ঢাকাWednesday , 20 April 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

উদ্বোধনের অপেক্ষায় জাবির বিজ্ঞান গবেষণাগার

Link Copied!

ju-scienceজাবি প্রতিনিধি : বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় নতুন মাত্রা তৈরি ও বাংলাদেশের বিজ্ঞান গবেষণা কার্যক্রমকে আরো একধাপ এগিয়ে নেয়ার লক্ষ্যে প্রায় ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম বিজ্ঞান গবেষণাগার ‘ওয়াজেদ মিয়া বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্রের’ নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হল। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) নির্মিত এ গবেষণাগারটি এখন উদ্বোধনের অপেক্ষায়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০০৯ সালে এ গবেষণাগারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম ডা. ওয়াজেদ মিয়ার স্মৃতি ও অবদানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এর নাম করণ করা হয়েছে ‘ওয়াজেদ মিয়া বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্র’।
৬তলা বিশিষ্ট এ বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্রের ২য় তলা থেকে ৫ম তলা পর্যন্ত ল্যাব রুম হিসেবে ব্যবহৃত হবে। ছয় তলায় থাকছে ১২০ সিট বিশিষ্ট বিশাল কনফারেনস রুম। আর প্রথম তলা ব্যবহৃত হবে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য।
ইতোমধ্যে প্রায় ১০ কোটি টাকার যন্ত্রাংশ ক্রয় করা হয়েছে। গবেষণার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও গবেষণাগার পরিচালনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন শিক্ষককে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইন্স ভিত্তিক সকল অনুষদ ও বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাসহ প্রত্নতত্ত্ব, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের শিক্ষার্থীরাও এখানে গবেষণা করতে পারবে। এ বিজ্ঞান গবেষণাগার পরিচালনার জন্য প্রতি বছর প্রায় ২৭ লক্ষ টাকা খরচ হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ওয়াজেদ মিয়া বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্রের সহকারী যন্ত্র প্রকৌশলী নিখিল চন্দ্র ভৌমিক জানান, গবেষণার জন্য ইতোমধ্যে দেশি-বিদেশি দুর্লভ ও ব্যয়বহুল যন্ত্রাংশ ক্রয় করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, অ্যাটোমিক অ্যাবজর্পশন স্পিক্টরোফটোমিটার: এএ ৭০০০-শিমাদজু কর্পোরেশ জাপান; হাই পারফরমেন্স লিকুইড ক্রোমাটোগ্রাফি সিস্টেম (এইচপিএলসি)-শিমাদজু কর্পোরেশ জাপান; এফটিআইআর স্পিক্টরোফটোমিটার: আইআর প্রেস্টিজ ২১-শিমাদজু কর্পোরেশ জাপান; ইউভি-ভিজিবল: স্পিকোর্ড ২০৫-জার্মানি; আল্ট্রাসনিক বাথ: মডেল সনোরেক্স-ডিকে ডিজিটাল ৫১২পি; আল্ট্রাল টেম্পারেচার ফ্রিজার: বাইন্ডার জার্মানি-মডেল ইউএফ ভি ৭০০; ইলিমেন্টাল এ্যানালাইজার: ইলিমেন্টার-জার্মানি মডেল ভারিও ইএল কিউব; অ্যাডভান্স রিসার্স মাইক্রোস্কোপ: অলিম্পাস জাপান-মডেল বিএক্স৪+ডিপি৭২; টেরিনোকোলার স্টেরিও জুম মাইক্রোস্কোপ: মাইক্রো অস্টিয়া মডেল-‘ভিআইপিইআর’ এমজেড ৩০০০; রিফ্রিজারেটেড আল্ট্রাসেন্ট্রিফিউজ: হিট্রিকস্- জার্মানি মডেল রোটিনা ৪৪২আর; পিসি বেজড অটোমেটেড ইলেক্ট্রমিক্যাল ওয়ার্কস্টেশন: ইউএসএ-বেস ইপিসিলন এবং কমপ্লিট ইমারশন ওয়েল ফোটোমিক্যাল রি অ্যাক্টর: ইউকে-রায়োনেট আরপি আর-২০০।
এছাড়াও শেকিং ইনকিউবেটর, ওভেন, আল্ট্রাপুর ওয়াটার চেম্বার-টারমা, পারসিশন বেলেন্স-টলিডো, পিএইচ মেটার-হানা-এইচআই ২২১১ ক্রয় করা হয়েছে।
প্রাণ রসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের ৪২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী রায়হান আহমেদ বলেন, ‘এ বিজ্ঞান গবেষণাগার বাংলাদেশের জন্য একটি মাইলফলক তৈরি করেছে। বিজ্ঞানমনস্ক শিক্ষার্থী জন্য এটা বিশাল সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। যার মধ্য দিয়ে তারা দেশ ও জাতিকে বিশ্ব দরবারে পৌঁছে দিতে পারবে।’
এ বিষয়ে ওয়াজেদ মিয়া বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক অধ্যাপক মো. খবির উদ্দিন বলেন, ‘এ বিজ্ঞান গবেষণাগার বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। আমি মনে করি, এই বিজ্ঞান গবেষণাগারের গবেষকরা তাদের গবেষণা কর্মের মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি প্রযুক্তিশীল দেশ হিসেবে গড়ে তুলবে। এখানে শুধু দেশি গবেষকরাই নন, বিদেশি গবেষকরাও তাদের গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন।’ খুব শিগগিরই এই গবেষণা কেন্দ্রটি উদ্বোধন করা হবে বলে তিনি জানান।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে জাবি উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম বলেন, ‘এই বিজ্ঞান গবেষণাগার শুধু জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য বিজ্ঞান গবেষণার ক্ষেত্রে অবাধ সুযোগ তৈরি করলো তা নয়, সারা দেশের সকল বিজ্ঞানমুখি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য বিজ্ঞান গবেষণার দ্বার উন্মুক্ত করলো।’