আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মিয়ানমার প্রেসিডেন্ট থিন কিয়াও নতুন বছর উদযাপন উপলক্ষে দেশের ৮৩ জন রাজনৈতিক বন্দিকে সাধারণ ক্ষমার আওতায় মুক্তি দিয়েছেন। রোববার তিনি এ সংক্রান্ত একটি আদেশে স্বাক্ষর করেছেন বলে রয়টার্স জানিয়েছে।
রোববার সকালে ফেসবুকে পোস্ট করা প্রেসিডেন্টের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের নববর্ষে ৮৩ কয়েদি সাধারণ ক্ষমায় মুক্তি পাবে। নতুন বছরে জনগণকে খুশি করতে ও প্রশান্তি দিতেই এ ক্ষমা ঘোষণা করা হয়েছে। রোববার তাদের মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।
নববর্ষ উপলক্ষে টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে প্রেসিডেন্ট থিন কিয়াউ রাজবন্দিদের মুক্তি দিতে তার সরকারের অঙ্গীকারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি নিজেও সামরিক শাসনামলে নিয়মিত জেল খেটেছেন। ক্ষমতা গ্রহণের পর জনগণের উদ্দেশে প্রথমবারের মত দেয়া ভাষণে প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, ‘আমরা রাজবন্দি, রাজনৈতিক কর্মী ও রাজনৈতিক কারণে যেসব শিক্ষার্থী বিচারের মুখোমুখি রয়েছেন তাদের মুক্তি দেয়ার চেষ্টা করছি।’
এর আগে দেশটির গণতান্ত্রিক নেত্রী অং সান সু কি চলতি মাসের শুরুতে এক বিবৃতিতে বিবেকের তাড়নায় তার প্রশাসনের অগ্রাধিকার হিসেবে কয়েদিদের মুক্তি দেয়ার অঙ্গীকার করেন। তিনি নিজেও ১৫ বছর গৃহবন্দি ছিলেন। সু কি’র দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) ক্ষমতায় আসার পর কর্তৃপক্ষ প্রায় ২শ’ রাজনৈতিক কর্মীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছে। এদের মধ্যে শিক্ষা সংক্রান্ত একটি বিক্ষোভে অংশ নেয়ার কারণে গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে জেলে থাকা বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীও রয়েছেন।
সু কি’র দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসি দেশটিতে প্রায় অর্ধ-শতাব্দীর সেনা শাসনের অবসান ঘটিয়েছে। গত মার্চে দেশটিতে ক্ষমতার ঐতিহাসিক পালাবদল ঘটে। সু কি’র এনএলডি পার্টিতে এমন অনেক নেতা-কর্মী রয়েছেন যারা সেনা শাসন চলাকালে রাজবন্দি ছিলেন।

