বিনোদন ডেস্ক : তেজগাঁও রেলস্টেশন। স্টেশনের নাক বরাবর লাল রঙের জীর্ণ-শীর্ণ পরিত্যক্ত কয়েকটি ট্রেনের বগি দাঁড়িয়ে আছে। রঙচটা বগির জানালার ফাঁক গলে জটলা বেধেছে কিছু উৎসুক চোখ। অতি উৎসাহীরা দুর্গ গেড়েছে ট্রেনের ছাদে, টগবগে রোদে। কিসের এত্তো আয়োজন! ছাদ থেকে একজনের আহ্বান, ‘ছাদ থেকে ক্লিয়ার দেখা যায়!’ কী দেখা যায়?
ট্রেনের চাকার পাশের ফাঁক দিয়ে যতটুকু দেখা গেলো তাতে অনুমান করা গেলো, দুইটা পা দৌড়াচ্ছে। দুই রেললাইনের মাঝদিয়ে। গজিয়ে উঠা দুর্বা ঘাস মাড়িয়ে। পা জোড়া চামড়ার বুটে মোড়ানো। এর বেশি আর দেখা যায় না। তবে টের পাওয়া গেলো, চলছে টান টান উত্তেজনা।
একটা বগি টপকাতেই দেখা মিললো তাকে। যাকে ঘিরে এতো আয়োজন। নায়িকার নাম সোনিয়া হোসাইন। গায়ে চেকশার্ট। ছোট চুল। জিন্স পরা। আর হাতে একটি পিস্তল। ট্রেনের বগি থেকে লাফ দিয়েই ছুটছেন সামনে। ছুটছেন কেন? শর্ট শেষে সোনিয়া জানালেন, ‘আমি আন্ডারওয়ার্ল্ডে কাজ করি। এই স্টেশনে একজনকে খুন করে পালাচ্ছি।’ দৃশ্যটি মাহমুদ দিদারের নতুন নাটক ‘উড়াল প্রেম’র।
কয়েক দফায় দৃশ্যটি ধারণ করতে ঘেমে নেয়ে গেলেন সোনিয়া। মুখে মেকআপের লেশমাত্র নেই। টিস্যুতে বারবার মুখটা মুছেই দাড়াচ্ছেন ক্যামেরার সামনে। অনেকটা ক্রেজি ভাব। নাটকে সচরাচর এমনটা দেখা যায়নি তাকে। সোনিয়ার দৃশ্যটি শেষ হতেই হাততালি দিলেন মাহমুদ দিদার। সঙ্গে উৎসুক দর্শনার্থীরাও।আপাতত সোনিয়ার সিকুয়েন্স শেষ। তিনটা গড়িয়ে গেছে ততক্ষণে। লাঞ্চের বিরতি নিলেন।
ঠিক তখনই রেলস্টেশনে আবির্ভাব হলো আরেক চরিত্রের, তারিক আনাম খান। রেলস্টেশনের ফুটপাত ধরে হাজির হলেন মোটর বাইকে চেপে। শর্ট শেষে কথা হলো তার সঙ্গে। নিজের চরিত্রটাকে উপস্থাপন করলেন এভাবে, ‘আমিও আন্ডারওয়ার্ল্ডের লোক। বলা চলে গ্যাংস্টার আরকি! এই স্টেশনে একটি বড় ডিল ছিলো। সেকারণেই এখানে আসা।’
কিছুক্ষণ পর হাজির হবেন আরেক চরিত্র। নিশো, রিক্সার পেইন্টার। তার আগেই সন্ধ্যাটা নেমে এসেছে। এবার ফেরার পালা। ফেরার আগে মাহমুদ দিদার জানিয়ে দিলেন, ঈদেই প্রচার করা হবে নাটকটি।’

