬ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরাও হয়েছেন তরুণ এই লেগ স্পিনার। যদিও গত মৌসুমে আবাহনীতে ছিলেন লিখন।
কিন্তু সেবার প্রিমিয়ার লিগে একটির বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ হয়নি তার। দেশের প্রথম শ্রেণির দুই টুর্নামেন্টেও একই অভিজ্ঞতা হয়েছে এই লেগ স্পিনারের; জাতীয় ক্রিকেট লিগ ও বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগেও খেলেছেন একটি করে ম্যাচ। তাই জুবায়েরের মনে মধ্যে এক ধরনের জিদও তৈরি হয়েছিল বলে জানান তিনি।
চার মওসুম পর আবার আবাহনীতে আসা নতুন কোচ খালেদ মাহমুদ সুজন প্রথম থেকেই জুবায়ের ওপর আস্থা রেখেছিলেন। শেষ পর্যন্ত কোচের আস্থা রাখার প্রতিদানও তিনি দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মনের মধ্যে অবশ্যই এক ধরণের জিদ ছিলো। সত্যি কথা বলতে আমি ঘরোয়া ক্রিকেটে সুযোগ খুব কম পেয়েছি। আজকে (শুক্রবার) সুযোগ পেয়ে কাজে লাগাতে পেরেছি। ভবিষ্যতে সুযোগ পেলে এভাবেই কাজে লাগাব।’
কলাবাগান ম্যাচ ঘরোয়া ক্রিকেটে জুবায়েরের দ্বিতীয় লিস্ট ‘এ’ম্যাচ। এই সংস্করণে সব মিলিয়ে আটটি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। তাকে মূলত টেস্ট বোলার হিসেবে সাধারণত ভাবা হয়। তাই জানেন এই ৫০ ওভারের ম্যাচে সব সময় তাকে প্রমাণ দিতে হবে। এ প্রসঙ্গে জুবায়ের বলেন, ‘যখন থেকে খেলা শুরু করেছি, তখন থেকেই নিজেকে প্রমাণ করে আসছি। জানতামও নিজেকে সব জায়গায় প্রমাণ করা লাগবে। আজকে (শুক্রবার) তাই খুবই ভালো লাগছে।’
জুবায়ের হোসেন লিখনের সামর্থ্য নিয়ে কোনো সংশয় নেই বাংলাদেশ জাতীয় দলের প্রধান কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহের। লঙ্কান এই কোচ তরুণ লেগ স্পিনারের মধ্যে দেখেছেন অমিত সম্ভাবনা। জুবায়ের হোসেন জানান, শুধু কোচ নন জাতীয় দলের সিনিয়র ক্রিকেটারদের কাছ থেকেও দারুণ সহায়তা পান তিনি।
এ প্রসঙ্গে লিখন বলেন, ‘সবাই আমাকে ইতিবাচক কথা বলে। আমার চেষ্টা থাকে নিজেকে প্রমাণ করার। অনেক সময় সফল হই, আবার অনেক সময় ব্যর্থ হই। তবে সত্য কথা বলতে গেলে, সুযোগটা আমার জন্য খুব কমই আসে।’
খুব একটা ঢাকা লিগে খেলার সুযোগ পান না তরুণ এই লেগ স্পিার। তাই কম পাওয়া সুযোগকে এবার কাজে লাগাতে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী ছিলেন জুবায়ের। প্রস্তুতি ম্যাচের পারফরম্যান্সে নিজের ওপর আস্থা ছিল তার। ওয়ানডে দলে জায়গা পেতে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে ভালো করা কতটা জরুরি বলে মনে করছেন তিনি। এ বিষয়ে লিখন বলেন, ‘আমার প্রথম চেষ্টা থাকবে দলে নিয়মিত হওয়া। প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচগুলো খেলা আমার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। আশা করি, সামনের ম্যাচ খেলতে পারব। খেলার সুযোগ পেলে পরের ম্যাচেও এর ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চাই। তাই আমার চেষ্টা থাকবে সেরা পাঁচ বোলারের মধ্যে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা।’
শুক্রবার কলাবাগানের বিপক্ষে ম্যাচে বেশ কিছু বল ফুল টস হয়েছে, এটা কি ভেরিয়েশন আনতে গিয়ে এমনটা হয়েছে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘লেগ স্পিনারদের কিছু লুজ বল করতে হয়। অনেক সময় তারা লুজ বলে উইকেট পায়। এটা বেশিরভাগ লেগ স্পিনারের ক্ষেত্রে হয়। আমি আসলে চেষ্টা করেছিলাম শর্ট পিচ কম দিতে। এটা আজকে হয়নি। ম্যাচ খেলতে খেলতে এটা উন্নতি হবে।’
শুক্রবার তিনি পেয়েছেন ৬টি উইকেটে। তবে এই ৬টি উইকেটের মধ্যে হ্যামিল্টন মাসাকাদজাকে আউট করে বেশি খুশি হয়েছেন বলে জানিয়েছেন জুবায়ের হোসেন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘মাসাদাকজা আজকে (শুকবার) দারুণ শুরু করেছিল। ওর সঙ্গে এর আগেও খেলেছিলাম। তখন আমি খেয়াল করেছিলাম ও গুগলিতে একটু দুর্বল। আমি ওকে তিনটা বলই গুগলি করেছি এবং শেষ পর্যন্ত সফল হয়েছি।’

