ঢাকাWednesday , 20 April 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

জাবির ডিন নির্বাচনে প্যানেল ঘোষণা, প্রার্থীর ছড়াছড়ি

Link Copied!

ju1জাবি প্রতিনিধি : জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) আসন্ন ডিন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও বামপন্থি শিক্ষকরা পৃথক প্যানেল ঘোষণা করেছে। তবে সংগঠনগুলো পৃথক প্যানেল ঘোষণা করলেও আওয়ামী ও বিএনপির প্যানেলে প্রার্থীদের ছড়াছড়ি লক্ষ্য করা গেছে।
জাবির ৫ অনুষদের এ ডিন নির্বাচনে আওয়ামীপন্থি শিক্ষকরা ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ’, জাতীয়তাবাদী শিক্ষকরা ‘জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম’ ও আওয়ামীপন্থি শিক্ষকদের একাংশ এবং বামপন্থি শিক্ষকরা ‘প্রগতিশীল জোট’ প্যানেল থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
নির্বাচনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫টি অনুষদের ৫টি ডিন পদের বিপরীতে মোট ২৬ জন শিক্ষক তাদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে আওয়ামীপন্থি ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ’ প্যানেল থেকে ৫টি অনুষদের ডিন পদে ১২ জন শিক্ষক মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
পাশাপাশি বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের প্যানেল ‘জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম’ থেকে ৪টি অনুষদের ডিন পদে ১০ জন শিক্ষক মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
এছাড়া আওয়ামীপন্থি শিক্ষকদের একাংশ ও বামপন্থি শিক্ষকদের প্যানেল ‘প্রগতিশীল জোট’ থেকে ৪টি অনুষদের ডিন পদে মাত্র ৪ জন শিক্ষক মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস স্টাডিজ অনুষদে কেবল আওয়ামীপন্থি শিক্ষকরাই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এদিকে আওয়ামীপন্থি শিক্ষকদের মধ্যে অর্ন্তদ্বন্দ্ব ও গ্রুপিংয়ের কারণে তারা একাধিক প্রার্থী দিয়েছেন বলে মনে করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। অপরদিকে বিএনপিপন্থি শিক্ষকরা একাধিক প্রার্থী দেয়াকে নির্বাচনের কৌশল হিসেবে দেখছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, আগামী ১০ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন নির্বাচনে আওয়ামীপন্থি শিক্ষকদের প্যানেল ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ’ থেকে গাণিতিক ও পদার্থ বিষয়ক অনুষদের ডীন পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন শিক্ষক সমিতির বর্তমান সভাপতি ও পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক অজিত কুমার মজুমদার, পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ফরিদ আহমদ, গণিত বিভাগের অধ্যাপক লায়েক সাজ্জাদ এন্দেল্লাহ। জীব বিজ্ঞান অনুষদের ডিন পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ওই অনুষদের বর্তমান (ভারপ্রাপ্ত) ডিন ও প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক আবদুল জব্বার হাওলাদার, উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক রাশেদা ইয়াসমিন শিল্পী ও ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক এ.ওয়াই শেখ ফিরোজউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী।
কলা ও মানবিকী অনুষদের ডিন পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বাংলা বিভাগের অধ্যাপক খালেদ হোসাইন, প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক অসিত বরণ পাল ও নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক লুৎফর রহমান। সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ওই অনুষদের বর্তমান ডিন ও অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আমির হোসেন। বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ডিন পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ওই অনুষদের বর্তমান (ভারপ্রাপ্ত) ডিন এবং ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নীলাঞ্জন কুমার সাহা ও সহযোগী অধ্যাপক শেখ আবু তাহের।
এদিকে বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের প্যানেল ‘জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম’ থেকে গাণিতিক ও পদার্থ বিষয়ক অনুষদের ডিন পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক মো. মনজুরুল করিম ও পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক মো. মজিবর রহমান। জীব বিজ্ঞান অনুষদের ডিন পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক মাফরুহী সাত্তার, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সভাপতি মো. অধ্যাপক মনোয়ার হোসেন, উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক নাজমুল আলম ও ফিরোজা হোসেন। কলা ও মানবিকী অনুষদের ডিন পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দর্শন বিভাগের  অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান, অধ্যাপক মোস্তফা নাজমুল মানছুর ও বাংলা বিভাগের অধ্যাপক মামীমা সুলতানা। সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম।
অপরদিকে আওয়ামীপন্থি শিক্ষকদের একাংশ এবং বামপন্থি শিক্ষকদের প্যানেল ‘প্রগতিশীল জোট’ থেকে গাণিতিক ও পদার্থবিষয়ক অনুষদের ডিন পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এ.এ.মামুন। জীব বিজ্ঞান অনুষদের ডিন পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ মোস্তফা ফিরোজ। কলা ও মানবিকী অনুষদের ডিন পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ইতিহাস বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক এটিএম আতিকুর রহমান। সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক নইম সুলতান।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ডা. আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ‘মঙ্গলবার (১৯ এপ্রিল) মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ দিন ছিল। প্রার্থীরা তাদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। আগামীকাল আমরা যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্ত প্রার্থীদের একটি তালিকা প্রকাশ করবো। তবে কেউ চাইলে আগামী ২৬ এপ্রিলের মধ্যে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে পারবেন।’
নির্বাচনে আওয়ামীপন্থি শিক্ষকদের প্যানেল থেকে একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ’র সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. আমির হোসেন বলেন, ‘২৬ তারিখ পর্যন্ত মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সুযোগ রয়েছে। কে কে নির্বাচনে চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তা ওই দিন জানা যাবে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম’র সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. মো. শামছুল আলম বলেন, ‘নির্বাচনের কৌশল হিসেবে আমরা একাধিক প্রার্থী দিয়েছি। সঠিক সময়ে আমরা সঠিক প্রার্থী বেছে নেব।’
এদিকে এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল জোটের সমন্বয়ক ও ইতিহাস বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক এ টি এম আতিকুর রহমান বলেন, ‘নানান অন্তর্দ্বন্দ্ব ও গ্রুপিংয়ের কারণে তারা একাধিক প্রার্থী দিয়েছে। আমাদের তো ওই ধরনের কোনো গ্রুপিং নেই। সে কারণে আমরা আমাদের প্রার্থী আগে থেকেই চূড়ান্ত করতে পেরেছি।’